শেখ হাসিনার আমলে বরখাস্ত হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীর কথা আপনাদের মনে আছে? যাকে নিয়ে গত বছর হাসিনার পতনের পরপরই কার্যত তোলপাড় হয়েছিল বাংলাদেশ। যিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত গোলাম আজমের ছেলে। ২০১৬ সালের ২৩শে অগাস্ট নিখোঁজ হন বাংলাদেশের সাবেক এই সেনাকর্তা। তারপর তাঁর আশ্চর্যজনক নিষ্কৃমন হাসিনার পতনের পরেই। দাবি করেছিলেন হাসিনা তাঁকে গুম করে আয়নাঘরে রেখেছিলেন। সেখান থেকে বেরিয়েই হুঙ্কার দিয়েছিলেন জামাতপন্থী ওই প্রাক্তন সেনাকর্তা। সেবার তিনি ‘আমি গেল আট বছর বন্দী থাকা অবস্থায় পৃথিবীর কোনো আলো দেখিনি। প্রতি রাতেই ক্রসফায়ারের ভয় থাকত। তারা খুব দুর্ব্যবহার করত আমার সঙ্গে।’ এবার সেই আযমী আবার বোমা ফাটালেন। এবার তাঁর আক্রমণের অভিমুখ ভারত। মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তাঁর দাবি, ভারত যতদিন টুকরা টুকরা না হয়ে যাবে, কেয়ামত পর্যন্ত তারা বাংলাদেশকে শান্তিতে থাকতে দিবে না।
অন্যদিকে ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা ৭টি রাষ্ট্র তৈরি করার ঘোষণা দিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আবদুল হক। তিনি এও বলেন, এটা আমি গোপনে বলছি না, প্রকাশ্যেই দাবি করছি।
বাংলাদেশের এক শ্রেণির অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা আছেন, যারা মূলত জামাতপন্থী হিসেবে পরিচিত। শেখ হাসিনার পতন এবং আওয়ামী লীগের সরকার চলে যাওয়ার পর তাঁরা সামনের সারিতে চলে এসেছেন। গত বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাস থেকেই বাংলাদেশের একাধিক প্রাক্তন সেনাকর্তা ভারতবিরোধী নানা মন্তব্য করে চলেছেন। কেউ ৪ ঘণ্টায় কলকাতা দখল করার দাবি করেছিলেন, কেউ আবার ভারতের বিরুদ্ধে এখনই যুদ্ধ ঘোষণার দাবি জানিয়েছিলেন। এবার তাঁদের কথার সুর কিছুটা বদলেছে। তাঁদের বক্তব্য, আমরা প্রতিবেশী পরিবর্তন করতে পারবো না ঠিকই, তবে নতুন প্রতিবেশী তৈরি করতে পারি। ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, এটা অনেকটা ছেঁড়া কাথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখার মতো। যদিও বিষয়টি এতটা হালকাভাবে নেওয়া উচিৎ হবে না। কারণ, বাংলাদেশে প্রাক্তন সেনাকর্তাদের একটা বড় প্রভাব রয়েছে। তাঁরা যথন ভারতের সেভেন সিস্টার্স, শিলিগুড়ি করিডোর, কলকাতা দখলের কথা বলছেন তখন বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও বেশ কয়েকবার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য বা সেভেন সিস্টার্স নিয়ে বিতর্কিত কথা বলেছিলেন। এবার এককাঠি সুর চড়িয়ে প্রাক্তন সেনাকর্তারা সেভেন সিস্টার্সকে বিচ্ছিন্ন করা বা সাতটি আলাদা টুকরো করার কথা বলছেন। এর অর্থ, সেভেন সিস্টার্সকে অশান্ত করার একটা চক্রান্ত চলছে বাংলাদেশে। আর তাতে মদত দিচ্ছে পাকিস্তান। এই জামাতপন্থী অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তারা অধিকাংশই জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বে রয়েছেন। পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈবা, জৈইস-এ-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠন, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গেই তাঁদের ওঠবোস। তাঁরা সেই কারণেই হুমকি দিয়ে চলেছেন।
যদিও ভারত, এই সমস্ত সেনাকর্তাদের বক্তব্যের কোনও জবাব দিচ্ছে না। তবে গোয়েন্দা রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত আরও নিরাপদ করার জন্য তৎপরতা শুরু করেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশ দাবি তুলছেন, বাংলাদেশকে এবার একটা উচিৎ শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোর সংলগ্ন এলাকায়। এখন দেখার ভারত বাংলাদেশের মধ্যে থাকা জঙ্গি লঞ্চপ্যাড এবং প্রশিক্ষণ শিবিরগুলি নিয়ে কি সিদ্ধান্ত নেয়।












Discussion about this post