বাংলাদেশে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। আগামী বছর ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এখন প্রশ্ন, ১২ই ফেব্রুয়ারি কি লড়াই করবে আওয়ামী লীগ? নির্বাচন নাকি বয়কট? কোনটা বেছে নেবে শেখ হাসিনার দল? বাংলাদেশে চলছে অপারেশন ডেভিল হান্ট ২। এখানেও প্রশ্ন, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য কি আওয়ামী লীগ? অন্যদিকে ভারতে বসে নিয়ম করে বৈঠক করছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে কি নতুন কোনও কৌশল নিচ্ছে আওয়ামী লীগ? এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ নিয়ে নিশ্চুপ রাজনৈতিক দলগুলি। কেন নিশ্চুপ তারা? তবে কি জামায়েত থেকে বিএনপি, আওয়ামী লীগের ভোটে ভাগ চায়? কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে খেলা ঘুরছে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ মাস হল। এতগুলো মাস ধরে শুধু একটা বিষয় উঠে এসেছে। সেটা হল, নির্বাচন প্রসঙ্গ। কবে হবে নির্বাচন? শেষমেষ দেখা গেল, বহু অপেক্ষার পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না আওয়ামী লীগ। সেই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছিলেন, নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে, বয়কট করা হবে নির্বাচন। ভন্ডুল করা হবে নির্বাচন। কিন্তু এখন ভিন্ন কথা বলছেন, আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতারা।
তবে কি আরও কৌশলী হচ্ছে আওয়ামী লীগ? যখন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটল, যখন প্রায় গোটা দেশ শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে,তখন সেই খারাপ পরিস্থিতিতেও আওয়ামী লীগের সমর্থকরা বলেছেন, দেশে মোটামুটি ৪০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন তারা পেয়েছেন। এমনকি বিগত দিনে যতবার নির্বাচন হয়েছে বাংলাদেশে, সেখানেও আওয়ামী লীগের চরম সংকটকালে, তারা ৪০ শতাংশ মানুষ সমর্থন করেছে। এখনও জানা যাচ্ছে, দেশের অর্ধেক মানুষের সমর্থন রয়েছে শেখ হাসিনার পক্ষে। ফলে এখন আর নির্বাচন বয়কট নয়। বরং আরও কৌশলী হয়ে, রণনীতি বদল করে হাঁটতে চায়ছে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনা এর আগেও অডিও বার্তাতে বলেছেন, তিনি চান দেশে সুষ্ঠ, অবাধ নির্বাচন হোক। তাতে আওয়ামী লীগ বিরোধী দল হিসেবে থাকতেও রাজি। এর আগে বাংলাদেশে যতবার নির্বাচন হয়েছে, তারমধ্যে মাত্র ২ বার নির্বাচনে অংশ নেয়নি আওয়ামী লীগ। বাকি সবগুলি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে তারা। দলের একাধিক নেতার বক্তব্য, নির্বাচন বয়কটের পথে হাঁটবে না আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের বৈধতা থাকলে অবশ্যই সঙ্গে থাকবে তাদের দল। হঠাৎ এমন বয়ান বদল কেন করছে আওয়ামী লীগ? তবে কি নির্বাচনে অংশ নিতে ছাড়পত্র পেয়ে গেল তারা?
এদিকে দেশের অন্দরে আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা বা উৎখাত করার জন্য অপারেশন ডেভিল হান্ট ২ ঘোষণা করেছে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। চলছে বেছে বেছে আওয়ামী লীগ নেতা, কর্মীদের ধরপাকড়। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি পরিস্থিতি বুঝে নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলল হাসিনার দল? তাহলে কি তারা নির্বাচনে অংশ নেবে? উত্তর হল, না। এই মুহূর্তে ইউনূসের সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে রেখেছে। এমনকি আওয়ামী লীগ বলছে, তারা এই নির্বাচনকে একটি অসাংবিধানিক সরকারের অধীনে অবৈধ নির্বাচন হিসাবে দেখছে।
অর্থাৎ শেখ হাসিনার দল নির্বাচনে অংশ না নিলেও তারা নির্বাচন বয়কট করছে না। এখনও পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেত্রী থেকে শুরু করে বহু আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। শেখ হাসিনার ভারতে থাকা নিয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়ে দিয়েছেন, এটা তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
আওয়ামী লীগের নির্বাচন প্রসঙ্গে এমন অবস্থান নিয়ে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটা রাজনৈতিক দল নির্বাচন বয়কট করলে তারা গণতন্ত্রের বাইরে থাকতে চায় বলে ধরে নেওয়া হয়। এই মুহূর্তে শেখ হাসিনার দল সেই বদনাম কুড়াতে নারাজ। তারা বলছে, তারা নির্বাচনে বিশ্বাস করে বলেই বয়কটে যাচ্ছে না। বরং তারা প্রতিহত করছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের ভিতরে যে সমস্ত আওয়ামী সমর্থক রয়েছে, তাদের ভোটে অংশ না নেওয়াতে উৎসাহ দিতে পারে আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তারা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে, ঠিকঠাক ভোট বাক্সে ভোট পড়েনি। অর্থাৎ নির্বাচন সঠিক রাস্তায় হয়নি। নতুন আওয়ামী লীগ অনেক বেশি কৌশলী হতে যাচ্ছে। যাকে মোকাবিলা করতে মুহাম্মদ ইউনূস সরকারকে হিমশিম তো খেতেই হবে। বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post