এ এক আশ্চর্য সমাপতন? না কি অন্য কোনও রাজনৈতিক কৌশল?
বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে যাদের সম্পর্ক, শুদ্ধ বাংলায় যাকে বলে অহি-নকুল, সেই জিয়ার আরোগ্য কামনা করছেন শেখ হাসিনা?
শুনতে খটকা লাগলেও বাস্তবে এটাই হয়েছে। দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বার্তা পাঠিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই মেইলে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বেগমের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। খালেদা জিয়ার বর্তমান সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থা এবং তিনি যেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন সেই হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বেগম জিয়া অসুস্থ হয়েছেন শুনে আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমি প্রার্থনা করি তিনি যাতে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।’
৭৯ বছর বয়সী জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির সমস্যাসহ নানা দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে। তখন থেকে তিনি সিসিইউতে ভর্তি আছেন এবং তার অবস্থা সংকটজনক বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন। স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তার চিকিৎসা তত্ত্বাবধান করছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও নতুন করে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এখনো তা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার পরিচিতি দুই নেত্রী হিসাবে। জাতীয় রাজনীতিতে তারা দুজনে মোট ৩০ বছরের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন। একসময় তাদের বৈরী সম্পর্ক বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ‘দুই বেগমের’ লড়াই বলে হিসেবে চিত্রায়িত হয়। আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১৮ সালে খালেদা জিয়াকে দুর্নীতি মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। দুই বছর পর মহামারীর মধ্যে শর্তসাপেক্ষে সাজা স্থগিত করে তাকে সাময়িক মুক্তি দেন শেখ হাসিনা। এরপর বেশ কয়েকবার জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। তার দল ও স্বজনরা চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিতে চাইলেও সে অনুমতি শেখ হাসিনার সরকার তখন দেয়নি। বরং খালেদার হাসপাতালে যাওয়া নিয়ে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে কটাক্ষও করেছেন শেখ হাসিনা।
২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকারকে দায়ী করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। অন্যদিকে বিএনপি নেতারাও খালেদা জিয়ার অসুস্থতার জন্য শেখ হাসিনাকে দায়ী করেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান হয়; তিনি পালিয়ে ভারতে চলে যান। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার পুরোপুরি মুক্তি মেলে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুর্নীতি মামলার দায় থেকেও তাকে খালাস দেয় আদালত। আপাতত সে সব কিছু অতীত।
প্রশ্ন অন্য জায়গায়? এ কি নেহাতই রাজনৈতিক সৌজন্য? না কি অন্য কোনও কিছু?
আপাত দৃষ্টিতে এটাকে রাজনৈতিক সৌজন্য বলা হলেও বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষপটে জিয়ার জন্য হাসিনার ‘দোয়া’কে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। হাসিনা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে মৌলবাদ মাথা চাড়া দিয়েছে। অপর দিকে জনমত সমীক্ষা বলছে হাসিনা ক্ষমতায় ফিরতে চলেছেন। সেই জনমত সমীক্ষার ফল বাস্তবায়িত হলে হাসিনার প্রথম দায়িত্ব হবে মৌলবাদকে দমন করা। সে ক্ষেত্রে তাকে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল বিএনপির সাহায্য নিতে হবে। তাই, আগে থেকেই হাসিনা সেই ক্ষেত্র প্রস্তুত করে রাখলেন বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post