বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা কেমন তা নিয়ে আজও ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। তিনি বেঁচে আছেন, নাকি গত হয়েছেন তা কেউ বলছে না। ফলে বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। শুক্রবার সকালেই খালেদা জিয়াকে লন্ডনে স্থানান্তরিত করার কথা ছিল। সেই মতো ছিল যাবতীয় প্রস্তুতি। কিন্তু তা হয়নি। সকাল ১০টায় বিএনপির মিডিয়া সেল তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়, কাতারের আমিরের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কারিগরি ত্রুটির কারণে না আসায় খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি কিছুটা পিছিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে এটাও জানানো হয়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন এবং তিনি সরাসরি হাসপাতালে যাবেন অসুস্থ শাশুড়িকে দেখতে। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কি বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ, তাঁকে কোনও ভাবেই হাসপাতাল থেকে বের করা সম্ভব নয়? যদিও এরমধ্যে কয়েকটি ঘটনা অনেকগুলি সন্দেহের অবকাশ তৈরি করছে। এগুলি বিবেচনা করেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী আদৌ বেঁচে আছেন কিনা, সেটাই এখন মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে গোটা বাংলাদেশে।
বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এবং জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পর আন্তর্জাতিক মহল থেকেও আসতে শুরু করে নানা বার্তা। বেশ কয়েকটি দেশ খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বার্তা দেয়। এরমধ্যে ভারতও ছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং এক্স হ্যন্ডলে পোস্ট করে লেখেন, “বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিষয়ে জেনে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বোধ করছি। দীর্ঘ অনেক বছর ধরে তিনি বাংলাদেশের জনজীবনে অবদান রেখেছেন। তাঁর দ্রুত আরোগ্যলাভের জন্য আমাদের আন্তরিক প্রার্থনায়ো শুভকামনা রইল। আমরা যেভাবে পারি, আমাদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সকল ধরণের সহায়তা প্রদানের জন্য ভারত প্রস্তুত”। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিক আবেদনের পর বিএনপির তরফে নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানানো হলেও আশ্চর্যজনকভাবে নিশ্চুপ ছিল মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসন। অথচ দেখা গেল বেগম খালেদা জিয়ার জন্য চিন থেকে এল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল। লন্ডন থেকে তারেক জিয়া পাঠালেন ব্রিটিশ চিকিৎসক দল। বাদ রইল ভারতীয় চিকিৎসকরা। কারণ, ভারতের আবেদনে সাড়া দেয়নি ঢাকা। মনে করিয়ে দি, মাস কয়েক আগে ঢাকায় একটি স্কুল ক্যাম্পাসে যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার পরই ভারত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিকাঠামো পাঠিয়েছিল। তখন কিন্তু ইউনূস সরকার ভারতকে বারণ করেনি। এবার খালেদা জিয়ার জন্য যা হল। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, ভারতীয় চিকিৎসক দল ঢাকায় পৌঁছলে কি বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার প্রকৃত অবস্থা সামনে চলে আসবে? এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বহু বিশ্লেষকই।
আরও একটি বিষয় উল্লেথ করা যেতে পারে। সেটা হল, বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে পৌঁছে যান বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। মজার বিষয় হল, আর কোনও দেশের রাষ্ট্রদূত কিন্তু ঢাকার ওই হাসপাতালে যাননি বেগম জিয়াকে দেখতে। তাহলে কেবলমাত্র ব্রিটিশ হাইকমিশনার কেন? বিশ্লেষকদের মতে, বেগম জিয়া বেঁচে আছেন কিনা সেটা যাচাই করতেই ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারহ কুক হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তিনি তাঁর রিপোর্ট ইতিমধ্যেই পাঠিয়ে দিয়েছেন লন্ডনে। যেখানে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল বেগম খালেদা জিয়াকে। অর্থাৎ, জীবিত অবস্থায়, আর তা হলে ঠিক কোন শারীরিক অবস্থায় তাঁকে ঢাকা থেকে লন্ডনের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হবে সেটাই দেখে এলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার স্বয়ং। কাকতালীয় ভাবে এরপরই বেগম জিয়ার লন্ডন স্থানান্তরের প্রক্রিয়া পিছিয়ে গেল। তখনই জানা গেল কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছে। আর লন্ডন থেকে উড়ে আসছেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান। সবই কি কাকতালীয়? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ। আসলে স্থানীয় বিএনপি নেতারাও মুখে কুলুপ এঁটেছেন। মির্জা ফকরুল থেকে রুহুল কবীর রিজভী, কেউই বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সেরকম কিছু বলছেন না। নিজের নিরাপত্তার ভয়ে তারেকও বাংলাদেশে আসছেন না। এই তালে মৃত খালেদা জিয়াকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তুলে লন্ডন রওয়ানা করিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। এরপর প্রচার করা হতো, পথেই মৃত্যু হয়েছে বেগম জিয়ার। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বা চক্রান্ত আপাতত ভেস্তে দিয়েছে ব্রিটেন। পিছিয়ে এল কাতারও। ইউনূসের আশায় জল ঢালার নেপথ্যে কি সেই ভারত?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post