২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন এক তথাকথিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। এরপরই বাংলাদেশের সংসদ ভেঙে দিয়েছিলেন সে দেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। হাসিনা অধ্যায়ের পর তিনিই শেষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে অবশিষ্ট রয়েছেন। ৭৫ বছর বয়সী শাহাবুদ্দিন চুপ্পু ২০২৩ সালে হাসিনার আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাঁচ বছরের জন্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। অর্থাৎ, তাঁর কার্যকালের মেয়াদ রয়েছে সেই ২০২৮ সাল পর্যন্ত। কিন্তু তিনি সম্প্রতি সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, নির্বাচনের পরই তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। ওই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সে দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়েও কয়েকটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি দাবি করেছেন, তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর দাবি, ২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বিক্ষোভের সময় একপাশে দাঁড়িয়েছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার। অর্থাৎ, তিনি প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়াননি বলেই মত দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর কথায়, এটাই প্রবীণ রাজনীতিকের ভাগ্য নির্ধারণ করেছিল। তবে রয়টার্সকে তিনি এই দাবিও করেছেন, বাংলাদেশের ক্ষমতা দখলের কোনও ইচ্ছা ছিল না সেনাপ্রধানের। যদিও বাংলাদেশের সামরিক শাসনের ইতিহাস রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতির দাবি, জেনারেল ওয়াকার নাকি বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে পেতে চান। তবে এই সমস্ত মন্তব্য নিয়ে বাংলাদেশে যত না চর্চা হচ্ছে, তার থেকেও বেশি চর্চা চলছে রাষ্ট্রপতির সাথে সেনাপ্রধান এবং তিনবাহিনীর প্রধানের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে। এই আলোচার কেন্দ্রে রয়েছে একটাই বিষয়, এই মুহূর্তে যে দুজন প্রধান ব্যাক্তি, যারা শেখ হাসিনার আমলে নিজেদের পদে এসেছিলেন। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি এবং সেনাপ্রধান দুজনই হাসিনার আমলে নিয়োযিত হয়েছিলেন। ফলে তাঁদের পদ থেকে সরাতে বিগত পনেরো মাসে বাংলাদেশে কম চেষ্টা হয়নি। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সেটা নিয়েই বলতে চেয়েছেন বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, যদিও কিছু ছাত্র বিক্ষোভকারী প্রাথমিকভাবে তাকে পদত্যাগ করার দাবি জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে কোনও রাজনৈতিক দল তাকে পদত্যাগ করতে বলেনি।
অন্যদিকে শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিনিধি তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, ২০ বছর ধরে শাসন করা হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন কিনা। এর উত্তরে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু কোনও উত্তর দিতে অস্বীকার করেছেন। তিনি শুধু বলেছেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে তিনি স্বাধীন ছিলেন, কোনও দলের সাথে যুক্ত নন। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, এটা ছিল তাঁর কূটনৈতিক জবাব। অর্থাৎ, তিনি হাসিনা প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করে বিতর্কে জড়াতে চাননি। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, রাষ্ট্রপতির এই সাক্ষাৎকারের পিছনে নির্দিষ্ট একটি পক্ষের নির্দেশ রয়েছে। প্রকারন্তরে সকলে ভারতের দিকেই অভিযোগের আঙ্গুল তুলছেন। কারণ, রয়টার্সের প্রতিনিধি নয়া দিল্লি থেকেই এই সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হোয়াটসঅ্যাপে। এ ক্ষেত্রে ভারতের তরফে কোনও ভাবে যোগাযোগ করার পরই তিনি এই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। বলা হচ্ছে, এই সাক্ষাৎকারে তিনি যেভাবে মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর সরকারের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। তাঁর ক্রমাগত অপমান এবং অবহেলা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তুলেছেন। রয়টার্সের মাধ্যমে এই বিষয়গুলি এখন একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র খবর করেছে। তাতে অবশ্যই ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের। এটাই ছিল মূল পরিকল্পনা। যা এখন অনেকটাই সফল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post