গুলিবিদ্ধ ইনকিলাম মঞ্চের মুখপাত্র তথা ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি। তাঁর বাঁচার সম্ভাবনা নিয়ে কিছু নিশ্চিত করে বলতে পারছে না চিকিৎসকরা। এরমধ্যে যে তথ্য সামনে এসেছে সেটা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। হাসনাত আব্দুল্লাহ নাকি সারজিস আলম নাকি আখতার হোসেন, কে হতে যাচ্ছে পরবর্তী টার্গেট? এমন একটি ষড়যন্ত্রের কথা বলা হচ্ছে, যেটা হাড়হিম করা তথ্য। এমনকি হাদিকে খুন করার চেষ্টার অভিযোগের মধ্যে দাউদের নাম উঠে আসছে। ইনি দাউদ ইব্রাহিম নয়, এর নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। তার নামই জড়িয়েছে এই হাদি কাণ্ডে।
গত ১১ই ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তারপরের দিনই গুলি করা হয়েছে শরীফ ওসমান হাদিকে। ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে সিসিটিভি ফুটেজ। যেখানে দেখা যাচ্ছে, দুই আততায়ী বাইকে চড়ে এসে ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। তবে এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি টেস্ট কেস মাত্র। হাসপাতালে জীবন মরণের সঙ্গে লড়াই করছেন হাদি। তাঁকে এয়ার এম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন, কেন টার্গেট হলেন হাদি? বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়,
বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাড়ি ভাঙার সঙ্গে যাদের নাম জড়িয়েছে, তাদের নামও রয়েছে এই তালিকায়। সবচেয়ে বড় বিষয় হল, হাদির উপর হামলার আগেই তিনি নিজেই জানতেন, তাঁর জীবন বিপন্ন। তিনি পোস্ট দিয়ে জানিয়েছিলেন, তিনি শহীদ হতে প্রস্তুত। এমনকি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও কথা বলেছেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। এখন প্রশ্ন, দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি কি ঘুমাচ্ছিল? জানা যাচ্ছে, তারা সব জানত। গত সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক বাংলাদেশী আইনজীবী, তিনি সরকারের কাছে একটি গোপন তথ্য দেন। তাঁর কাছে কিছু গুরুত্বপুর্ণ তথ্য ছিল। সেই তথ্যের মধ্যে ছিল, জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের মধ্যে কিছুজনকে হত্যার পরিকল্পনা চলছে। এই তথ্য তিনি শুধু গোয়েন্দা সংস্থাকে দেননি। তিনি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জানিয়েছিলেন। এমনকি ওই আইনজীবী কিছু জনের সঙ্গে বৈঠক করে সতর্ক করেছিলেন। হাদির উপর হামলার পর চারদিক তোলপাড়, তখন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। এমনকি পুলিশ বলছে, তারা কিছুই জানতেন না। অথচ একজন ব্যক্তি, যিনি সেপ্টেম্বর মাস থেকে সতর্ক করছেন। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি সরষের মধ্যেই ভূত? সূত্র বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে। জানা যায়, জুলাই যোদ্ধাদের বডি গার্ড দেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। কিন্তু জুলাই যোদ্ধারা জানিয়েছিলেন, তারা বডি গার্ড নিয়ে ঘুরলে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। এই সিদ্ধান্তই কি কাল হয়ে দাঁড়ালো? এই প্রশ্নও উঠছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হামলার পিছনে দুটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত প্রতিশোধ। জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের শেষ করা। কিন্তু সেটা আওয়ামী লীগের উপর আঙুল উঠছে। কিন্তু প্রশ্ন, যেখানে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ শূন্য, সেখানে কীভাবে আওয়ামী লীগ এই কাণ্ড ঘটাতে পারে? তবে যে দাউদ খানের কথা উঠে আসছে, সেই তথ্য অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। কে এই দাউদ খান?জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামন খান কামাল এবং জাহাঙ্গীর কবীর আলমের খুব কাছের লোক এই দাউদ। সেই কারণোই নাকি তাকে বেশিদিন জেলে আটকে রাখা যানি। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই হাদির ঠেকে যাওয়া আসা শুরু হয় বলে খবর। সমাজমাধ্যমে একটি ছবিও ভাইরাল হয়। যদিও নিউজ বর্তমান সেই ভাইরাল ছবির সতত্য যাচাই করেনি। তবে এখন দাউদ কোথায় রয়েছে, কি খবর, তার সঠিক তথ্য জানা যায়নি। এখন দেখার, বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকার এই হাদি কাণ্ডের সুরাহা আদেও করতে পারে কিনা। সরকারের কাছে তথ্য ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে, অথচ কেন কোনও সতর্কতা অবলম্বন করা হল না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে।












Discussion about this post