বাংলাদেশে ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি। অন্তত নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা সে কথাই বলছে। ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। গত বৃহস্পতিবার ১১ ডিসেম্বর বিকেলে জাতির উদ্দেশ্য দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এএমএম নাসিরউদ্দিন বলেন,‘এ বারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লক্ষের বেশি। অনাবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এখনও তিন লক্ষের বেশি প্রবাসী ভোটার ভোট দেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করেছেন। ’ ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট। ওই দিন রাতেই শুরু হবে গণনা।
এতো গেল খাতা-কলমের কথা। কিন্তু যে প্রশ্নটা ঘুরতে শুরু করেছে, তা হলে বাংলাদেশে আদৌ ভোট হবে? প্রশ্ন ওঠার কারণ হাদি। কে বা কারা পয়েন্টব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হাদি ভর্তি বাংলাদেশের এভারকেয়ার হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর অবস্থা গভীর সংকটজনক। দলের তরফে বলা হয়েছে, হাদি সুস্থ হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু হাদিই কি শেষ? না কি ওই কে বা কারা-দের হিট লিস্টে আর কতজন হাইপ্রোফাইল নেতা বা নেত্রী রয়েছেন, আগামীদিনে যাদের কপাল বা বুক ফুঁড়ে বেরিয়ে যাবে বুলেট ? নির্বাচন কমিশনার নাসিরুদ্দিন জানিয়েছে, এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। নির্বাচনে এর কোনও প্রভাব পড়বে না। বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহলের একাংশের মতে, হাদি আসলে টার্গেট কিলিংয়ের শিকার। তাকে দিয়ে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন বানচাল করার প্রক্রিয়ার সূচনা হল।
কাকতালীয়ভাবে গত ৯ ডিসেম্বর গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এক ধরনের চক্রান্ত রয়েছে যে, যারা নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে- এরকম ৫০ জন প্রার্থীকে টার্গেট কিলিং করা হবে। আমি এমন তথ্য পেয়েছি। আরও তথ্য পেয়েছি যারা প্রার্থী রয়েছেন, তাদের গুপ্তহত্যা করার প্ল্যান আওয়ামী লীগের রয়েছে। এভাবে নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত তাদের রয়েছে। ’ জোরের সঙ্গে রাশেদ বলেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচন কেউ বানচাল করতে পারবে না। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচন হবে এবং নির্বাচন আদায় করে নিতে হবে।’
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাশেদ বলেন, ‘আমরা যারা প্রার্থী রয়েছি, আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। আমি যেখানে… আসলে সমাবেশ করি, আমি কিন্তু প্রশাসনকে অবহিত করি। এখন প্রশাসন যদি মনে করে যে রাশেদ খানের নিরাপত্তা লাগবে না, তাহলে তো আমার কিছু করার নেই। কিন্তু আমি যেহেতু প্রশাসনকে সব সময় অবহিত করি, আমি পুলিশকে জানাই, এসবিকে জানাই, ডিজিএফআইকে জানাই, আমি… মানে যাদরকে জানানোর দরকার তাদেরকে জানাই। ’
একটা বিষয় বেশ লক্ষ্য করার মতো, হাদিকে গুলি করা হয়েছে গত শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর। আর তার ঠিক তিনদিন আগে রাশেদ খানের মুখ থেকে শোনা গিয়েছিল চাঞ্চল্যকর বয়ান। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি রাশেদ খান আগাম জেনে গিয়েছিলেন, দুষ্কৃতীদের নিশানায় কোন পঞ্চাশজন নেতা রয়েছে। কথা বলেছেন, তারেক রহমানের প্রসঙ্গেও। তাঁর জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে রাশেদের পাল্টা প্রশ্ন – ‘এখন কি তারেক রহমানের নিরাপত্তা লাগবে না? শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, আজকে যদি তারেক রহমান একই ধরনের নির্মম পরিণতি ভোগ করতে হয়, তাহলে বাংলাদেশ নিয়ে যে ধরনের ভারতীয় ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন বিদেশি চক্রের ষড়যন্ত্র হয়েছে সেগুলো সফল হয়ে যাবে। সুতরাং, তাঁর নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। ’












Discussion about this post