কিছুদিন আগে বাংলাদেশকে সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, সেখানে এতো কিছু ঘটে চলেছে। অথচ বঙ্গভবন থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে না কেন? বঙ্গভবনের বাসিন্দা কী নিজেকে গুটিয়ে নিলেন? বাংলাদেশজুড়ে চলতে থাকা নৈরাজ্যের প্রেক্ষিতে বঙ্গভবনের বাসিন্দা কেন হাত গুটিয়ে বসে রয়েছেন? একটি সরকারকে এক কলমের খোঁচায় রাস্তায় নামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা যে মানুষটার হাতে রয়েছে, তিনি কী করে এরকম আশ্চর্যরকম নীরব? সেই সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল এতোদিন বাদে। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু অবশেষে মুখ খুললেন। আর তাতে যমুনাভবনের বাসিন্দার বিপদ আরও বেড়ে গেল। কারণ মুখ খুলেছেন দেশের শাসনক্ষমতার শীর্ষপদে থাকা কোনও ব্যক্তি। কী বলেছেন সাহাবুদ্দিন সাহেব?
এককথায় গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ইউনূস সরকার তাঁর ওপর ক্ষমতার স্টিম রোলার চালিয়েছে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে যে সম্মানটুকু তাঁর পাওয়ার কথা ছিল, সেই সম্মান তো তাঁর কপালে জোটেনি। উল্টে ইউনূস এবং তাঁর গোয়ালঘরের বলদগুলো তাঁকে পদে পদে অপদস্থ করেছে। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া তাঁর একান্ত সাক্ষাৎকারের ছত্রে ছত্রে তা পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি চুপ্পু তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে ওই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকার। এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হচ্ছে রাষ্ট্রপতির মতামত।
‘আই অ্যাম কিন টু লিভ। আই অ্যাম ইন্টারেস্টেড টু গো আউট। আনটিল ইলেকশন আর হেল্ড, আই সুড কন্টিনিউ। আই অ্যাম আপহোল্ডিং মাই পজিশন বিকজ অব দ্য কনস্টিটিউশন হেল্ড প্রেসিডেন্সি। ইফ দে টেলমি দে প্ল্যান টু চুজ দেয়ার ওন প্রেসিডেন্ট, আই উইল স্টেপ অ্যাসাইড।’ বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, ‘রাষ্ট্রপতি পদে থাকার কোনও ইচ্ছে আমার নেই। আমি চলে যেতে চাই। কিন্তু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমায় আমার দায়িত্ব পালন করতেই হবে। কারণ, সংবিধানের প্রতি আমি দায়বদ্ধ। ওরা যদি বলে, তারা নিজেরাই তাদের পছন্দ মতো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে, তাহলে আমি ইস্তফা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’
রাষ্ট্রপতিভবন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এক রাতে যেভাবে তাঁর ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে তিনি শুধুমাত্র ক্ষুব্ধ নয়। ওই ঘটনায় তিনি যে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত, সেটাও ওই সাক্ষাৎকার থেকে হীরের দ্যূতির মতো স্পষ্ট। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘দেয়ার ওয়াজ দ্য পোট্রেট অব দ্য প্রেসিডেন্ট, পিকচার অব দ্য প্রেসিডেন্ট, ইন অল কনস্যুলেটস, এমবাসিস, অ্যান্ড হাইকমিশনস, অ্যান্ড দিস হ্যাজ বিন এলিমিনেটেড সাডেনলি ওয়ান নাইট। আ রং মেসেজ গোজ টু দ্য পিপল দ্যাট পারহ্যাপস দ্য প্রেসিডেন্ট ইজ গোয়িং টু বি এলিমিনেটেড। মাই ভয়েস ওয়াজ স্টিফলেড। ’
বোঝা গেল এক রাতের ঘটনায় তাঁকে কতটা ব্যথিত করেছে। সেই সঙ্গে তিনি এও বলেন, ছবি সরিয়ে ফেলা প্রসঙ্গে তিনি ইউনূসকে চিঠি লিখেছিলেন। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একজন সরকার প্রধান যে কতটা শয়তান ও স্বৈরাচারী হতে পারে, ইতিহাস তার সাক্ষী। ইউনূস তাদের সকলকে ছাপিয়ে গিয়েছেন। ওই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপিত চুপ্পু বলেছেন,
প্রায় সাত মাস হল সরকার প্রধান ইউনূস তাঁর সঙ্গে একবারের জন্য সাক্ষাৎ করেননি। তাঁর প্রেস ডিপার্টমেন্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছে। চুপ্পু বলছেন, সেনাপ্রধান ওয়াকারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। সেনাপ্রধান তাঁকে এই বলে আশ্বাস দিয়েছেন যে তারা ক্ষমতা দখল করবে না। তিনি চাইছেন দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসুক। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অনেকেই তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গে তাঁর প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে, রাষ্ট্রপতি বলেন, শুরুতে কিছু আন্দোলনকারী পদত্যাগের দাবি করেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি কোনও রাজনৈতিক দলের তরফ থেকে তাঁর পদত্যাগ দাবি করা হয়নি।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post