ট্রাম্প কার্ড?
না কি গোটা বিশ্বকে তিনি আরও একবার তাঁর ৫৬ ইঞ্চির ছাতির জোর দেখালেন।
পালাম এয়ারবেসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে মোদি যেভাবে জড়িয়ে ধরলেন, সেটা দেখে বলা যায় তিনি একদিকে ট্রাম্প কার্ড খেলে দিলেন। পাশাপাশি এটাও দেখিয়ে দিলেন তাঁর ছাতি সত্যি ৫৬ ইঞ্চি লম্বা। শক্তিধর আমেরিকা এবং তাঁর মিত্রদেশকে দিলেন একটাই বার্তা – আজকের ভারত আত্মনির্ভর ভারত। কোনও দেশ যদি ভারতের চোখে চোখ রেখে কথা বলে, তাহলে ভারতও সেই দেশের চোখে চোখ রেখে কথা বলার হিম্মত রাখে। কূটনৈতিক মহলে পুতিন- মোদির এই আলিঙ্গন শুধুমাত্র হাগলোমেসি নয়। এটা একটা কূটনৈতিক বার্তা। বার্তাটি হল, রাশিয়া ভারতের বন্ধু ছিল, আছে এবং থাকবে। ডিপস্টেটের শর্তে ভারত আগামীদিনে চলবে না। অতীতেও চলেনি। ভবিষ্যতেও চলবে না। এই প্রসঙ্গে মিসেস গান্ধির জীবনের একটি ঘটনার উল্লেখ করতে হয়।
সালটা ১৯৭১। স্থান হোয়াইট হাউজ। আমেরিকার মসনদে রিচার্ড নিক্সন। মিসেস গান্ধিকে তিনি বলেছিলেন, ‘ভারত যদি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলানো বন্ধ না করে তাহলে আমেরিকা চুপ করে বসে থাকতে পারে না। ভারতকে শিক্ষা দিতে বাধ্য হবে।’ রিচার্ড নিক্সনের চোখে চোখ রেখে মিসেস গান্ধির জবাব ছিল, ‘আমেরিকাকে ভারত বন্ধু মনে করে, বস্ নয়। ভারত তাঁর ভাগ্য নিজেই লিখতে জানে। আমরা জানি কী, কীভাবে জবাব দিতে হয়।’ যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন বয়কট করে হোয়াইট হাউজ ছেড়ে গটগট করে বেরিয়ে এসেছিলেন মিসেস গান্ধি। আর তাঁর পিছনে ছুটতে ছুটতে আসে হেনরি কিসিঞ্জার। গাড়িতে ওঠার সময় কিসিঞ্জার মিসেস গান্ধিকে বলেছিলেন, ‘ম্যাডাম প্রাইম মিনিস্টার!! প্রেসিডেন্ট স্যারের প্রতি আর একটু ধৈর্য্য দেখালে বোধহয় ভালো করতেন।’ মিসেস গান্ধির তার উত্তরে বলেছিলেন – ‘থ্যাঙ্ক ইউ মিস্টার সেক্রেটারি ফর ইওর ভ্যালুয়েবল সাজেশন। বিইং এ ডেভেলপিং কান্টি উই হ্যাভ ব্যাকবোন। এনাফ টু ফাই দ্য অ্যাট্রোসিটিস। উই শ্যাল প্রুভ দ্যাট ডেজ আর গন টু রুল এনি নেশন ফার ফ্রম থাউজেন্ডস অফ মাইলস। ’ তথ্য সূত্র তৎকালীন মার্কিন এশিয়া বিষয়ক সচিব হেনরি কিসিঞ্জারের আত্মজীবনী। এর পরের ইতিহাস আমাদের সকলের জানা।
বৃহস্পতিবার পালাম বিমানবন্দরের রানওয়েতে ইন্দিরার সেই অমোঘ ঘোষণার প্রতিধ্বনি শোনা গেল যেন আরও একবার – উই শ্যাল প্রুভ দ্যাট ডেজ আর গন টু রুল এনি নেশন ফার ফ্রম থাউজেন্ডস অফ মাইলস।
বিগত সময়ে আমেরিকা কতবার ভারতকে লাল চোখ দেখিয়েছে। চড়া হারে শুল্ক চাপিয়েছে। এটাও তো বিশ্ব জেনে গিয়েছে, যে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে খুন করে ভারতকে অস্থির করে তোলার একটা একটা নীল নকশাও তৈরি করা হয়েছিল। সেটাও বানচাল হয়ে গিয়েছে। আর তা হয়েছে রুশ গুপ্তচর সংস্থা কেজিবির জন্য। সুতরা, যে রাষ্ট্র ভারতের বন্ধু, যে রাষ্ট্রের জন্য মোদি প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন, সেই রাষ্ট্রের শীর্ষকর্তাকে তিনি কীভাবে অভ্যর্থনা জানাবেন, সে দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা দুনিয়া। ফ্লাইট ট্র্যাকার টুয়েন্টি ফোর বলছে – মস্কো থেকে দিল্লি পর্যন্ত রেকর্ড সংখ্যক মানুষ পুতিনের বিমানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন। ৩০ ঘণ্টার সফরে ভারতে এসেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তাঁর এই সফর আন্তর্জাতিকমহলের নজরে রয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post