প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের করে। আর য়াকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে, সে ছিল রিকশায়। প্রতি শুক্রবারের মতো গত শুক্রবার ১২ ডিসেম্বর জুম্মার নমাজ শেষ করে ফিরছিল। রিকশা কিছুটা দূরে যেতেই এক দুষ্কৃতী তাঁর মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। রিকশাতেই লুটিয়ে পড়ে সে। তাঁর ঠিক পিছনের রিকশায় ছিলেন এক অনুগামী। তিনি দ্রুত ওই গুলিবিদ্ধ তরুণকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন। তখনই খবর ছিল, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। রাখা হয় আইসিসিইউতে। চিকিৎসায় কিছুটা সাড়া পাওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হল, তাঁকে যারা গুলি করেছে, তারা কোথায়?
পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয় পদ্মাপারের প্রতিবাদী মুখ শরিফ ওসমান হাদিকে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে. হাদির যে রিকশা চেপে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিলেন, সেই রিকশার পিছনে পিছনে চলছিল একটি মোটরবাইক। চালকের পিছনে বসে ছিল আততায়ী। মোটরবাইক গতি দ্রুত বাড়ালে পিছনের সিটে বসে থাকা আততায়ী হাদির কপাল লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চম্পট দেয়। র্যা ব একজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম কবির ওরফে ধাতভাঙ্গা কবির। তাঁকে নারায়ণগঞ্জের ফাতুল্লাহ থেকে গ্রেফতার করে র্যাফব। কিন্তু দুই পাণ্ডা কোথায়?
এই দুই পাণ্ডার নাম শুটার দাউদ খান এবং বাইক চালক আলমগীর হোসেন। একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে গিয়েছে। তারা রয়েছে গুয়াহাটিতে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে এই দুই মতিঝিল থেকে সিলেটগামী একটি ট্রেনে ওঠে। অপারেশনের পর তারা একঘণ্টার জন্য তাদের মোবাইল বন্ধ করে। পরে যখন মোবাইল সুইচঅন করে তখন দেখা যায়, দাউদ এবং আলমগীর রয়েছে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে। বাংলাদেশের একটি টেলিভিশন চ্যানেল পেয়েছে এই দুইয়ের গতিবিধির একটি ফুটেজ। সেই ফুটেজে দেখা যায়, তারা সিলেট যাওয়ার একটি ট্রেনে উঠেছে। বসে রয়েছে জানালার পাশে। গুলি করার সময় যে পোশাক তারা পরেছিল, সেই পোশাকেই তারা ট্রেনে চেপে বসে। গোয়েন্দারাও পেয়েছে একটি সিসিটিভির ফুটেজ। সেই ফুটেজ আসল কি না, তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দারা ব্যবহার করেন আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজ্যান্স বা এআই। এআই নিশ্চিত করেছে এটা আসল ভিডিও। এবং সেখানে যাঁদের দেখা গিয়েছে, তারা হাদির ঘাতক। সিলেট যাওয়ার উদ্দেশ্য ভারতে পালিয়ে যাওয়া। গত ১২ ডিসেম্বর রাতে তারা বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে।
প্রশ্ন হচ্ছে, গুয়াহাটিতে তাদের আশ্রয়দাতা কে? এখানে উঠে আসছে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা জাহাঙ্গির কবির নানকের নাম। তবে তিনি সরাসরি জড়িত নন। তাকে ভারতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তাঁর আপ্ত সহায়ক মহম্মদ মাসুদুর রহমান বিপ্লব। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হাদিকে গুলি করা পর পোস্ট অপারেশন পর্বে মনিটরিং করছিলেন বিপ্লব। বিপ্লবের তত্ত্বাধানে তারা গুয়াহাটিতে রয়েছে জামাই আদরে। তবে তারা কিন্তু সেখানে চুপ করে বসে নেই। গুয়াহাটিত থেকে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে হাদির চিকিৎসককে তারা হুমকি দিয়ে চলেছে। নম্বর বিভিন্ন গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনায় জড়িয়ে গিয়েছে আরও এক নেতার নাম। তিনি চট্টগ্রাম নগর যুব লীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য মহম্মদ সাজ্জাদ। সুতো কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, সেটা তদন্তে উঠে আসবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post