আওয়ামী লীগ বিরোধী অভিযান ইউনূস সরকারের! লাগাতার গ্রেফতারের নির্দেশ! বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে সবথেকে বেশি উদ্বেগের বিষয় হল আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। কারণ সদ্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন শরীফ ওসমান হাদি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, শরীফ ওসমান হাদির সিঙ্গাপুরে যে চিকিৎসা হচ্ছে, তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। এরই মাঝে সরকার ভীষণ রকম কঠোরতা দেখাচ্ছে। আওয়ামী লীগকে দমন করার জন্য কঠোর হচ্ছে সরকার। সরকার সেটা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা যে মন্তব্য করেছেন, সেই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকে বলছেন, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কথা বলা উচিত। কিংবা এই ধরনের কথা প্রকাশ্যে না বলে গণমাধ্যমে যেন না আসে, সেই ব্যবস্থা করতে পারতেন। গণমাধ্যমে এলে সেটা অনেক বেশি সমালোচনার জন্ম দেয়। তিনি মন্তব্য করলেন, যে মামলা না থাকলেও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ধরো। এবং তাদের আইনী আওতার মধ্যে নিয়ে এসো। এবং তাদের জেলে ভরো।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তাতে প্রবলভাবে কাটাছেঁড়া চলছে। বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় বিকেএমইএ প্রধান কার্যালয়ের সামনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কে ঘিরে রেখে বিক্ষোভ করেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে নেতাকর্মীরা। ইনক্লাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদী কে গুলি করার মূল আসামিকে গ্রেফতার সহ সাত দফা দাবি জানান তারা। এই দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দেখার সঙ্গে গ্রেফতারের নির্দেশের কথা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মামলা আছে কিনা, দেখার কোনও দরকার নেই। তাদের দেখার সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। অন্যদিকে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দাবি ছিল, জুলাই আন্দোলনের সময় লুট হাওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। পাশাপাশি ইনক্লাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির উপর গুলির ঘটনায় গ্রেফতার করতে হবে। ওসমান পরিবার ও তাদের দোসরদের গ্রেফতার এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনে তদবির বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। এছাড়াও সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানো ও সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে সামনে পেলে জানানো হয়, এখনও আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী এলাকায় অবস্থান করছে। এ বিষয়ে পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ জানায়, তাদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই। তখনই উপদেষ্টা ওই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। পুলিশকে কড়া নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মামলা ছাড়ায় জেলে ভরার। এখন প্রশ্ন উঠছে, চিহ্নিত করা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা থাকার তো কথা। কেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই? আর যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা না থাকে, তাহলে তারা সন্ত্রাসী হয় কিভাবে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের যে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি, তাতে সরকার বা প্রশাসন লাগাম টানতে পারছে না। কিন্তু সেটা নিয়ে যখন প্রশ্ন বা দাবি তোলা হচ্ছে, সেটাকে সামাল দেওয়ার জন্য এমন বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। অন্যদিকে সাংবাদিকরা অস্ত্র নিয়ে প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আলু নিয়ে কেন কথা বলেন? বিক্ষোভকারীদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ওটা কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠান ছিল। যেহেতু কৃষকের সমস্যাগুলো সাধারণত কেউ বলে না, তাই সেই প্রসঙ্গে কথাগুলো বলেছিলাম। কারণ আমি কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও আছি। তবে পুলিশকে যে নির্দেশ দিলেন আবেগে বশবর্তী হয়ে, সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ দেশের একজন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হয়ে সামান্য চাপে যে মন্তব্য করে বসলেন তাতে বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলি এটা নিয়ে কথা বলতে পারে। ইউনূস সরকারকে কাঠগড়ায় তুলতে পারে। কারণ যে ব্যক্তির উপর কোনও মামলা নেই, তাকে সন্ত্রাসী বলে দেগে দেওয়া মানে গোটা দেশে নৈরাজ্য চলছে বলে ধরে নেওয়া হবে। তাই কূটনৈতিক ভাষায় বিক্ষোভকারীদের শান্ত করায় কাম্য ছিল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার। এখন দেখার, এই পরিস্থিতিতে জল কোথায় গড়ায়!
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post