বাংলাদেশকে নিয়ে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করছে ভারত। সম্প্রতি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের অফিসে সম্পূর্ণরূপে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার বাংলাদেশে থাকা একাধিক ভারতের অফিসগুলিকে টার্গেট করা হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী-সহ বিভিন্ন জায়গায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত করতে চেয়েছিল কট্টরপন্থী ইসলামী মৌলবাদীরা। এক্ষেত্রে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ২ ইসলামিস্টের নাম ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সরকারকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি একটি কূটনৈতিক চাপ। যে তথ্য সামনে এসেছে, সেটা অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। জানা যাচ্ছে, ওই দুই ইসলাম কট্টরপন্থী নাম, মির ফরহাদ। যে হেফাজতি-ই ইসলামী বাংলাদেশের সদস্য। এটি একটি উগ্র ইসলামপন্থী সংগঠন। যার নেতৃত্বে জামাত রয়েছে। আর একজন হল সালাউদ্দিন আমার। সে বাংলাদেশের উগ্র ছাত্রনেতা। যে কথায় কথায় ভারত বিরোধী কথা বলে। এদের দুজনের উদ্যোগেই কয়েকশো ছাত্র জনতা ভারতের হাইকমিশনের দফতরে হামলা চালায়। বাংলাদেশের এই মুহূর্তে যে পরিস্থিতি তাতে ভারত কোনওভাবেই হালকা ঘটনা হিসাবে দেখছে না। অন্যদিকে বাংলাদেশের কট্টরপন্থীরা যাকে পাচ্ছে, তাকেই র-এর এজেন্ট বানিয়ে দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই এক যুবককে র-এর এজেন্ট সন্দেহে আটকে রেখেছে। এখন প্রশ্ন, ভারত কি এতটাই কাঁচা কাজ করবে, যে বাংলাদেশ সেটা ধরে ফেলবে? এমনটাই কি ভাবছে বাংলাদেশ? তবে কি সরাসরি যুদ্ধে যাবে ভারত?
জানা যাচ্ছে, ভারতের অ্যাসিসট্যান্ট হাই কমিশনারকে ভারত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। অনেকে বলছেন, এটা একটি কূটনৈতিক বার্তা। বাংলাদেশের সঙ্গে আর ভারত কোনওভাবেই সম্পর্ক রাখতে চাইছে না। হঠাৎ করে ভারত বাংলাদেশের জন্য ভিসা অফিস বন্ধ করে দিয়েছিল। এটার অর্থ,ভারত চাইছে না বাংলাদেশের কোনও নাগরিক এদেশে প্রবেশ করুক।
কারণ বাংলাদেশে হিন্দু বিদ্বেষী প্রকট হচ্ছে। এক হিন্দু যুবক দিপু দাসকে বেঁধে জ্বলন্ত পুড়িয়ে দিয়েছে সেখানকার কট্টরপন্থীরা। মনে করা হয়েছিল, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্তর থেকে এর প্রতিবাদ আসবে। কিন্তু আশ্চর্য রকম ভাবে সেটা হয়নি।। মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার যেভাবে আতঙ্ক তৈরি করছে, তাতে মানুষ নিশ্চুপ থাকাটাই শ্রেয় ভাবছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। এমনকি ছাত্রনেতারা এতটাই উগ্র হয়ে উঠছে, যাকে তাকে ধরে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে, তিনি র এর এজেন্ট। একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশী যুবককে কিছু মানুষ ঘিরে ধরে। তাদের দাবি, এই যুবক র এর এজেন্ট।
হাদির মৃত্যুর ঘটনার পর যে অশান্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ, সেটা স্পষ্ট। এমনকি কেউ কেউ বলছেন, এটা মেটিকুলাস ডিজাইন। শুধু তাই নয়, নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার একটা প্রয়াস। এমনকি যারা সত্যিই হাদিকে হত্যা করেছে, তারা দেশে হয়তো নিরাপদে রয়েছে। কারণ বাংলাদেশ ভারতকে দোষারোপ করতে ব্যস্ত। যদিও ভারত করা বার্তা দিল অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনারকে ফিরিয়ে এনে। আর কোনও সম্পর্ক রাখতে হয়তো চাইছে না ভারত।
এই নিয়ে ভারতের স্টাটিজি কমিটি বৈঠকে বসে। যে কমিটির মাথায় রয়েছেন শশী থারু। বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিতে এই স্টাটিজি কমিটি বলছে, সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রতি কি করবে ভারত, সেটা সবথেকে বেশি চ্যালেঞ্জ। কারণ ভারত দিনের পর দিন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করে রেখেছে। কখনও ভারত বাংলাদেশকে দূরে ঠেলেনি। কিন্তু হঠাৎ করে সবটা পাল্টে যাওয়া, নিঃসন্দেহে ডিপ্লোম্যাটিক চেঞ্জ। যদি এটি ভারত করে, তবে এর ফিউচার এফেক্ট কি হবে, সেটাও ভাবার বিষয়। পাশাপাশি এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, সেটা কখনোই ভারত যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাবে না। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যুদ্ধ করা মানায় না। তবে এর পরিবর্তে ভারত আর কি পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post