মিছিলের ভিডিও উইথ সাউন্ড….
‘আসিফের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘দালালি আর করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’, ‘সিন্ডিকেটের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’- এরকমই সব স্লোগানে এদিন চমকে গেলেন ঢাকার মিরপুর স্টেডিয়ামের আশেপাশের লোকজন। এই স্লোগানিং, বিক্ষোভ যাকে নিয়ে তিনি সদ্য পদত্যাগ করা বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। বলা ভালো শুক্রবার আসিফের বিরুদ্ধে মিছিল স্লোগাণে উত্তাল ঢাকা। আদতে কোনও রাজনৈতিক দলই নিতে চাইছে না বাংলাদেশের সদ্য প্রাক্তন এই উপদেষ্টাকে! এদিন মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে জমায়েত হওয়া জনতা সদ্য পদত্যাগ করা উপদেষ্টা আসিফের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করার দাবি তুলেছেন। পাঁশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে যাবতীয় অভিযোগের তদন্তের দাবিও জানানো হয়। অর্থাৎ, বোঝাই যাচ্ছে, চরম বিপাকে পড়েছেন প্রাক্তন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। কেন তাঁর এই অবস্থা? সেটা নিয়েও চলছে জোরদার চর্চা।
জানা যায়, এদিন আসিফের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে বহিষ্কৃত মুনতাসির মাহমুদ। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতেও রাজধানীর বাংলামোটরে একই দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছিল। মজার বিষয় হল সেদিনের মিছিলের ব্যানারে আয়োজক হিসেবে লেখা ছিল ‘তৃণমূল এনসিপি’। এর অর্থ, এনসিপিতে ইতিমধ্যেই ভাঙন শুরু হয়েছে। সেটা অন্য বিষয়, তবে আসিফের ভবিষ্যৎ কি সেটা নিয়েই চলছে মূল আলোচনা। যদিও ফেসবুকে এক ভিডিও পোস্ট করে আসিফ নিজের অবস্থার স্পষ্ট করেছেন। তিনি যে এখনই কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন না, তবে তিনি ঢাকা-১০ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন সেটাও স্পষ্ট করেছেন।
গত বছর গণঅভ্যুত্থানে যে যে ছাত্র নেতারা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছিল তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারে প্রথম থেকেই তিনি উল্লেখযোগ্য পদ পান। পরে তাঁর পদের ওজন আরও বাড়ানো হয়। অভিযোগ, ক্ষমতায় এসেই আসিফ ঢাকার সচিবালয়ে মৌরসীপাট্টা চালু করেন। সচিবালয় থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পদন্নোতি থেকে শুরু করে বদলির আদেশ সবকিছুতেই তাঁর একটা ভূমিকা ছিল। এমনও অভিযোগ ওঠে, আসিফ এবং কয়েকজন একটি সিন্ডিকেট চালু করে দিয়েছিলেন। কোটি কোটি টাকা নিয়ে পদন্নোতি দিত ওই সিন্ডিকেট। আয়ের থেকে বেশি সম্পত্তির অভিযোগে আসিফের সহকারীকেও গ্রেফতার করে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে আসিফকে নিয়ে কোনও তদন্ত হয়নি। ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ যাওয়ার আগে তাঁর ব্যাগে রাইফেলের কার্তুজ পাওয়া নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি। এবার নানা টালবাহানার পর উপদেষ্টা আসিফ পদত্যাগ করেন। কিন্তু তাঁকে কোনও রাজনৈতিক দলই নিতে রাজি নয়। এই আবহেই তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ, মিছিল হতে শুরু করেছে। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোটে দাঁড়ালেও তাঁর জেতা যে কঠিন হয়ে পড়ছে সেটা অনুমান করাই যায়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post