গত সেপ্টেম্বরে হাসিনা দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছিলেন তিনি চট করে দেশে ঢুকে পড়তে পারেন। কিন্তু এক বছরে বাংলাদেশের রাজনীতি আমূল বদলে গিয়েছে। তদারকি সরকারের চোখে হাসিনা এবং তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আসামী। তদারকি সরকার সেই দণ্ডাদেশ কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর। সে কারণে তারা দিল্লিকে নোট ভার্বাল পাঠিয়েছে। দিল্লি তার জবাবে সামান্য কয়েকটি কথা খরচ করেছে। সাউথব্লকের তরফে বলা হয়েছে, তারা ঢাকার পাঠানো ওই নোট ভার্বাল খতিয়ে দেখছে। তারপর কিন্তু আর ঢাকার তরফে কোনও উচ্চাবাচ্য করা হয়নি। তদারকি সরকার একপ্রকার হাল ছেড়ে দিয়েছে। ধরে নিয়েছে, না তারা হাসিনাকে হাতে পাবে, না সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে। এদিকে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দিয়েছে। ভোট আগামী বছর ১২ ফেব্রুয়ারি। একই দিনে জুলাই সনদের ওপর নেওয়া হবে গণভোট।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বহু সংস্থার তরফ থেকে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জনমত সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়েছে। কোনও কোনও জনমত বলছে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের ভরসা ইউনূস। তারা চাইছে না আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরুক। যদিও অধিকাংশ জনমত সমীক্ষার ফলাফল বলছে, মানুষ এখনও আওয়ামী লীগের পক্ষে। দলটি একটি মিথে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরোধীদলের ক্ষেত্রে কাজ করে সিমপ্যাথি ভোট। সেই সিমপ্যাথী ভোটের দৌলতে বিএনপি কিন্তু ক্ষমতায় আসীন হয়েছিল। সেই সূত্র ধরে বলা যেতে পারে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে। দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারপরেও তারা কিন্তু নির্বাচনের জন্য নিজেদের অনেকটাই গুছিয়ে নিয়েছে।
বাংলাদেশের প্রথম সারির একটি দৈনিক একটি সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেই রিপোর্ট অনুসারে, দেশের মাত্র ২৮ % মানুষ নির্বাচন চায় না। অর্থাৎ ৭২ % মানুষ চাইছে, হাসিনার দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। সেটা শর্তে হতে পারে অথবা নিঃশর্তে। চিত্রটা একবছর আগে ছিল একেবারে অন্যরকম। জুলাই-অগাস্ট অভ্যুত্থানের পর অনেকেই ধরে নিয়েছিল, আওয়ামী লীগ সাইনবোর্ড হয়ে গেল। বৃহৎশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে বিএনপি। জামায়াতও মনে করেছিল তাদের সুদিন ফিরতে চলেছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত ঢুকে পড়ছে। আর তাতেই অবাক দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এদিকে, বিএনপি এবং জামাতের মধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে বাকযুদ্ধ। একে অপরকে তেড়ে গাল পাড়ছে। দুই দল বলছে, একে অপরকে বলছে যে তাদের মুখের ভাষার সঙ্গে আওয়ামী লীগের মুখের ভাষার মিল পাওয়া যাচ্ছে। তাদের এই বাকযুদ্ধ যা আগে দুই দলের নেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেটা এখন দুই দলের কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে কাদা ছোঁড়াছুড়ি। একে অপরকে ট্রোল পর্যন্ত করতে শুরু করেছে। এমনকী দুই দলের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে খণ্ডযুদ্ধে জড়িয়ে যান। রাজশাহী, পাবনা, চট্টগ্রাম, ঝিনাইদহ থেকে শুরু করে নরসিন্দিতে ঘটেছে সংঘর্ষ।
তবে শুরুটা হয়েছিল কিন্তু বিএনপির দিক থেকে। শুরু করেছিলেন মির্জাফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ১১ নভেম্বর তাঁর জেলার একটি সমাবেশে বলে বসেন, জামাত একটি মুনাফেকি দল। কিছুদিন আগে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বিএনপি-কে ইঙ্গিত করে তীব্র সমালোচনা করেন। ঠিক তার পরদিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জামাতের সমালোচনায় সরব হন। শফিকুর বলেন, ‘অনেকে আমাদেরকে কর্নারকে করার চেষ্টা করেন। বাংলাদেশ জামাতে ইসলামি যেহেতু কোর-আন কেন্দ্রিক একটি দল, সেই কারণে অন্য ধর্মের লোকেরা তাদের হাতে নিরাপদ হবেন না। আমি মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে চ্যালেঞ্জ নিলাম, ৫৪ বছরের স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলাদেশ জামাতে ইসলামির কোনও নেতা কোন অন্য ধর্মের লোকের ওপর জুলুম করেছে, জমি দখল করেছে, তার ইজ্জতের ওপর হাত দিয়েছে, তাঁর সম্পদ লুণ্ঠন করেছে সাহস থাকলে আমাদের বলে দিন।’












Discussion about this post