এটাই প্রত্যাশিত ছিল। কী প্রত্যাশিত ছিল, সেই বিষয়ে যাওয়ার আগের পর্বটুকু একটু দেখে নেওয়া যাক।
মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অপরাধে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে সে দেশের ক্যাঙ্গারু আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। হাসিনা রয়েছেন দিল্লিতে। অনুমান তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও ভারতে রয়েছেন। তাঁকে ফিরে পেতে চেয়ে ঢাকা নোট ভার্বাল পাঠায়। একবার নয় তিনবার। প্রতিবার দিল্লির জবাব ছিল- ইট ইজ বিইং এগজামিনড। নোট ভার্বাল খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঢাকার বুঝতে অসুবিধে হয়নি যে হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালকে দিল্লি তাদের হাতে তুলে দেবে না। কিছুদিন আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার তৌহিদ হোসেনের বয়ান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে তদারকি সরকার রীতিমতো হতাশায় ডুবে গিয়েছে। দিন কয়েক আগে তিনি বলেন,নোট ভারবাল (কূটনৈতিক পত্র) আমাদের মিশনের মাধ্যমে ওদের (ভারতের) পররাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে। কোনো উত্তর আসেনি। এত তাড়াতাড়ি উত্তর আশাও করি না আমরা।’
এরপর শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য ভারতকে তৃতীয়বারের মতো চিঠি দেয় বাংলাদেশ। চিঠিতে বলা হয়, বিস্তারিত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছেন। আদালত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য ভারতকে পুনরায় অনুরোধ জানাচ্ছে। দিল্লি প্রথম থেকেই চুপ ছিল। তাই তৃতীয় চিঠির প্রেক্ষিতে সাউথব্লক স্পিকটি নট নীতি অনুসরণ করে।
এবার একেবারে দিল্লির সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে গেল বাংলাদেশ। সরাসরি দিল্লির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছে, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন বানচাল করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে দিয়ে বাংলাদেশে সন্ত্রাসে উস্কানি দিচ্ছে। রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণব বর্মাকে তলব করে এই অভিযোগ এবং এই নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক। পরে এ দিনই প্রেস নোটে সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা তাঁর সমর্থকদের সন্ত্রাসে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়ে নিয়মিত উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলছেন, যা বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুতর হুমকি বলে মনে করে ঢাকা।
ঢাকা এই প্রেস নোট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দিল্লি পাল্টা এবং আরও কড়া বিবৃতি জারি করে। প্রেস নোটে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের এই দিনের প্রেস নোটের বক্তব্য ভারত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রত্যাখ্যান করছে। ভারত যে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য একটা নির্বাচন চায়, সেই কথা আমরা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছি। বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতীম জণগনের স্বার্থের পরিপন্থী কোনও কাজে ভারতের ভূখণ্ড কখনই ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। ’ ওই বিবৃতিতে সাউথব্লক আরও জানিয়েছে, ভারত সবসময় বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে। এ বিষয়ে ভারত সরকার যে ধারাবাহিক ভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে আসছে, তা-ও জানানো হয়েছে দিল্লির বিবৃতিতে। সাউথব্লক স্পষ্ট করে দিয়েছে, ‘বাংলাদেশের বন্ধুবৎসল জনতার স্বার্থবিরোধী কোনও কাজে কখনই ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। আমরা আশা করি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে। শান্তিুপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সমস্ত রকম পদক্ষেপ করবে। ’ হাইকমিশনার প্রণয় বর্মাও বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রককে জানিয়ে দেন, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ভোট হোক, এমন প্রত্যাশা করছে ভারত এবং এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতাও করতে দিল্লি প্রস্তুত।
বস্তুত, রবিবারই এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতীয় দূতকে তলব নিয়ে মন্তব্য করেছে। বিবৃতিতে তারা বলেছে, “ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেছে। হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে যে ভারতে অবস্থানকারী পলাতক অপরাধী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের শান্তি স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বিঘ্ন করা ও আসন্ন নির্বাচন বানচাল করার অসাধু উদ্দেশ্যে ক্রমাগত ভাবে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন ও তাঁর দলের সমর্থকদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানোর জন্য নির্দেশনা দিচ্ছেন।












Discussion about this post