দায়িত্বের সঙ্গে তিনি গণতন্ত্রকে কবরে পাঠিয়েছিলেন। জনগণের শাসন শুধুমাত্র খাতা-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল। এবার সেই খাতা আর কলমটি কেড়ে নিলেন শান্তির দূত। যে সব গণমাধ্যমকে তিনি টাকা দিয়ে কিনতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন, এবার সেই সব গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে তিনি তাঁর নিজের তৈরি ন্যায়দণ্ডে দণ্ডিত করতে শুরু করেছেন। দানবীয় কালা কানুন সন্ত্রাসবিরোধী ধারায় শুরু হল গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ধড়পাকড়। এক সাংবাদিককে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সাম্প্রতিক অতীতে বিভিন্ন টকশোতে সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছিলেন। সরকারের নানা কাজের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন। এমনকী ভরা আদালতে দাঁড়িয়েও বলিষ্ঠ কণ্ঠে তিনি তাঁর কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
তাঁকে বলতে শোনা গেল, ‘আমি একজন সাংবাদিক। আমি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করি। সেটা যুগ যুগ ধরে করে এসেছি। বেগম খালেদা জিয়ার আমলে করেছি, শেখ হাসিনার আমলে করেছি, ড. ইউনূসের আমলেও করেছি। এর পরবর্তীতে যারা আসবে, তাদের সময় করব। এটা আমার জব। আমার জব কারও নতজানু হওয়া না।…এখানে আমাকে যারা সরকারের গোলাম বানাতে চায়, নির্দিষ্ট দলের গোলাম বানাতে চায়, এটা তাদের সমস্যা। আমার ফেসবুকে সব বক্তব্যই দেই। টক শোতে যে কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ, আমার পছন্দ সেগুলো আমি দেই। এখান অপ্রকাশিত নেই কোনও কিছু আমাকে প্রশ্ন করা হবে। ড. ইউনূসের বাড়ি, গ্রামীণ ব্যাংকে আক্রমণ হওয়ার কথা বলেছি। কোন প্রেক্ষিতে বলেছি, সেটা দেখতে হবে। আর এটা তো কথার কথা বলা। যখন প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য ৩২ নাম্বার বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যখন প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু হয়। তখন এটা চলতেই থাকবে। আজকে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। কিছুক্ষণ আগেও আপনি যে বিচার করেছেন, সেগুলো প্রতিহিংসার প্রতিহিংসা। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে পড়ে গিয়েছি। আমরা যারা জুলাই আন্দোলন করেছিলাম, যে ব্যক্তিবর্গ এ আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলাম, শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবি করেছিলাম। সে আনিস আলমগীর। তাঁর আজকে অন্যদের কাছে জুলাইয়ের স্পিরিটের গল্প শুনতে হয়। কীভাবে দেশ চলবে সেটা আমাদের শেখানো হয়। ’
এমন জোরাল কণ্ঠ যাঁর, তাঁকে জেলের ভাত না খাওয়ালে কী করে সুখনিদ্রা দেবেন ইউনূস সাহেব। তাই, তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রপলিটন আদালতে সোমবার তাঁকে পেশ করা হল সরকারের তরফে এক সপ্তাহের রিম্যান্ড চাওয়া হয়েছিল। বিচারক অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের এজলাস আনিসকে পাঁচদিনের রিম্যান্ড দিয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় সাদা মাইক্রোবাসে ডিবি কার্যালয় থেকে তাঁকে সিএমএম আদালতের চতুর্থতলার ৫ নং কোর্টের এজলাসে ওঠানো হয়। আদালতে পেশ করার সময় পরনে ছিল বুলেট নিরোধী জ্যাকেট। মাথায় হেলমেট। হাতে হাতকড়া।
আনিস আলমগীরের গ্রেফতারির নিন্দায় সরব হয়েছেন সুশীল সমাজ। সরব বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংবিদকেরা। টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ড. আখতারুজ্জামান বলেছেন, ‘যে যুক্তিতেই আটক করা হোক না কেন, এটি প্রশ্নবিদ্ধ। সরকার ভুল বার্তা দিচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মুক্ত গণমাধ্যম, বাকস্বাধীনতা ও ভিন্নমত দমনে অব্যাহত বলপ্রয়োগ, আইনের অপপ্রয়োগ ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অপব্যবহারের দায় অন্তর্বর্তী সরকার কোনওভাবেই এড়াতে পারেন না। ’ গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। সংগঠনের তরফে বিবৃতি প্রকাস করে বলা হয়েছে, ‘এ ধরনের আচরণ অতীতের স্বৈরাচারী শাসনামলে সাংবাদিকদের প্রতি রাষ্ট্রীয়-দমন পীড়নের স্মৃতি উসকে দেয়। একজন সাংবাদিককে অভিযোগ ছাড়াই ডিবি কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া, সেখানে আটকে রাখা, পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার দেখানো কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post