কোনওদিন কেউ শুনেছে রসগোল্লা খেতে তিতো লাগে? বা নিমপাতা ভারি মিষ্টি? করোলার স্বাদ তেঁতুলের মতো? বেগুনের স্বাদ চালকুমড়োর মতো? কলার স্বাদ মোচার মতো? চিনির স্বাদ কাঁচালঙ্কার মতো? জলের স্বাদ কেরোসিন তেলের মতো ? হ্যাজাকের আলো টুনি বাল্বের মতো? আলুর স্বাদ পটলের মতো? আদার স্বাদ রসুনের মতো? প্যাঁচা দেখতে গোরুর মতো? উট দেখতে ব্যাঙের মতো?
শুনেছেন ইউনূস। দেখেছেনও তিনি। ইউনূসের কসম খেয়ে বলতে হচ্ছে, তিনি এগুলির মধ্যে যে কোনও একটা দেখেছেন, তা বানিয়ে তরকারি খেয়েছেন। না হলে কেউ ওমন কথা বলে। কী বলেছেন ইউনূস সাহেব?। থুরি, তাঁর সরকার?
বাংলাদেশের ‘দৈনিক মানবজমিন’ একটি খবর প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত রিপোর্টের প্রতিপাদ্য বিষয়, আওয়ামী লীগকে নিয়ে। দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে তাদের অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। তবে তাদের দলের কেউ চাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবেন। যাদের ইমেজ ক্লিন তাদের পক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে সরকারের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে মামলা মোকদ্দামা রয়েছে, কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাউকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না।
আপনারাই বলুন, যুক্তি হাস্যকর নয় কি? ধরা যাক আওয়ামী লীগের ওমুকবাবু ঠিক করলেন তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাহলে তার রাজনৈতিক পরিচয় কী হবে? তিনি কি সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেওয়ার সময় বলবেন – আমি আগে আওয়ামী লীগ করতাম। এখন করি না। আমার নামই আমার পরিচয়। মানে – ‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক। ’
নির্বাচনে যিনি প্রার্থী হবেন, তার একটা রাজনৈতিক পরিচয় থাকবে, এটাই দস্তুর। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কথা ধরা যাক। তিনি যখন সভামঞ্চ থেকে বক্তৃতা করবেন, তিনি জোরের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় জানিয়ে দেবেন। অথবা তাঁর সভামঞ্চের পর্দায় দলের প্রতীক আঁকা থাকবে। আর আওয়ামী লীগের যে সব নেতা বক্তৃতা দেবেন তাঁদের সভামঞ্চের পিছনে কার ছবি থাকবে? হুলো বেড়ালের? না কি বুনো শুয়োরের? না কি ভেঁড়ার ছবি? অথবা ঘোড়া, গোরু, ইঁদুরের বিষ্ঠার ছবি? এতো অদ্ভুত, কিম্ভুত যুক্তি! মানে পাত্র বিয়ে করতে চলেছে। অথচ পাত্রী নেই। সে বিয়ে করা আর না করা তো সমান। আহা রে।
প্রথমত ইউনূস নিজের কথার জালে নিজেই জড়িয়ে যাচ্ছেন। তা ছাড়া ওই ঘোষণা করে তিনি একটি কৌশল অবলম্বন করলেন। দল নিষিদ্ধ, ব্যক্তি নয়। এতো পালং শাকের ক্যাশমেমো তত্ত্ব। প্রথমত কার ইমেজ ক্লিন, সেটা কে নির্ধারণ করবে? তদারকি সরকার? তাদের ইমেজ কতটা ক্লিন, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। এতটা ক্লিন যে চাদের কলঙ্ক তার কাছে হার মানে। সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে, তদারকি সরকারের আধসেদ্ধ তত্ত্ব খারিজ করে দিয়েছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আওয়ামী লীগ। আর দল যাদের প্রার্থী করবে, তাঁদের পরিচয় হবে তাঁরা আওয়ামী লীগের প্রার্থী। তাদের আর দ্বিতীয় কোনও পরিচয় আগেও ছিল না, এখনও নেই, আগামীদিনেও থাকবে না। হাসিনার বার্তা লড়াই করে দলকে ফিরিয়ে আনা হবে। দলকে সংগঠিত করতে হবে।












Discussion about this post