শুরুতেই হোঁচট।
উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে চেপে বেগমের যাওয়ার কথা ছিল পদ্মা পেরিয়ে সোজা টেমসের পারে। কিন্তু কাতার থেকে যে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স আসার কথা ছিল সেটা শুক্রবারও বাংলাদেশে পৌঁছয়নি। পৌঁছাবে শনিবার। পরের দিন রবিবার ওই অ্যাম্বুল্যান্সে চেপে বেগম লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। শুক্রবার বেগমের পরিবর্তিত সফর সূচির কথা জানিয়েছেন দলের প্রবীণ নেতা তথা সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর। এদিন তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের বলেন, ‘সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে, মানে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে শনিবার বাংলাদেশে আসার কথা। সেই বিশেষ বিমান শনিবার পৌঁছলে এবং ম্যাডামের স্বাস্থ্য যদি সাথ দেয় এবং তাঁর জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড যদি বেগমকে লন্ডনে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার জন্য অনুমতি দেয়, তাহলে রবিবার ৬ ডিসেম্বর বেগম লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা করবেন। ’বেগমের জন্য কাতার থেকে বিশেষ বিমানটি পাঠিয়েছেন সে দেশের আমির শেখ তামমি বিন হামাদা আল থানি। বিমানটির আসার কথা ছিল বৃহস্পতিবার ৪ নভেম্বর। কিন্তু টেকনিক্যাল কারণে ওই বিশেষ বিমান বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি। শনিবার বিমানটির বাংলাদেশে অবতরণের কথা রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত এক সপ্তাহ ধরে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা চলছে। তবে এই চিকিৎসা আরও উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে বলে দল মনে করছে। একই মত পুত্র তারেক এবং তাঁর স্ত্রী জুবেইদা রহমান। তিনি নিজেও একজন ডাক্তার। দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়ার সুস্থতায় দোয়া চেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।লন্ডনে জিয়ার সঙ্গে যাবেন ১৪ জন। তার একটা তালিকা দলের তরফ থেকে তৈরি করা হয়ে গিয়েছে। জিয়ার সঙ্গে যাবেন ছোট ছেলের আরাফত রহমানের স্ত্রী সাইদা শামিলা রহমান, বাংলাদেশের ছয়জন বিশিষ্ট চিকিৎসক, জিয়ার পরামর্শদাতা ইনামুল হক চৌধুরী, স্পেশ্যাল সিকিউরিটি ফোর্সের দুইজন। সরকারের তরফ থেকে জিয়ার জন্য এই দুইজনকে নিয়োগ করা হয়েছে।
বেশ কিছুদিন ধরে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা নিয়ে বাংলাদেশের এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বিএনপি দলনেত্রী। মাকে দেখতে তারেকের বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। শোনা যাচ্ছে মাকে দেখার জন্য দেশে ফেরার ব্যাপারে বেশ দোলাচলে রয়েছেন তারেক। সেনার থেকে তিনি নিরাপত্তা না পাওয়ার আশা করছেন। এমনও আশঙ্কা তাঁর মনে এখন দেখা দিয়েছে বিমানবন্দরে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনী তাঁকে গ্রেফতার করে তাদের জিম্মায় নিয়ে যেতে পারে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার খালেদা জিয়াকে ছয় বছর কারারুদ্ধ করে রেখেছিল জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,তিনি বলেন, এর মধ্যে দুই বছর তাঁকে নির্জন, পুরোনো কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। সবাই সন্দেহ করেন, সেখান থেকেই তাঁর রোগের সূচনা হয়। চিকিৎসার অভাবে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। করোনার সময় থেকে গত চার বছর তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। এরপর তিনি সুস্থ হলেও কিছুদিন আগে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এদিন বাংলাদেশের প্রতিটি মসজিদে জুম্মার নমাজের পর জিয়ার জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।












Discussion about this post