তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস জানিয়ে দিয়েছেন ফেব্রুয়ারিতে ভোট হচ্ছেই। ভোটের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। ইউনূস সরকারের তরফ থেকে রীতিমতো ঢাকঢোল পেটানো শুরু হয়েছে। আর তাঁর কচি সংসদের সদস্যরা খোল করতাল নিয়ে উদ্বাহু তুলে নাচানাচি শুরু করে দিয়েছেন। তারা জোর গলায় বলছেন আল্লাহ ছাড়া কোনও শক্তি নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না। তবে আওয়ামী লীগ বাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফ থেকে এই নির্বাচন নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে দুটি শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই শব্দদুটি হল ‘অনিবার্য কারণ বশত’ আর ‘বিশেষ কোনও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছাড়া’। প্রশ্ন হল, এই দুটি শব্দ ঘুরে ফিরে আসছে?। আসলে নির্বাচন না হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। অথবা মহম্মদ ইউনূস নির্বাচন আয়োজন করতে পারবেন না। সেই ধারণা কিন্তু প্রকট হচ্ছে।
বিএনপির কথাই ধরা যাক। আওয়ামী লীগের পর বাংলাদেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল তারা। দলের তরফ থেকে বলা হচ্ছে ‘দেশে অনিবার্য কোনও পরিস্থিতি তৈরি হল নির্বাচন বিলম্বিত হোক, সেটা দল চায় না।’ এই প্রসঙ্গে এনসিপির কথাও তুলে ধরা যেতে পারে। বুধবার দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরুদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠক করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন এই দুই নেতা। এক প্রশ্নের উত্তরে নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। তদারকি সরকারের উচিত সেই অস্থিরতা অবসানের পর তফসিল ঘোষণা করা। নেত্রী অসুস্থ। ফলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংকটময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ’ দল নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী কি না, সে প্রশ্ন করা হলে বিএনপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‘না, আমরা তফশিল পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী নই। আমরা কেন তফশিল পিছিয়ে দিতে চাইব? আমাদের বক্তব্য তদারকি সরকার উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করুক। ’
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে দল মনে করছে কি না, এই প্রশ্ন করা হলে পাটোয়ারি বলেন, ‘প্রবাসী ভোটারদের জন্য ব্যালট পাঠানো আবার সেই ব্যালট নিয়ে আসার প্রক্রিয়াটি ব্যসাপেক্ষ বলে সরকার দ্রুত তফসিল ঘোষণা করতে চাইছে। তবে এ ক্ষেত্রে এনসিপি রাজনৈতিক সংকটকে বিবেচনায় রাখার কথা বলছে। ’ বিএনপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‘আমরা সব কটি রাজনৈতিক দল কিন্তু পলিটিক্যাল পার্টি কিন্তু এ বিষয়ে অ্যাগ্রিড। এটা নিয়ে কোনও সংকট নেই। আমরা আশা করি দেশ ফেব্রুয়ারিতে একটি সুষ্ঠ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। ’ জিয়ার অসুস্থতা বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কোনও প্রভাব ফেলবে কি না, সে প্রশ্ন করা হলে পাটোয়ারি বলেন, ‘না, এর কোনও প্রভাব ভোটে পড়বে না। … আমরা মনে করি যে বাংলাদেশে জিয়া দীর্ঘ সময় লড়াই করেছেন। গণতন্ত্রের এই জায়গাটায় সরকারও সম্মান প্রদর্শন করেছে। আমরাও সমান সম্মান প্রদর্শন করেছি। জিয়ার প্রতি সবার আবেগ ও অনুভতি রয়েছে। ’
বিএনপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ তদারকি সরকারের এই বিষয়ে সজাগ থাকা প্রয়োজন যাতে তফসিল ঘোষণার সময় দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। সব দল যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, সেটাও সরকারের নিশ্চিত করা দরকার। ’ তিনি আরও বলেন, তফসিল দেওয়ার সময়টাতে রাজনৈতিক পরিবেশ বিবেচনায় রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে। সেটা রেখে যেকোনো তদারকি সরকার তফসিল ঘোষণা করতে পারে।
নাহিদের বাইট
https://www.youtube.com/watch?v=-ZFka0SvQuM
TC 0.08 – 0.16
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রাক্তন অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া। বৈঠকের পর তাঁরা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন। এক প্রশ্নের উত্তরে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছি। অনিবার্য কোনও কারণ ছাড়া আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে যেতে চাই না। ’












Discussion about this post