গত জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যে কী ছিল?
প্রথম দিকে মনে করা হয়েছিল, এই গণআন্দোলনের উদ্দেশ্যে ছিল শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকারের পতন। বলা হয়েছিল, এই আন্দোলন জনতার দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই একের পর এক রহস্যের জাল ছিঁড়তে শুরু করেছে। আর তা থেকে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আন্দোলনের উদ্দেশ্য শুধু একটা নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া নয়। উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনাকে চিরকালের জন্য পৃথিবী থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। এই নিয়ে ভারত সরকারের গোয়েন্দা দফতর সরকারের কাছ একটি রিপোর্ট জমা করেছে। সেই রিপোর্টে সবিস্তারে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে হাসিনাকে খতম করতে ছক তৈরি করা হয়েছিল। নীল নকশা সেনাপ্রধান ওয়াকারের ব্রেন চাইল্ড। তাঁকে মদত দিয়েছিলেন জামায়াত, বিএনপি, ছাত্রনেতারা। ভারতীয় গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, নীল নকশা তৈরির পর সেটা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল ইউনূসের কাছে। ইউনূস কিন্তু সেই সময় ফ্রান্সে। তিনি প্রস্তাবে সম্মতি দেন। নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্য ঢালা হয়েছিল কোটি টাকা।
ভারতীয় গোয়েন্দা রিপোর্টে তিনটি বিষয় বলা হয়েছে – প্রথমটি ‘অল্টারেশন অব ক্যাপিটাল’, ‘দ্বিতীয়টি ক্যাপিটাইলেজশন অব প্রফিট’, তৃতীয়টি ‘প্রক্সি’। এর আগেও হাসিনাকে খুন করার চক্রান্ত করা হয়েছিল। সেটা ২০১৪ সালের ঘটনা। ভারতের সন্ত্রাসদমন শাখার তরফে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল একটি রিপোর্ট। সেই রিপোর্টে সবিস্তারে তুলে ধরা হয় কীভাবে হাসিনাকে খুন করার নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে।
ভারতীয় গোয়েন্দাদের সর্বশেষ রিপোর্টে বলা হয়েছে, হাসিনা তখন ক্ষমতায়। সেটা গত বছর জুনের শেষের দিকের কথা। সেনাপ্রধান ওয়াকার এবং তাঁর সমব্যথারী হাসিনা আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাড়িতে প্রতিদিন বৈঠক করতেন। কিন্তু সেই বৈঠক হত এমন কায়দায় যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একবারের জন্য বুঝতে দেওয়া হয়নি যে বৈঠকের মূল উদ্দেশ্যে হাসিনাকে খুন করা। গত জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনে যে এত পুলিশকর্মীর মৃত্যু, তার পিছনে সেনাপ্রধান ওয়াকারের হাত ছিল। হাত ছিল নোবেলজয়ী ইউনূসের।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের সময় জনতা যখন গণভবনের দিকে এগিয়ে আসছেন, সেই সময় পুলিশ গণভবনের সামনে ব্যারিকেড দিতে শুরু করে। সেটা সেনাপ্রধান ওয়াকারের কানে পৌঁছয়। তিনি সঙ্গে সঙ্গে উত্তরপাড়া থেকে এক শীর্ষসেনাকর্তাকে গণভবনের দিকে পাঠিয়ে দেন। ওই সেনাকর্তা পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড সরাতে শুরু করেন। সেনাবাহিনী যখন ব্যারিকেড সরাতে শুরু করে, সেই সময় পুলিশ বাধ্য হয়ে সেখান থেকে সরে যায়। ফলে, গণভবনের যাওয়ার রাস্তা ক্রমশ প্রশস্ত হতে শুরু করে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঘটনার দিন গণভবনে গিয়েছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার। তিনি হাসিনাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন আন্দোলনরত ছাত্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলার। হাসিনা পরিষ্কার প্রস্তাবে না করে দেন। হাসিনা ধরে নিয়েছিলেন, গণভবনে ছাত্রনেতাদের ডাকলে সেখানেই তিনি খুন হয়ে যেতেন। অথবা যদি গণভবন থেকে বেরিয়ে তিনি ছাত্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলতেন, তাহলেও তাঁর মৃত্যু অবধারিত ছিল। যদিও সেনাপ্রধান হাসিনাকে বলেছিলেন, তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব তিনি নিজে নিশ্চিত করতেন। সূত্রের খবর, অজিত ডোভালের থেকে হাসিনার কাছে ফোন গিয়েছিল। বলা হয়েছিল, তাঁর হাতে আর মাত্র এক ঘণ্টা সময় রয়েছে। তিনি যেন দ্রুত সেখান থেকে নিরাপদস্থানে চলে যান। ডোভালের পরামর্শেই হাসিনা দ্রুত গণভবন ছাড়েন। সে যাত্রায় তাঁর প্রাণ বেঁচে গিয়েছিল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post