খেলাটা শুরু হয়েছিল চিনের মাটিতে সাংহাই কো অপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও সম্মেলনে। যেখানে গোটা বিশ্ব হা হয়ে দেখেছিল বিশ্বের তিন মহা শক্তিধর দেশের রাষ্ট্রপ্রধান একসাথে মিলিত হয়েছিলেন। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাসিমুখে আলোচনা গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছিল। আবার সেখানেই ঘটেছিল এক নজিরবিহীন ঘটনা। পুতিন নরেন্দ্র মোদিকে নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে সেই গাড়িতে বসেই প্রায় ৪৫ মিনিট আলোচনা করেন। তাঁরা কোন কোন বিষয়ে আলোচনা করেন, তা আজও বিশ্বের কাছে এক অপার রহস্য। কিন্তু সেই ঘটনাই দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে একটা বড় পরিবর্তন এনে দেয়। যা আজ প্রতিফলিত হচ্ছে। সম্প্রতি ভ্লাদিমির পুতিন দুদিনের সফরে ভারতে এসেছিলেন। দুই দেশের মধ্যে একাধিক বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে কোনও বড় চুক্তি হয়েছে কিনা বলা হয়নি। যদিও চুক্তি হলে তা প্রকাশ করবে না কোনও দেশই। অপরদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুতিনের ভারত সফরেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত এবং কার্যকলাপে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরে আসছে। এর ফলে নতুন করে রাশিয়া, ভারত ও চিনের মধ্যে কূটনৈতিক জোট তৈরি হয়েছে। যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে চলেছে মার্কিন অর্থনীতিতে। এই সমস্ত দাবি ঘিরে ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছিল মার্কিন রাজনীতি। ফলে পিছু হটতে বাধ্য হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কারণ তিনি বুঝে গিয়েছেন পৃথিবী উল্টে গেলেও ভারত ও রাশিয়ার বন্ধুত্বে ছেদ পড়ার সম্ভাবনা নেই। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই নীতি পরিবর্তন করতে হবে। আর ওয়াশিংটন সেটাই এখন করতে চাইছে।
এবার আসা যাক আরও একটি বড় আলোচনা নিয়ে। ভ্লাদিমির পুতিন দিল্লিতে থাকাকালীন নাকি বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে একটি গোপন বৈঠক করেছেন। যদিও সরকারি স্তরে এই ধরণের বৈঠক নিয়ে কোনও সত্যতা নেই। তবে আওয়ামী লীগের তরফে এই বৈঠকের প্রচার চলছে জোরদার। পৃথিবীর ইতিহাসে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ জন্ম নেওয়ার সঙ্গে ভারত ও রাশিয়ার রক্ত, ঘাম, শ্রম ও সাহসের গল্প জড়িত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন যখন পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাংলাদেশের মানুষকে নির্বিচারে হত্যা ও ধর্ষণ করছিল তখন বাংলাদেশের মানুষের জন্য মুক্তির দূত হয়ে এসেছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি। তাঁকে পূর্ণমাত্রায় সাথ দিয়েছিলেন রাশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সি কোসিগিন। ইন্দিরা গান্ধির আহ্বানে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সনের বিরুদ্ধে সেদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে মাথা উঁচু করে প্রতিরোধের দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অ্যালেক্সি কোসিগিন। সেই ইতিহাস ভোলার নয়, যদিও একদল পাক পন্থী এথন ক্ষমতার দম্ভে সেই সুবর্ণ ইতিহাস বাংলাদেশের জনগণকে ভোলাতে চাইছেন। কিন্তু তা বলে রাষ্ট্র এটা ভুলতে পারে না। তাই বাংলাদেশকে মনে রেখেছে রাশিয়াও। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে বাংলাদেশের রূপপুরে একটি পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ করছে রাশিয়া। যা মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় বিশ বাও জলে দাঁড়িয়ে। আদৌ এই পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কবে মাথা তুলে দাঁড়াবে সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
১৯৭১ সালে ভারতের রণতরী বিক্রান্ত একাই “অপারেশন ট্রাইন্ড” ও “অপারেশন পাইথন” পরিচালনা করে আমেরিকা ও পাকিস্তানের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। বাংলাদেশকে স্বাধীন করার যুদ্ধে ভারত হারিয়েছিল যুদ্ধবিমান ও সাবমেরিন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের নৌবহর পাঠিয়ে দিয়েছিল বঙ্গোপসাগরের দিকে। কিন্তু ভারত ও বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল সোভিয়েত রাশিয়ার নৌবহর। সেবারের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় নৌবাহিনীর ১৯৪ জন বীর যোদ্ধা শহীদ হয়েছিলেন। আজ সেই ইতিহাস বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী ভুলতে চাইছে। কিন্তু ভারত ভুলবে না, রাশিয়াও ভুলবে না। বিশ্লেষকদের অভিমত, আজকের বাংলাদেশকে চাইলেও কেউ আর পাকিস্তান বানিয়ে পাকিস্তানের পতাকা উড়াতে পারবে না। কারণ ভারত, রাশিয়া ও চিন কেউই বাংলাদেশের ভূখণ্ডে মার্কিন আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না। এছাড়া বাংলাদেশ পৃথিবীর বিচ্ছিন্ন কোনও দ্বীপ নয়। পুরো বাংলাদেশকে ঘিরে রয়েছে ভারতের ৪১০০ বর্গ কিলোমিটারের দীর্ঘ সীমান্ত। ফলে বাংলাদেশ অশান্ত হলে ভারতও অশান্ত হবে, এটাই স্বাভাবিক। ৭১-এর আগের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে চাইছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কিছু পাকপন্থী কট্টরবাদী সংগঠন। যা ভারত ও রাশিয়া কোনও ভাবেই হতে দেবে না। এবার চিনও ভারতের পাশে থাকছে। তিন দেশের লক্ষ্য একটাই বাংলাদেশে যেন মার্কিন সামরিক বেস না তৈরি হয়। তাই পুতিন ও হাসিনার মধ্যে যে ১৭ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। সেই বৈঠক হলেও হতে পারে। আর তা ইউনূসের রাজত্বের শেষের শুরু বলেই মনে করা যেতে পারে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post