ভারত সফরে এসেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে পালাম এয়ারবেসে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রুশ প্রেসিডেন্ট বিমান থেকে নামতেই তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। রুশ প্রেসিডেন্টের জন্য বরাদ্দ ছিল বিশেষ গাড়ি অরাস সেনাত। সেই গাড়িতে না উঠে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি গাড়িতে চেপে লোককল্যাণ মার্গে পৌঁছান। আজ শুক্রবার সফরের শেষদিন। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সফরের শেষ দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার। আধঘণ্টার জন্য তিনি দেখা করবেন হাসিনার সঙ্গে। হাসিনার সঙ্গে দেখা করে সেখান থেকে রুশ প্রেসিডেন্ট সরাসরি চলে যাবে পালাম এয়ারবেস। সেখানে তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির আরও একবার সাক্ষাৎ হওয়ার কথা আছে। রাত নয়টা তিনি ভারতের মাটি ছাড়বেন।
বাংলাদেশ সম্পর্কে এদিন আরও একটি খবর পাওয়া গিয়েছে। সেই খবর হল, পাকিস্তান আর তুরস্ককে দিয়ে বাংলাদেশে একটা খেলা খেলছে চিন। বাংলাদেশের একটি স্বার্থাণ্বেষি গোষ্ঠীর হাতে চলে গিয়েছে অস্ত্র এবং অর্থ। কোথায় কোথায় সেই সব অস্ত্র রাখা আছে, তা জেনে গিয়েছে কেজিবি। তারা সেই তথ্য ভারতের গুপ্তচর সংস্থা র-য়ের হাতে তুলে দিয়েছে। র-য়ের তরফেও পৃথকভাবে বাংলাদেশজুড়ে এই ব্যাপারে জরিপ করা হয়েছিল। তাদের জরিপেও একই তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ বিভিন্ন জিহাদি গোষ্ঠী রীতিমতো সক্রিয়। র এবং কেজিবির রিপোর্ট অনুসারে, সেই সব অস্ত্র এই সব জিহাদি সংগঠনের সদস্যদের হাতে চলে গিয়েছে। তারা বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ সংগঠিত করতে উঠেপড়ে লেগেছে। তারা যে কোনও উপায়ে ভারত ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে চাইছে। এই সব জিহাদি গোষ্ঠীর সদস্যদের অর্থ দিয়ে সাহায্য করছে চিন। যদিও চিনের সেই সাপ্লাই লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে।
এই প্রতিবেদন যখন পাঠ করা হচ্ছে, সেই সময় দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক। এখানেই এস ফোর হান্ড্রেড এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম থেকে ফিফথ জেনারেশনের যুদ্ধবিমান নিয়ে একাধিক চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনায় আমেরিকা যখন ভারতের উপরে ৫০ শতাংশ ট্যারিফ চাপিয়েছে, ঠিক সেই সময়ে পুতিনের এই সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রেখেও রাশিয়ার সঙ্গে ‘পুরনো বন্ধুত্ব’ আরও মজবুত করাই এখন মোদীর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এবারের সফর ৩০ ঘণ্টার। পুতিনের উপস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক স্তরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে। রাশিয়া থেকে এস ফোর হান্ড্রেড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নততর সংস্করণ এস ফাইভ হান্ড্রেড কেনা। সরকারি সূত্রে আরও একটি খবর পাওয়া গিয়েছে। সেই খবর অনুসারে, মস্কোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পন্টসায় এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম অর্থাৎ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে। পাশাপাশি পুতিনের প্রস্তাব মেনে যৌথ উদ্যোগে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান সুখোই এসইইউ – ৫৭ (ফেলন) তৈরির বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনার সম্ভবনা রয়েছে। মোদি সরকারের লক্ষ্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতিতে কিছুটা ভারসাম্য আনা। রাশিয়া থেকে ভারত বিপুল পরিমাণ তেল এবং সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করলেও পুতিনের দেশে রফতানি করা ভারতীয় পণ্যের মূল্য তুলনায় অনেক কম। ভারত থেকে রাশিয়া বছরে ৫০০ কোটি ডলারেরও (প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা) কম মূল্যের পণ্য আমদানি করে। তাই নয়াদিল্লির লক্ষ্য মস্কোয় সমুদ্রজাত পণ্য, আলু, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধের মতো দ্রব্যের রফতানি বাড়ানো। তবে এসবের থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে হাসিনার সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্টের বৈঠক।












Discussion about this post