আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। অন্তত তদারকি সরকারের সরকারি বিবৃতির হিসেব অনুযায়ী। যদিও ভোট ঠিক কবে, সে ব্যাপারে কিন্তু এখনও তদারকি সরকারের তরফে কিছু বলা হয়নি। এমনকী নির্বাচন কমিশনও সরকারিভাবে কিছু জানায়নি। তফসিল ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ শুরু হয়ে গিয়েছে। আজ ১০ ডিসেম্বর, বুধবার। এই খবর লেখা পর্যন্ত না নির্বাচন কমিশন এই নিয়ে একটি শব্দ খরচ করেছে, না এ এম এম নাসিরুদ্দিনের দফতর এই নিয়ে একটি শব্দ খরচ করেছে। বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মঙ্গলবার সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রাফাত আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এদিন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন তারিখ ঘোষণা হতে পারে। বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কিন্তু নির্বাচনের পক্ষেই মত দিয়েছে। এই নিয়ে ইতোমধ্যে নানা সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। ‘দৈনিক মানবজমিন’ও একটি সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ‘প্রথম আলো’ একটি সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাদের সমীক্ষা রিপোর্ট অনুসারে, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক কিন্তু চাইছে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। দেখে নেওয়া যাক মানবজমিন কী রিপোর্ট দিচ্ছে।
এক কথায় তাদের সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, দেশবাসীর ইচ্ছা আওয়ামী লীগের যে সব নেতার পোশাকে কেচ্ছা বা কেলেঙ্কারি কালো দাগ লাগেনি, তাদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দেওয়া হোক। যাঁদের বিরুদ্ধে গুম খুনের অভিযোগ নেই, তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। ঘুরিয়ে বলা যেতে পারে, আওয়ামী লীগ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের টিকিট দেবে, যাদের দুর্নীতির জিওয়ন কাঠি সামান্য স্পর্শ করতে পারেনি।
এই জরিপ আরও একটি বিষয়ে ইঙ্গিত দিচ্ছে। সেটা হল, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণে তদারকি সরকার বাধ্য হচ্ছে। কারণ, বিভিন্ন বিদেশি স্টকহোল্ডারা তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের স্বীকৃত সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে। এমনকী বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নাসিরুদ্দিনের সঙ্গেও তারা বৈঠক করেছেন। ইউনূস এবং নাসিরুদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে তারা একটাই বার্তা দিয়েছেন – অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন স্বীকৃত সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া ইউনূস এবং তাঁর কচি ‘সংসদ’ –য়ের সদস্যরা জানেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় নির্বাচন হলে না সেই নির্বাচনকে আন্তর্জাতিকমহল স্বীকৃতি দেবে, না ভোটের ফলকে। তাই, তদারকি সরকার যেমন চাপে রয়েছে, চাপে রয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এই অবস্থায় ‘দৈনিক মানবজমিন’ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।
রিপোর্টের শিরোনাম ‘ক্লিন ইমেজের আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন’। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ অনেকটাই অনিশ্চিত। কারণ দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। তাহলে এই অবস্থায় কী হবে দলটির ভবিষ্যৎ? ঢাকা-দিল্লি আনুষ্ঠানিক- অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আলোচনায় বিষয়টি এসেছে। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তদারকি সরকার চাইছে, দলের যে সব নেতাদের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ, তারা চাইলে নির্বাচনে প্রতিন্দ্বিতা করতে পারেন। কিন্তু যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাউকে নির্বাচনে অংশগ্রণ করার সুযোগ দেওয়া হবে না। ’
জামায়াত, বিএনপি, এনসিপি কিন্তু প্রথম থেকেই বলে এসেছে, আওয়ামী লীগকে কোনওভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া যাবে না। এই ব্যাপারে তারা তদারকি সরকারের ওপর লাগাতার চাপ দিয়ে এসেছে। তদারকি সরকার যে সিদ্ধান্ত নিল,তা অনেকটাই এ কূল ও কূল দুই কূল রক্ষার সামিল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post