নামটা হাসিনা। আর তাঁকে নিয়ে তদারকি সরকারের হাসি নাই। বলা হচ্ছে ৫ অগাস্টের গণঅভ্যুত্থান পূর্বপরিকল্পিত। গণঅভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য শুধু হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়াই নয়, তাকে খুন করা। তার জন্য তাঁকে স্বয়ং সেনাপ্রধান উস্কে ছিলেন। হাসিনাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল গণঅভ্যুত্থানের কুশীলবদের সঙ্গে কথা বলার। আর সেটা করতে হলে হয় তাঁকে বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে আন্দোলনের মাথাদের সঙ্গে কথা বলতে হত, না হলে তাদের তিনি বঙ্গভবনে ডেকে পাঠাতেন।
আর সেনা প্রধান ওয়াকারের পাতা ফাঁদে পা দিলে হাসিনার মৃত্যু অবধারিত ছিল। সেটা করতে পারেনি বলে, হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) তাঁর বিচার করা হয়েছে। একই অভিযোগে বিচার করা হয়েছে, তাঁর আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে। তাঁকেও একই দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই দুইয়ের বিরুদ্ধে দেওয়া আইসিটি-র রায় কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর তদারকি সরকার প্রধান। সে কারণে ঢাকা থেকে চিঠির পর চিঠি পাঠানো শুরু হয়েছে। এই নিয়ে দিল্লি শুধুমাত্র একটি বাক্য খরচ করেছেন – চিঠি খতিয়ে দেখা হচ্ছে (ইট ইজ বিইং এগজামিনড)। দিল্লি যে কোনও অবস্থাতেই হাসিনাকে সে দেশের হাতে তুলে দেবে না, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। দিল্লি কার্যত ঢাকার ওই সব চিঠিকে পাত্তাই দিতে চাইছে না।
এই প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের দেওয়া বিবৃতি উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা এখানে একটা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে (জুলাই আন্দোলন) এসেছিলেন। আমার মনে হয়, তাঁর সঙ্গে যা ঘটেছে তার পেছনেও সেই পরিস্থিতিই রয়েছে। কিন্তু আবারও বলছি, এটা এমন একটা বিষয় যেখানে তাঁকে মনস্থির করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ (সি হ্যাজ টু মেক আপ হার মাইন্ড)’।
এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন যে বিবৃতি দিয়েছেন, তা থেকে স্পষ্ট যে তিনি তো বটেই তাঁর সরকারও চুড়ান্ত হতাশায় ভুগছেন। সংবমাধ্যমের প্রতিনিধিদের তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে ভারতের থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। আমরা অপেক্ষা করব। দেখতে চাই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কী রিঅ্যাকশন পাওয়া যায়। তবে একটা রিঅ্যাকশন দেখেছি যে তারা বিষয়টা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখুক।’
কোনও কোনও মহল থেকে দাবি করা হচ্ছিল যে হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় দিল্লির অস্বস্তি শুরু হয়েছে। সেই অস্বস্তি দূর করতে সাউথব্লক হাসিনাকে নিরাপদে কোনও দ্বিতীয় একট দেশে পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু সেই ধারণা বা সেই দাবি যে ভ্রান্ত, তা এতোদিনে প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে। যে অনুষ্ঠানে আমাদের বিদেশমন্ত্রীকে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সেই অনুষ্ঠানে সে দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তাঁর অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, তাঁদের থেকে আমরা শুনেছি যে আগে যেমন ভাবে নির্বাচন হত, তা নিয়ে তাঁরা অসন্তুষ্ট। তাহলে সেটাই যদি হয়, তাহলে সর্বপ্রথম তাঁদের স্বচ্ছ নির্বাচন করতে হবে।’
নির্বাচন নিয়ে জয়শঙ্কর যা বলেছেন, সে একই কথা বলে এসেছে আন্তর্জাতিকমহল। বলা যেতে পারে, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ভারত প্রথম থেকেই কিন্তু অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের কথা বলে এসেছে। জোরের সঙ্গে জানিয়ে এসেছেন, সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তদারকি সরকার সেটা করে কিনা সেটাই এখন দেখার। যদি সেটা তিনি না করেন, তাহলে বাংলাদেশের ভোটের ফলাফলকে কোনও দেশ স্বীকৃতি দেবে না।












Discussion about this post