নিউজ বর্তমান সদাই সত্যের সাথে চলে তাতে কারোর সত্যর মুখোমুখি হতে তেতো লাগেও বটে। তাতে কিচ্ছু এসে যায় না। কারণ সর্বদা টিম নিউজ বর্তমান মনে করে মিথ্যের প্রাচীর যতই উঁচু হোক না কেন তা দিয়ে সত্যকে কোনদিনই ঢাকা যায় না।
তাই আমরা সোজা কথা ভয় না পেয়ে বলতে পারি পরাধীন বাংলাদেশের জন্ম ভারতের হাত ধরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আমল থেকে ভারত বরাবরই বাংলাদেশকে স্নেহের চোখে দেখে এসেছে এবং ভারত বাংলাদেশের সাথে বরাবরই বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রেখেই চলেছিল। সেসব আজ অতীত পদ্মা দিয়ে গড়িয়ে গেছে অনেক জল শেখ হাসিনাও নেই আর সেই মুজিবের চোখে দেখা সোনার বাংলাও নেই। একসময় যে বাংলাদেশকে ভারত পাকিস্তানের কবল থেকে মুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল এবং স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন উন্নয়ন ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল বর্তমানে সেই বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখন ভারতের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য তার শুরুটা হয়েছিল বাংলাদেশ থেকেই। পালাবদলের সাথে সাথে বাংলাদেশের সিংহাসনে মৌলবাদী ইউনূসের আবির্ভাব এবং ভারত-বিদ্বেষী সংগঠন তৈরি করা যার ফলস্বরূপ ওসমান হাদির মতন নেতার জন্ম যিনি কিনা ভারতের মানচিত্র বিকৃত করেও বিন্দাস নির্দ্বিধায় নিজের কায়েম বজায় রাখতে পারে আর ইউনূসের পোষ্য সন্তান হাসনাত সারজিসদের কথা তো আর না বললেই নয়। সাম্প্রতিক ঢাকায় আয়োজিত এক মঞ্চে হাসনাত আব্দুল্লাহ সরাসরি ভারতের সেভেন সিস্টার্স ভাঙার হুমকি দিয়েছেন সাথে সাথে ভারত নয়, পাকিস্তান জিন্দাবাদ ধোনি তুলতে হবে বাংলাদেশ থেকে সে ঘোষণাও করেছেন।
যার ফলস্বরূপ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের নিরাপত্তার ওপর।এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি বাংলাদেশের রাজধানীর সব ভারতীয় ভিসা পরিষেবার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করত এতদিন যাবত।
তড়িঘড়ি ভারতের রাজধানী দিল্লি বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দেয়। ভারত স্পষ্টভাবে জানায় যে বাংলাদেশে ভারতীয় মিশন কূটনীতিক ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা গভীরভাবে চিন্তিত। যার কারণ সূত্র আমার পর জানা যায়-বাংলাদেশের মৌলবাদীদের বাড়বাড়ন্ত এবং ইউনূস উপদেষ্টার পররাষ্ট্র নীতি, পাকিস্তানের সাথে হাত মিলিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে চক্রান্ত, আর সর্বোপরি সর্বশেষ হাসনাত আব্দুল্লাহর ভারত ভাঙ্গার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করা। যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে বাংলাদেশের এই চক্রান্ত আগে থেকেই পূর্বপরিকল্পিত ইউনূসের হয়েছিল শুধুমাত্র ইউনূসের পালিত সন্তান হাসনাতের মুখ থেকে প্রকাশ পাওয়ার অপেক্ষা ছিল মাত্র। এর আগেও বারংবার বাংলাদেশ থেকে ভারত বিরোধী স্লোগান উঠে এসেছে মুহূর্তে মুহূর্তে তখনও পর্যন্ত ভারত শেষ পরিণতির অপেক্ষায় ছিল কিন্তু পরিস্থিতির কোনও দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় ভারত। সেদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের পর থেকেই ভারতের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে অবনতি হতে শুরু করে। এমনকি ইউনূসের উপদেষ্টারা বারংবার চিঠি দিয়ে হাসিনাকে ফেরাতে চায় ভারত থেকে এরও প্রত্যুত্তরে ভারত পরিষ্কার স্পষ্ট কড়া ভাষায় জানিয়ে দেয় হাসিনা নিজের ইচ্ছায় প্রতিবেশী বন্ধুদের ভারতের আশ্রয়ে এসেছেন কাজেই হাসিনা সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি কতদিন ভারতে থাকবেন এবং কবে ফিরে যাবেন এতে ভারতের কোন রকম কোন প্রতিক্রিয়া নেই। এর পরেই অভিযোগের সুরে ভারতের রাজধানী দিল্লি জানায় ইউনূসের রাজত্বে বাংলাদেশে মৌলবাদী জঙ্গিদের অতি সক্রিয়তা এবং যুবক-যুবতীদের গোপনে অস্ত্র প্রশিক্ষণ এছাড়া সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা নিপীড়ন ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা বেড়েছে। যা ভারতের এজেন্ট কড়া নজরদারির মধ্যে রেখেছে। আর আগে থেকেই ভারত এই বিষয় নিয়ে একাধিকবার ইউনূস প্রশাসনের নজরদারিতে আনার চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এর ফলে দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাসে চিড় ধরেছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ যেভাবে এগোচ্ছে তাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব হল সে দেশে থাকা বিদেশি মিশন ও কূটনীতিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বাংলাদেশের বর্তমান অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিবেশ নিয়ে ভারতের গুরুতর উদ্বেগ বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। এছাড়াও সে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার হিন্দু মন্দিরের ভাঙার মতন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহ র ভারত ভাঙ্গার হুমকি, ভারত যে মোটেই ছোট করে দেখছে না তা ক্রমশই ভারতের অ্যাকশনে প্রকাশ পাচ্ছে।












Discussion about this post