ছুঁচো গিলে ফেললে সাপের কী হয়, সেটা হয়তো অনেকের দেখার সুযোগ হয়নি। কিন্তু ইউনূসকে দেখে তার একটা আভাস পাওয়া যেতে পারে।
নির্বাচনের ঘোষণা না করেও তাঁর বিপদ ছিল। নির্বাচন ঘোষণা করেও ভদ্রলোক বিপদ ডেকে এনেছেন। আন্তর্জাতিকমহল থেকে তাঁর ওপর লাগাতার চাপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু হয়। ফেব্রুয়ারির ভোটের দিকে যে তাদের নজর থাকবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বাংলাদেশে নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশের অনেক আগে থেকেই কিন্তু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের শীর্ষপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে আসতে শুরু করেন। তাঁরা যেমন সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক করেছেন সে দেশের বিরোধী দলগুলির সঙ্গেও। এমনকী নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষকর্তার সঙ্গেও তাঁদের কথা হয়েছে। সব মিলিয়ে সরকার কিন্তু বেশ চাপে।
এই অবস্থায় বাংলাদেশের একটি দৈনিককে হাতিয়ার করেছেন তদারকি সরকার প্রধান। সম্প্রতি তারা একটি সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেখানে একটি প্রশ্ন ছিল বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের আর্থিক ও সামাজিক উন্নতির সম্ভাবনা কতটা? ৩৪.৪% হতাশ। খুবই হতাশ ১১.৩ %। অন্যদিকে, ৩১.৪ % অত্যন্ত আশাবাদী, অত্যন্ত আশাবাদী ৩.৯ %। দুইয়ে মিলে উত্তর দাড়ায় ৩৫.৩ %। আর হতাশ এবং খুবই হতাশ ৪৫.৭%। দুটো পরিসংখ্যান যোগ করলে দেখা যাবে এরা দুজনেই খুব কাছাকাছি। সেই জরিপে দেখানো হয়েছে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এখনও ইউনূসের ওপরেই আস্থা রাখছেন। জরিপে এটাও বলা হয়েছ, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ (মোট জনসংখ্যার ৪৩ %) মনে করছেন দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ মোটের ওপর বেশ ভালো। ২৯ % বলেছেন ‘খুবই ভালো’, ‘মোটামুটি ভালো’ বলেছেন ৪৩ শতাংশ মানুষ, সব মিলিয়ে ৭২ শতাংশ মানুষ দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।
এই জরিপ সরকারের তরফে করানো হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রথম কথা, যে কোনও জরিপের মার্জিনাল এরর খুব কম থাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’-য়ের মধ্যে মার্জিনাল এরর অনেকে বেশি। যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া হয়, এই জরিপ করা হয়েছে বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে , তাহলে যোগ করতে হয় ওটা বাস্তব নয়, পরাবাস্তব।
বাংলাদেশে পরিবেশ গণতন্ত্রের অনুকূলে থাকলে ভারত কেন, আমেরিকা বা আন্তর্জাতিকমহল উদ্বেগ প্রকাশ করতে না। গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকলে আওয়ীমা লীগকে নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটত না তদারকি সরকার। একটি গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন কমিশন স্বীকৃত সব রাজনৈতিক দলের অধিকার রয়েছে প্রচার-সমাবেশের। কিন্তু তদারকি সরকার কি আওয়ামী লীগকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে? দলটিকে শুধু নিষিদ্ধ ঘোষণা করেই থেমে থাকেনি। দলটি যাতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কোনওভাবেই অংশগ্রহণ করতে না পারে, তার জন্য পাকা ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
ইউনূস মহাজন ভেবেছিলেন এই পথে গেলে তাঁর সুবিধে হবে। সুবিধে তো হয়নি, উলটে প্যাঁচে পড়ে গিয়েছেন। জামায়াত এখন ফনা তুলতে শুরু করেছে। তারা চাইছে যে কোনও উপায়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছতে। সেটা না হলেও অন্তত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুর আশাপাশে যাতে থাকা যায়, তার জন্য তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অপর দিকে বাংলাদেশের একটি প্রথম সারির দৈনিক তদারকি সরকারকে নিয়ে যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, সেটা আসলে ইউনূসের চাল। রিপোর্ট দেখিয়ে দেশ তথা বিশ্ববাসীকে তদারকি সরকারের তরফে এই বার্তা দেওয়ার একটা চেষ্টা করা হল যে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এখনও ইউনূসের পাশেই রয়েছে।
এদিকে, ব্রিটেনের লর্ড সভার সদস্য আলেকজান্ডার চার্লস কার্লি বাংলাদেশের তদারকি সরকারকে একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনে অতীতে যে সব দল যে ভুলগুলি করেছিল, তদারকি সরকার যেন সেই ভুল না করে। করলে সেটা ব্যুমেরাং হয়ে ফিরবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post