অনিচ্ছায় হোক বা আন্তর্জাতিক চাপ – বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিল সে দেশের আগামী নির্বাচনের নির্ঘণ্ট। বৃহস্পতিবার সে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসিরুদ্দি জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে জুলাই সনদ নিয়েও গণভোট নেওয়া হবে। ভোটপর্ব শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে, চলবে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত। ওই দিন রাতেই শুরু হবে গণনা। বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে একটাই প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করছে। সেটা হল ভারত সহ আন্তর্জাতিক মহল এই নির্বাচন নিয়ে তদারকি সরকার প্রধানকে যে বার্তা দিয়েছিল, অর্থাৎ অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন – সেটা কি বাংলাদেশের তদারকি সরকার অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে পারবে? একটি প্রতিশ্রুতি কিন্তু পালন করতে সক্ষম হয়েছেন ইউনূস। সেটা হল তিনি গত ৫ অগাস্ট বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হচ্ছে। সেটা তিনি পালন করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু শুধু ঘোষণা করলেই তো একটা সরকারের দায়িত্ব পালন সম্পূর্ণ হয় না। গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হওয়ার মধ্যে দিয়ে একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়। সে ক্ষেত্রে ইউনূস কতটা সফল হবেন, সেটাই দেখার। তিনি কিন্তু এটাও বলেছিলেন, ভোট হবে উৎসবমুখর পরিবেশে। তিনি দেশবাসীকে একটা অসাধারণ নির্বাচন উপহার দিতে চলেছেন। সেটা আদৌ সম্ভব হবে। এটা নিয়ে কি মানুষের মনে কোনও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আছে? এই ফাঁকে নির্বাচনের টাইমলাইনের দিকে একবার তাকিয়ে দেখা যাক।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর।
মনোনয়নপত্র ঝাড়াই-বাছাই শুরু হবে পরের দিন ৩০ ডিসেম্বর থেকে, চলবে নতুন বছরের জানুয়ারির মাসের ৪ তারিখ পর্যন্ত।
মনোনয়ন নিয়ে যদিও কারও কোনও বক্তব্য থাকে, তাহলে তাঁকে ১১ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে জানাতে হবে।
১২ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে সেই সব কিছুর নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।
প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি।
এর পরে ২১ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন প্রতীক বরাদ্দ করবে।
২২ জানুয়ারি থেকে সরকারিভাবে শুরু হবে প্রচার, প্রচার শেষ হবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭ টায়।
১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ পর্ব, চলবে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত।
ওইদিন রাতেই শুরু হবে গণনা।
প্রবাসীদের জন্য রয়েছে পোস্টাল ব্যালটের সুবিধে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুসারে, তিন লক্ষের বেশি প্রবাসী ভোটার তাদের নাম নিবন্ধন করেছেন।
প্রচার অনেক আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে। হাসিনার সাক্ষাৎকার, তারেক রহমানের বিবৃতি তো সেই সব প্রচারের অঙ্গ। শহর থেকে শুরু করে গ্রামে শুরু হয়ে গিয়েছে দেওয়াল লিখন। নানা প্রান্তে শুরু হয়েছে সভা-সমাবেশ।
ইউনূস কিন্তু আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট হবে। এনসিপি কিন্তু জুলাই সনদে সাক্ষর করেনি। শেষ মূহূর্তে তারা পিছিয়ে আসে। কীভাবে নির্বাচন হবে, সেটাই কিন্তু বড়ো প্রশ্ন। তদারকি সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসবমুখর করতে তারা বদ্ধপরিকর। ইউনূস সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়.।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post