হয় হাসিনা, না হলে সেভেন সিস্টার্স।
বাংলাদেশ সকালে বাজায় হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার ভাঙা রেকর্ড। আর বিকেল হলেই সেভেন সিস্টার্স। এটা জেনেও যে দিল্লি কোনওভাবেই হাসিনাকে তাদের হাতে তুলে দেবে না। আর সেভেন সিস্টার্স হাতে পাওয়ার যে স্বপ্ন তারা দেখছে, সেই স্বপ্নও তাদের কোনও কালেও পুরণ হবে না। কিন্তু পাগলেরও তো স্বপ্ন দেখার শখ থাকতেই পারে। তাই, তারা স্বপ্ন দেখছেন, সাউথব্লক দিল্লিকে বিমানে চাপিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিল। আর হাসিনা শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলেন। তাকে সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনী খপত করে ভিড় জনতার মাঝখান থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সোজা উত্তরপাড়া চলে গেলেন। পরের দিন আবার তাদের প্রিজনভ্যানে করে আদালতে নিয়ে গেলেন। শুরু হল হাসিনার বিচার।
স্বপ্নে কত কিছুই না দেখা যায়। ইউনূস হয়তো স্বপ্নে দেখেছেন হাসিনাকে পাওয়া হয়ে গিয়েছে। সেভেন সিস্টার্স ভারতের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়ে গিয়েছে। তার কাজ শেষ এবার তিনি অন্য কোনও দ্বীপে দ্বীপান্তরি হবেন। শোনা যেত গল্পের গোরু গাছে ওঠে। এখন দেখা যাচ্ছে গল্পের গোরু গাছ বেয়ে বেয়ে তিরিং করে লাফ মেরে সোজা মঙ্গলে গিয়ে হাজির।
আসল গোলমাল অন্যজায়গায়। যমুনাভবন এবং উত্তরপাড়া ভারতকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার জন্য উস্কানি দিচ্ছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে জামাতের কাতলা আর বোয়াল মাছের মাথারা। এবার হুমকি এল প্রাক্তন এক সেনাকর্তা কর্নেল হাসিনের থেকে। সেনাপ্রধান ওয়াকার আসলে পিছন থেকে উস্কে দিচ্ছেন। আর তারা ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে চলেছেন। কর্নেল হাসিন কী বলেছেন? হাসিন বলেছেন, ‘ভারতকে ভয় পাওয়ার কিছু নাই। ভারত আমাদের একমাত্র শত্রু। ভারতকে খণ্ড খণ্ড না করলে আমাদের শান্তি নেই। ’
দিন কয়েক আগে প্রায় একইরকম কথা শোনা গিয়েছিল, সে দেশের আরও এক প্রাক্তন সেনাকর্মকর্তার গলায়। তিনি আবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে ভারতের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সেনার প্রাক্তন ব্রিগেডিয়ার আবদুল্লাহিল আমান আজমি। তিনি বলেন,‘ভারত যতদিন টুকরা টুকরা না হয়ে যাবে কেয়ামত পর্যন্ত তারা বাংলাদেশকে শান্তিতে থাকতে দেবে না। আমাদের গণমাধ্যম, আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গন, আমাদের বুদ্ধিজীবী এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম…. পানি নিয়ে যারা আমাদের বাধ সৃষ্টি করে….,তারা আমাদের বর্ডারে যেভাবে হত্যা করছে… বাণিজ্য বৈষম্য… এসব তো বাদই দিলাম। যখন শেখ সাহেবের পতন হল, তখন তাদের ভারত ডেকে নিয়েছিল। তাদের ক্যাম্প বানিয়েছে, আশ্রয় দিয়েছে, অস্ত্র দিয়েছে, প্রশিক্ষণ দিয়েছে।’
হাসিন যা বলেছেন, তার ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারত সামরিক পদক্ষেপ করতেই পারে। কিন্তু উত্তরপাড়া বা উত্তরপাড়ার প্রাক্তন বাসিন্দারা মুখে যাই বলুক না কেন, দিল্লি কখনই ঢাকার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ করবে না। করলে অনেক আগেই করত। এই সামরিক পদক্ষেপ সাউথব্লকের কাছে শেষ অস্ত্র। আর বাস্তবেই যদি সেই অস্ত্রের প্রয়োগ করার জন্য সাউথব্লককে বাধ্য করা হয়, তাহলে একটা মারও যে বাইরে পড়বে না, সেটা বোধহয় আন্দাজ করতে পারছেন না নোবেল ম্যান। আন্দাজ করতে পারছে না তাঁর নয়নমণি ওয়াকার।
গত ৫ অগাস্টের পর থেকে বাংলাদেশ সেনা কী ভূমিকা নিয়েছিল তা সকলের জানা হয়ে গিয়েছে। সেনাবাহিনীর মান সম্মানকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। ওয়াকারের হাতে এখন সময় আছে। তিনি তাঁর প্রাক্তন কর্মীদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে ভারত-বিদ্বেষী মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিক।












Discussion about this post