বাংলাদেশের প্রথম সারির জুলাই জঙ্গি তথা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে জুলাই জঙ্গি উত্থান পরবর্তী অশ্রাব্য ভাষার প্রচলন ঘটিয়েছে এই ওসমান হাদি। চরম উগ্রপন্থী মনোভাবের একজন এই ওসমান হাদি। আওয়ামীলীগকে অনবরত অশ্রাব্য ভাষায় আক্রমণ থেকে শুরু করে আওয়ামীলীগের সকল নেতা – কর্মীরা যাতে রাস্তায় নামতে না পারে তার জন্য রাত জেগে পাহারা দেওয়া সহ লীগ ধর লীগ পেটা এধরণের স্লোগান সহ নানান ধরণের কুরুচিকর কথা মুক্ত মঞ্চে জনসমুক্ষে দাঁড়িয়ে তাকে বারেবার বলতে শোনা যায়। এই ওসমান হাদিই গুলিবিদ্ধ হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ২৪ ঘন্টার মধ্যে শুক্রবার দুপুরে ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি জুম্মার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকার কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন। মোটরসাইকেলে করে আসা দুই জন ওসমান হাদির মাথায় গুলি চালায়। তৎক্ষণাৎ তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যায় হাদির অস্ত্রোপচার শুরু হয়। এরপর তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছিলেন ওসমান হাদি।
ঘটনায় ওসমান হাদির সাথে থাকা একজন প্রত্যক্ষদর্শী মির্জা আব্বাসকে সরাসরি নিশানা করে জানিয়েছেন, এই গুলি করেছে বিএনপি। কারণ, হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করার জন্য মনোনিবেশ করেছে। যেটি মির্জা আব্বাসের আসন।
এখন প্রশ্ন হল, মির্জা আব্বাস কী গুলি করিয়েছে হাদিকে মির্জা আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বীকে গুলি করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিএনপি নাকি জামাত শিবির বিএনপিকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করে হাদিকে হত্যার চেষ্টা করেছে এ ধরণের প্রশ্ন ঘুরলেও জামাত আর বিএনপি কিন্তু বলছে অন্য কথা। তারা দোষ দিচ্ছে আওয়ামীলীগকে। তারা বলছে, এই কাজ করেছে আওয়ামীলীগ। নির্বাচন উত্তপ্ত করার জন্য আওয়ামীলীগ হাদিকে গুলি করেছে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা অন্য। বাংলাদেশে একমাত্র নির্বাচন চায় না জামায়াত – ই – ইসলামী। সেক্ষেত্রে জামাতই যে হাদিকে গুলি করেনি তার কোনও নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। জুলাই উত্থানের সময় যে সকল ষড়যন্ত্রকারীরা জামাতের পক্ষে কথা বলেছিল, স্নাইপার দিয়ে সাধারণ মানুষকে আক্রমণ করেছিল জামাতের হয়ে সেই স্নাইপারেরই একজন জঙ্গি কয়েকদিন আগেই বলেছিল, ফুয়াদ কে মারা হয়েছে এবার নেক্সট টার্গেট হাদি।
মনে করা হচ্ছে, আসল গেমটা খেলেছে জামাত। কারণ, ঢাকার আসনে জামাতের প্রার্থী সাদেক কায়েম। সাদিক কায়েমকে জয়ী করতে গেলে মুকাবিলা করতে হবে মির্জা আব্বাসের। ষড়যন্ত্র করে যদি মির্জা আব্বাসকে হারানো যায় সেক্ষেত্রে সাদেক কায়েম সহজেই জয়ী হবে। সাধারণ জনগণের চোখে যদি মির্জা আব্বাস ভিলেন হয়ে যায় এবং অন্যদিকে হাদির প্রতি মানুষের সমবেদনা কাজ করায় মানুষ সেই জায়গায় সাদিক কায়িমকে নির্বাচিত করবে। সাদিক কায়েম সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন – ওসমান হাদিকে গুলি করা হল। চাঁদাবাজ ও গ্যাংস্টারদের কবল থেকে ঢাকা সিটিকে মুক্ত করতে অচিরেই আমাদের অভ্যুত্থান শুরু হবে। রাজধানীর ছাত্র – জনতাকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। সাদিক কায়েমের এই পোস্টটি সকল জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দিচ্ছে যে কাজটা তারাই করেছে।












Discussion about this post