দিন কয়েক আগে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনায় বলা হয়েছিল, পরতে পরতে ঘটে চলেছে চমক। জাতীয় রাজনীতির অভিমুখ কী হবে, তার কোনও আগাম ধারণা কেউ করতে পারছে না। সেটা আরও একবার প্রমাণিত হয়ে গেল তদারকি সরকারের দুই উপদেষ্টা তথা অন্যতম মুখ আসিফ মাহমুদ, সজিব ভুইয়াঁর ইস্তফার মধ্য দিয়ে। এই দুই উপদেষ্টা কিন্তু প্রথম থেকেই বলে এসেছেন, তারা কোনও অবস্থাতেই সরকার থেকে সরে দাঁড়াবেন না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এই দুই ছাত্রনেতার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের মঙ্গল কামনা করে বলেন, ‘অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে তোমরা যেভাবে জাতিকে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তির পথে অবদান রেখেছ তা জাতি মনে রাখবে। আমি বিশ্বাস করি ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও বিকাশে তোমরা একইভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।’ নিজেদের কর্মের মাধ্যমে দেশের মঙ্গলে নিয়োজিত থাকার আহ্বান জানিয়ে দুই ছাত্র নেতার উদ্দেশ্য প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকারে থেকে যে অভিজ্ঞতা তোমরা অর্জন করেছ, তা ভবিষ্যৎ জীবনে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম। আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের শুরুতেই উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান। তাঁকে প্রথমে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে শ্রম মন্ত্রণালয় বাদ দিয়ে তাঁকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সময় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অপরদিকে মাহফুজ আলম শুরুতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ছিলেন। নিয়োগ পান গত ২৮ অগাস্ট। ওই বছর ১০ নভেম্বরে তিনি উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। তবে সে সময় তাঁকে কোনও মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। নাহিদ পদত্যাগ করার পর আসিফকে তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ শুরুতে ছিলেন শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। এ এফ হাসান আরিফকে (প্রয়াত) সরিয়ে আসিফ মাহমুদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় গত নভেম্বরে। এরপর থেকে তিনি স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন। পরে আবার দায়িত্ব পুনর্বন্টনের সময় আসিফকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়। যা এখন পর্যন্ত সামাল দিচ্ছিলেন।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যমান উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন। আলোচনায় আরও উঠে এসেছে, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ পদত্যাগ করা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘এটা আমার বলার এখতিয়ার নেই, সেটা মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে। সেটার জন্য একটু অপেক্ষা করতে হবে।’ তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন বলেও জানিয়েছেন। তবে কোথা থেকে বা কোন দল থেকে করবেন, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট করে কিছু জানাননি। তবে কিছুদিন আগে তিনি বলেছিলেন, ঢাকা থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।












Discussion about this post