পদ্মাপারে বেজে গিয়েছে ভোটের বাদ্যি। বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে সে দেশের মু্খ্য নির্বাচনী আধিকারিক এএমএম নাসিরুদ্দিন ভোট নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেন। ভোট আগামী বছর ১২ ফেব্রুয়ারি। ভোট শুরু হবে সকালে সাড়ে ৭টা থেকে, চলবে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত। একই দিনে জুলাই সনদ নিয়েও হবে গণভোট। আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের মোট ১২ কোটি ৭৬ লক্ষ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন তাঁদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটের আবহে আমেরিকার একটি সমীক্ষা সংস্থা বাংলাদেশকে নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্টি তৈরি করেছেন ইন্টারন্যাশনাল রিপাব্লিকান ইন্সটিটিউট। তারা আবার নিজেরা করেনি। তারা অন্য একটি স্থানীয় সংস্থাকে দিয়ে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে। যদিও তাদের পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশে চলছে স্বৈরাচারী শাসন। তাই, কোন সংস্থা এই রিপোর্টে তৈরি করেছে, সেটা জানিয়ে দেওয়া হলে, তাদের ক্ষতি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে মার্কিন এই সমীক্ষা সংস্থা। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘দ্য সার্ভে ওয়াজ কন্ডাক্টেড অন বিহাফ অফ দ্য ইন্টারন্যাশনাল রিপাব্লিকান ইন্সটিটিউট’স সেন্টার ফর ইনসাইট ইন সার্ভে রিসার্চ বাই আ লোকাল রিসার্চ ফার্ম’।
সমীক্ষা খুবই ছোট আকারের। সমীক্ষা করা হয়েছে গত সেপ্টম্বর-অক্টোবরে, ৬৩টি জেলার ৪৯৮৫ জন বাসিন্দাকে নিয়ে। নেওয়া হয়নি রাঙামাটি জেলাকে। ৪৯৮৫ জন বাসিন্দার মধ্যে আবার ৫৪ % মানুষ মতামত দিতে অস্বীকার করেছেন। তার অর্থ দাঁড়ায় ৪৬ শতাংশ মানুষ সমীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। অর্থাৎ ২২৯৩ জন। এটা বাংলাদেশের মোট ভোটার সংখ্যার মাত্র .০০১৮ %। জেলাওয়াড়ি হিসেবে মাত্র ৮৯ জনের মতামত নেওয়া হয়েছে। আবার তাদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ কোনও মতামত প্রকাশ করেনি। সে ক্ষেত্রে হিসেব দাঁড়ায় ৩৬ জনের মতামত নেওয়া হয়েছে। গড় হিসেবে প্রতি জেলা থেকে গড়ে ৩৬ জনের মতামত নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্ট ছোট হলেও এই রিপোর্টের গুরুত্ব অন্যত্র। প্রথমত এটা একটি মার্কিন সংস্থা। সমীক্ষা রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে তারা যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বলা হচ্ছে, এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের অবস্থা, দৃষ্টিভঙ্গী নির্ধারণ করবেন। তাছাড়া এটা আমেরিকার ক্ষমতাসীন দল রিপাব্লিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ সংগঠনের জরিপ। তাই, এটাকে কোনওভাবেই অবজ্ঞা করা যাচ্ছে না। এই রিপোর্টের উল্লেখযোগ্য বিষয় এখানে আওয়ামী লীগের জনসমর্থন নিয়ে কিন্তু একটি শব্দ খরচ করা হয়নি।
বাংলাদেশে গণতন্ত্র আছে না নেই এই প্রশ্নের জবাবে ৩৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, গণতন্ত্র নেই। এই ৩৪ শতাংশের মধ্যে ৩৮ শতাংশ পুরুষ, মহিলা ৩১ শতাংশ। প্রশ্ন করা হয়েছিল, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তাঁরা অংশগ্রহণ করবেন কি না? মোট ৪৯৮৫ জনের মধ্যে ৬৬ % জানিয়েছে, তারা তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। এই ৬৬ শতাংশের মধ্যে পুরুষ ৭১ শতাংশ। আর মহিলা ৬১ শতাংশ। সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী, বিএনপির পক্ষে রয়েছে ৩০ শতাংশ। বিএনপির পরেই কিন্তু জামায়াত। ৪৯৮৫ জনের মধ্যে ২৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তারা জামায়াতকে ভোট দেবেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির পাশে রয়েছে ৪৯৮৫ জনের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ, জাতীয় পার্টির সঙ্গে রয়েছে মাত্র পাঁচ শতাংশ, ইসলামিক আন্দোলন বাংলাদেশের পাশে রয়েছে মাত্র চার শতাংশ। এই সমীক্ষা থেকে যে ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে আসছে, তা হল জামায়াত গত দেড় বছরের বেশি সময়ে বাংলাদেশে তারা তাদের রাজনৈতিক ভিত তৈরি করে ফেলেছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post