আমেরিকা ভেবেছিল তারা বাংলাদেশে সামরিক ঘাঁটি তৈরী করতে পারলে এক ঢিলে অনেক পাখী মারতে পারবে। এক তারা মায়ানমারে সামরিক সরকারকে চাপে রাখতে আরাকান আর্মিকে ব্যবহার করবে, তাদের সব রকম সাহায্য করবে।এবং এক সময় তারা মায়ানমার বাংলাদেশের কিছু এলাকা দখল করে পাকাপাকি একটি দেশ বানাবে, যেখানে তাদের সরকার চলবে। দ্বিতায়ত চিনকে কাউন্টার করার জন্য ,আর ভারতের প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ ভারতকে আর বিশেষ কোন সুযোগ সুবিধা দিতে হবে না। তারাই সরাসরি চিনের উপর নজর রাখতে পারবে। তাই তারা বাংলাদেশকে টার্গেট করে তাদের খেলা শুরু করে। এবং সফলও হয়। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম দিকে বুঝতে পারেন নি, অথবা তার পাগলাটে সভাবের জন্য অথবা তিনি বাইডেন সরকারকে ছোট করতে গিয়ে আমেরিকার মুখোশ টি খুলে দেন। যার ফলে গণঅভ্যুত্থান জুলাই বিপ্লব এই সব চেঁচাতে থাকা ছাত্রদের মুখোশও খুলে যায়। আর এই সব জানাজানির পর আমেরিকা বুঝতে পারে তাদের ভুল ঢাকতে কিছু একটা করতে হবে, তাই তুলসী গার্ভাড ঘোষনা করেন যে আমেরিকা ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ করবে না। অর্থাৎ তারা আর অন্য দেশের সরকার ফেলতে তাদের সংস্থাকে ব্যবহার করবে না।তবে যত দিন যেতে থাকে আমেরিকা বুঝতে পারে বাংলাদেশের মাটি তাদের হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, এখন সেখানে আর শুধু মাত্র তাদের আধিপত্য নেই, সেখানে কোন দল চাইছে চীনকে, কেউ বা তুরস্ককে। শুধু তাই নয় যে ছাত্রদের তারা সাহায্য করেছিল তারা কোন জনসমর্থন পাবে না। কিন্তু দেশ ক্রমশ অস্থির হতে শুরু করছে যার দায় পড়ছে তাদের উপর।আর তারা সেখানে তাদের সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব কায়েমও করতে পারছে না। উল্টে দিনের পর দিন তাদের এজেন্টরা মারা যাচ্ছে। এখন তারা চাইছে সেখানে ভোট করিয়ে কিছুটা দায় মুক্ত হতে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের সঙ্গে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তা কমাতে। কারণ এই একটি কারণে রাশিয়া বেশী করে ভারতের বাজার ধরে ফেলছে, আর আমেরিাক ভারতের বাজার থেকে দুরে সরে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের কন্ট্রোল এখন আর তাদের হাতে নেই, সেটা তারা ভালো করে বুঝেছে। বাংলাদেশ এখন জঙ্গীবাদের আখড়া হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে। তাদের আয় কমেছে। আর যে হেতু আমেরিকা স্থিকার করেছে বাংলাদেশের সরকার বদলে তাদের হাত আছে তাই তারা মুখ বাঁচাতে একটি ইনক্লুসিভ নির্বাচনের জন্য চাপ দিতে চাইছে। কিন্তু বাংলাদেশের কন্ট্রোল যাদের হাতে আছে, তারা চাইছে ভোট না করিয়ে ক্ষমতায় থাকতে। আর ভোট যদি হয়ও, তাহলে মানুষের সামনে বিকল্প বলতে একটি দলই থাকবে, এবং তারাই জিতবে। তখন তারা বলতে পারবে যে তারা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। মানে জনগন তাদের জিতিয়েছে। যাদের বিষয়টি বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে তাদের বলি। হাসিনার দলকে ভোটের অঙ্গন থেকে বিদায় করা হয়েছে। সবাই ভেবেছিল মাঠে থাকছে বিএনপি। কিন্তু বিএনপির নেতা তারেক রহমান তার মায়ের এই পরিস্থিতিতেও দেশে ফিরতে পারেন নি, মানে কেশ গুরুত্বর। তিনি কোন দিনই দেশে ফিরতে পারবেন না। আর খালেদা জিয়ার অবস্থা কি তা তো সবাই জানে। অনেকে তো বলছে এর জন্য ইউনূস সরকারই দায়ী, তারাই খালেদা জিয়াকে সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে নিয়ে গিয়ে তার চিকিৎসার অনিয়ম করিয়েছেন। তার মুখে নাকি মাস্কও ছিল না, তিনি অনেকক্ষন ঠান্ডার মধ্যে ছিলেন এবং চিকিৎসার পরিপন্থি অনেক কিছু করা হয়েছে তার সঙ্গে, যার ফলে তার শরীর এতটা খারাপ হয়েছে। ফলে মাইনাস টু এর খেলায় সফল ইউনূস এবং জামাত। এবার ভোট ঘোষনা করতে আর অসুবিধা নেই, কারণ মাঠে এখন একটিই দল, তারা নিজেরা ভাগ হয়ে থাকলেও সেটি লোক দেখানো। আসলে সবাই পাকিস্তান পন্থি। ফলে রেসের মাঠে ছুটবে একজন, আর যে হেতু ছুটবে একজন তাই জিতবেও একজন। কিন্তু সবাই চায় ভারতের সম্মতি। আর এখানেই বাঁধবে গোল। ভারত পুতিনকে দেশে এনে আমেরিকাকে বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা যদি ভারতের হুমকির জায়গাতে আঘাত করে, তবে ভারতও দেখিয়ে দিবে ভারত কি করতে পারে। একদিকে ভারতের বাজার হারিয়ে ট্রাম্প এখন নিজের দেশেই বিক্ষোভের মুখে, ফলে সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে ভারতের সব শর্ত মানতে বাধ্য আমেরিকা। আর ভারতের শর্ত হল, বাংলাদেশে এমন একটি নির্বাচন যেখানে জিতবে সেদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকা দল, ফলে বিএনপির উপর ভরসা হারানো মানুষ ঝুঁকবে আওয়ামীলীগের দিকে। যদি ভারত বিভিন্ন দেশকে বোঝাতে পারে বাংলাদেশে ইনক্লুসিভ নির্বাচন গনতন্ত্রের জন্য কতটা জরুরি।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post