দু’দিনের সরকারি সফরে ভারতে এসেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। দিল্লিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠক ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু পালাম এয়ারবেসে পুতিনকে লাল কার্পেট পেতে স্বাগত জানানো হয়। বিমানের সিঁড়ি বেয়ে মাটিতে পা ছোঁয়ার পরে যা হল, সেটা সব প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে যায়। কেউ বিশ্বাসই করতে পারেননি প্রেসিডেন্ট পুতিনকে বুকে জড়িয়ে ধরবেন নমো। কূটনীতিতে দুই শীর্ষ নেতার কীভাবে একে অপরবকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন, সেদিকে কিন্তু নজর রাখে বাকি দেশগুলি। করমর্দনেরও রকমফের আছে। কিন্তু রুশ প্রেসিডেন্টকে প্রধানমন্ত্রী মোদি যেভাবে অভ্যর্থনা জানালেন, তা থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট – বিশ্বকে তিনি এই বার্তাই দিতে চেয়েছে রাশিয়া হল ‘ফ্রেন্ডশিপ ফর অল সিজন। ’ ওয়াশিংটন এবং ইউরোপকে দিল্লি এই বার্তাই দিতে চাইল যে তারা যা কিছু মনে করার করতে পারে। তাতে ভারতের কিচ্ছু যাবে আসবে না। মোদি আসলে ঘুরিয়ে তাদের গালে সপাটে চড় কসিয়ে দিলেন, যারা ভারতের ওপর চাপ তৈরি করতে চাইছে।
তাঁর এবারের দিল্লি সফর কিন্তু অন্য একটি দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। রুশ প্রেসিডেন্ট দিল্লি এলেন এমন সময়ে যখন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা রয়েছেন রাজধানীতে। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – হাসিনার সঙ্গে কী প্রেসিডেন্টে পুতিনের সাক্ষাৎ হয়েছিল? তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া যায়, হাসিনার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে, তাহলে সেটা সরকারিভাবে কখনই বিবৃতি দিয়ে জানানো হবে না। কারণ, এই বৈঠক হয়ে থাকলে সেটা হবে আনঅফিসিয়াল মিটিং। যদিও কোনও কোনও সূত্র বলা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে হাসিনার কথা হয়েছে। দু’জনের মধ্যে কথা হয় প্রায় আধঘণ্টার মতো। হাসিনার সঙ্গে বৈঠক শেষ করে পুতিন পালাম এয়ারবেসের দিকে রওনা দেন।
সরকারিভাবে পুতিন-হাসিনা বৈঠক নিয়ে একটি শব্দ খরচ করা হয়নি ঠিকই। কিন্তু পুতিন দিল্লিতে থাকার সময় তো বটেই, এমনকী দিল্লি থেকে রাশিয়া চলে যাওয়ার পরেও কিন্তু বাতাসে খবর ভাসতে শুরু করে হাসিনার সঙ্গে ‘কথা’ হয়েছে পুতিনের। এমনকী সমাজমাধ্যমেও এই সংক্রান্ত খবর ছড়িয়ে পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও সেই ভিডিওটি বহু পুরনো। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট। পুতিন যদি হাসিনার সঙ্গে দিল্লিতে দেখা করেও থাকেন, তাহলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কারও পদক্ষেপ করার বিন্দুমাত্র সাহস হবে না।
সূত্রের খবর, বৈঠকে পুতিন বঙ্গবন্ধু কন্যাকে জানিয়েছে, রাশিয়া তাঁকে আশ্রয় দিতে প্রস্তুত। তবে কি রাশিয়া থেকেই বাংলাদেশে ফিরতে চলেছেন হাসিনা? সরকারিভাবে এখনও তাতে সিলমোহর পড়েনি। তবে সেটা যদি বাস্তবে রূপ পায়, তাহলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটা হবে চূড়ান্ত বিপর্যয়। তাঁর কারণ, আমেরিকা এখন কিন্তু আর বাংলাদেশের পাশে নেই। পাশে নেই আমেরিকার বন্ধু রাষ্ট্ররা। রয়েছে চিন। থাকার কারণ, চিন সে দেশে মোটা টাকা বিনিয়োগ করেছে। তারা সেখান থেকে লাভ তুলতে চাইছে। এদিকে আবার রাশিয়ার সঙ্গে চিনের সম্পর্ক বেশ ভালো। সম্পর্ক ভালো ভারতের সঙ্গেও। তাই, হাসিনা যদি রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে ফেরেন, তাহলে ইউনূস এবং তাঁর পারিষদবর্গ ইঁদুরের গর্তে লুকিয়েও রক্ষা পাবেন না তা ধরে নেওয়া যেতেই পারে। আমাদের হয়তো সেই দৃশ্য দেখার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।












Discussion about this post