আফ্রিকার সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় সদস্য। ওই শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের মরদেহ গত শনিবার বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছিল। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর দেখা যায় তাঁদের মরদেহ বহনকারী কফিনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নেই। সেখানে বাংলাদেশ সেনার কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনেকজন আধিকারিক ও কর্মী রয়েছেন। সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ছবি ভাইরাল হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, ছয় সেনাসদস্যের কফিনের পাশেই প্লাস্টিকে মোড়া তাঁদের জিনিসপত্র, কফিনগুলিও টিনের। তাতে নেই বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। যা সাধারণত শহীদ সেনাসদস্যদের প্রাপ্য।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই একই বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান, ভারত-বিরোধী ছাত্র নেতা ওসমান হাদির মরদেহ। সিঙ্গাপুর থেকে তাঁর মরদেহ বিমানে আসার পর বিমানবন্দরে হাজির হয়ে যান বাংলাদেশের প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতারা। হাদির কফিন শাহজালাল বিমানবন্দরে নামানো হলে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রীতিমতো রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দেহ বিমানবন্দর থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই দুটি চিত্র থেকেই স্পষ্ট বাংলাদেশ এখন কোন পথে যাচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, বাংলাদেশে এখন যা পরিস্থিতি তাতে শহীদ সেনাদের গুরুত্ব কম, একজন উগ্র কট্টরপন্থী নেতার গুরুত্ব অনেক বেশি। কিন্তু প্রশ্ন হল, সেনাবাহিনীকে এত অবহেলা কেন? ঘটনাচক্রে শান্তিরক্ষা মিশনে গিয়ে সুদানে শহীদ হওয়া ছয় সেনাসদস্যের প্রতি চুরান্ত অবহেলার ছবি নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই পরদিন ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ওই ছয়জন শহীদ বাংলাদেশি সেনাসদস্যকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান দেওয়া হয়। তখন তাঁদের কফিনে স্থান পায় বাংলাদেশের পতাকা। উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা এবং সেনাপ্রধান। কিন্তু সেটাও হয় নমো নমো করে। অন্যদিকে দেখা যায়, ওসমান হাদির জানাজায় বিশাল আয়োজন। দলমত নির্বিশেষে গোটা উপদেষ্টামণ্ডলী উপস্থিত ছিলেন হাদির জানাজায়। প্রধান উপদেষ্টা কার্য়ত কেঁদে ফেলেন ভাষণ দিতে গিয়ে। তিনি বলেন, প্রিয় ওসমান হাদি তোমাকে আমরা বিদায় দিতে আসিনি আমরা। তুমি আমাদের বুকের ভিতর আসো।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হাদি ছিলেন কট্টর ভারত-বিরোধী এবং উগ্র মৌলবাদী চিন্তাধারার এক যুব নেতা। আর এই মুহূর্তে বাংলাদেশ জুড়ে চলছে তীব্র ভারত-বিরোধী হাওয়া। ফলে হাদির গুলি খাওয়া এবং মৃত্যুর পর তীব্র আবেগকে কাজে লাগাতে মুহাম্মদ ইউনূস-সহ গোটা বাংলাদেশের একটা মহল উঠেপড়ে লেগেছিল সাধারণ নাগরিকদের মগজ ধোলাই করতে। অন্যদিকে শহীদ সেনা সদস্যদের জন্য তাঁদের এত না ভাবলেও চলে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সেনার একটা বড় অংশকে এখনও ম্যানেজ করতে পারেননি মুহাম্মদ ইউনূস। সেই কারণেই সেনাবাহিনীর প্রতি চুরান্ত অবহেলা দেখাচ্ছেন তিনি। মজার বিষয় হল, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাওয়া ইউনূস তাঁদের সেনাবাহিনীকেই হেনস্থা করছেন।











Discussion about this post