ভারত রাশিয়াj এত কাছাকাছি আসাটা না পসন্দ ইউরোপীয় দেশগুলির। কিন্তু ভূ-রাজনীতির খেলায় ভারত এখন চালকের ভূমিকা নিতে চায়, তাই যে কোন দেশের যে কোন প্রশ্নের জবাবে ছক্কা হাঁকাতে তৈরী ভারত। তবে সবার আগে ভারত বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনাটা সেরে ফেলা যাক। ভারত বুঝতে পারছে আমেরিকা বাংলাদেশকে হাতিয়ার করে একদিকে এশিয়াতে তাদের ঘাঁটি তৈরী করতে চাইছে, আবার ভারতের বিরুদ্ধে চাপ তৈরীর খেলাটিও চালিয়ে যেতে চাইছে। দেশটি যেহেতু বাংলাদেশ, যাকে স্বাধীনতার স্বাদ দিয়েছে ভারত, যার অবস্থান ভারতের পেটের ভিতর, যে দেশের অর্ধেকের বেশী মানুষ ভারতের প্রতি আলাদা সম্মান প্রদশন করে, তাই তার বিরুদ্ধে কোন সামরিক অভিযান আগ বাড়িয়ে করতে পারছে না ভারত, আবার চুপ করেও থাকতে পারছে না। তাহলে ভারতের অভ্যন্তরীন বিপদ অবশ্যাম্ভাবী। তাই খলিলুর ডোভাল মিটিং,সেটা কখনও ভারতে, আবার কখনও দোহাতে। আর সব জায়গাতে আমেরিকার আধিকারিকরা। তারা ভারতের সুরে সুর মিলালেও, কোথাও গিয়ে ইউনূসকে ছাড় দিয়ে চলেছে। এবার ভারত প্রস্তুত হচ্ছে যে কোন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে। তাই বাংলাদেশকে সব দিক দিয়ে ঘিরে ফেলেছে ভারত। এমনকি ভারতের নৌবাহীনিও বাংলাদেশের খুব কাছে, যে কোন সময় শুরু হবে খেলা। আর আমেরিকা ভারতকে বাঁধা দেওয়ার মত অবস্থায় নেই, তাদেরও হয়তো ভারতকেই সমর্থন করতে হবে। কারণ সংখ্যাটা ১৪০ থেকে ১৫০ কোটির আশাপাশে, না না এটা কোন টাকার অঙ্ক নয়। এটা হল ভারতের জনসংখ্যার হিসাব।
একদিকে আর্থিক দিক থেকে তৃতীয় স্থান ছুঁতে যাচ্ছে ভারত, অন্য দিকে এই ১৪৫ কোটি মানুষের বিশাল বাজার। যাকে উপেক্ষা করার মত সাহস, কোন চীন আমেরিকার মত প্রথম সারির দেশের নেই। তার উপর আবার পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন নতুন শত্রু দেশের উদ্ভব হচ্ছে ভারতের। তার মানে ভারতকে আরো বিনিয়োগ বাড়াতে হবে সামরিক ক্ষেত্রে এবং ভারত করছেও তাই। এই মহুর্তে অস্ত্র তৈরী করে এমন কোন দেশ নেই, যার কাছ থেকে ভারত অস্ত্র কিনছে না। জার্মানি থেকে সাবমেরিন, ফ্রান্স থেকে রাফেল আর আমেরিকার সঙ্গেও খুব সম্প্রতি হয়ে গেল দশ বছরের জন্য সামরিক চুক্তি। ক্রিকেটে ভারতের বদনাম তো আছেই, যে ভারতের বাজার বড়, ভারতে ক্রিকেট অনেক জনপ্রিয়, তাই বিশ্ব ক্রিকেটকে ব-কলমে বরাবর নিয়ন্ত্রন করে আসছে ভারত। এবার ভূ-রাজনীতিকেও সেই বাজারের জোরেই ব-কলমে নিয়ন্ত্রন করার সাহস দেখাচ্ছে ভারত। যেখাবে বিশ্বের বহু দেশ আমেরিকার ট্র্যারিফের আতঙ্কে ধীরে চলার নীতি নিয়ে, আমেরিাকার সঙ্গে এগোচ্ছে। সেখানে ভারত ডোন্ট কেয়ার নীতি নিয়ে চলছে। কখনও তো আমেরিকার কোন বক্তব্যের জবাব না দিয়ে চুপ থেকেও আমেরিকাকে চাপে ফেলে দিচ্ছে। সেই বাইডেনের সময় থেকেই আমেরিকা পিছন থেকে চেষ্টা করে এসেছে ভারতকে দমিয়ে রাখার। অথবা নিজেদের পছন্দের লোককে ক্ষমতায় আনার, যারা আমেরিকার ডিপ স্ট্রেটের কথায় ওঠা বসা করবে। কিন্তু সেটি না হওয়ায় ভারতের আশে পাশের দেশগুলি এমনকি ভারতের বেশ কিছু রাজ্যেও তারা অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোন কিছুতেই ভারতকে তাদের বশে আনতে ব্যর্থ তারা। ভারতও বুঝে গেছে আমেরিকার ক্ষমতায় যেই থাকুক, তাকে ডিপস্ট্রেরর স্বার্থ দেখে চলতে হয়। ফলে দল এবং ক্ষমতা বদল হলেও, বদল হয়না বিদেশ নীতির। তাই ভারত তার সব থেকে বিশ্বস্ত বন্ধুকেই বেছে নিয়েছে সব প্রশ্নের জবাবে ছক্কা মেরে উত্তর দিতে। এতদিন ট্রাম্প বলে আসছিল তার ট্যারিফের ভয়ে ভারত রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের উত্তাপ কমিয়ে আনছে।
এমনকি পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধও থামিয়ে দিয়েছে।ভারত না না ভাবে আমেরিকার দাবীকে অস্থিকার করলেও, ট্রাম তা মানতে চায়নি। এমনকি ভারতকে চাপে রাখতে মুনির আর সাহবাজ শরিফকে হোয়াইট হাউসে ডেকে খাতির যত্নও করেছে। কিন্তু ভারত যে আর ধীরে চল নীতিতে চলছে না, ভারত এখন টি-টোয়েন্টির মুডে সব কিছুর জবাবে ছক্কা মারতে চাইছে, তা বুঝিয়ে দিয়েছে পুতিনকে দিল্লীতে আমন্ত্রন করে। যেখানে আন্তর্জাতিক কোর্টে পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, সেখানে ভারত তার দেশে পুতিন কে ডেকে, ভারতের অবস্থান এবং নীতি সব বুঝিয়ে দিল বিশ্বকে। সুযোগ পেয়ে পুতিনও ট্রাম্পকে দোগলা বলতে ছাড়েন নি।
তিনি বলেছেন আমেরিকা তার উর্জার জন্য রাশিয়া থেকে পারমানবিক ফুয়েল কিনছে, তাতে কোন দোষ নেই, অথচ ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনলে, ট্রাম্প ট্যারিফের ভয় দেখায়। রাশিয়া ভারতের জন্য তার ভান্ডার খুলে দিতে ব্যস্ত। এখন শুধু ভারতের হ্যাঁ বলার অপেক্ষা। রাশিয়া ভারতকে এমন এমন অস্ত্র সম্ভার দিতে প্রস্তুত, যা না কোন অন্য দেশকে দিয়েছে, আর না দেবে। এমনকি রাশিয়া ভারতের সঙ্গে এমন চুক্তিও করতে চায়, যা শুধু মাত্র চীনের সঙ্গে আছে, এবং চীন সেই চুক্তির ফায়দা নিয়ে রাশিয়র জমিকে নিজেদের বলে দাবী করার সাহস দেখাচ্ছে। এখন রাশিয়া চাইছে চীনের ক্ষপ্পর থেকে বাঁচতে ভারতের সঙ্গে সেই চুক্তি করতে, যেখানে দুই দেশ একে অপরকে কোন শর্ত এবং বাউন্ডারি ছাড়াই সব বিষয়ে সার্পোট করে যাবে। মোদি পুতিন এই ত্রিশ ঘন্টা যদি টি-টোয়েন্টির মত চালিয়ে খেলে যায়, তাহলে বিশ্বের তাবড় তাবড় দেশ গুলোর চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। আর সেই সঙ্গে বদলে যাবে ভূ-রাজনীতির অনেক সমীকরণ।












Discussion about this post