শত হলেও ভদ্রলোক এক সময়ে ব্যাঙ্কে চাকরি করতেন। তাই, গত জুলাই-অগাস্ট থেকে হিসেব মেলানোর চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। এতোদিন পর্যন্ত তাঁর সব হিসেব মিলে গেলেও শেষবেলায় ঘটল বিপত্তি। তাঁর সব হিসেব উল্টে দিলেন একজন। সেটা এতটা বিশ্রিভাবে, যে ভদ্রলোকের সব তালগোল পাকিয়ে গিয়েছে। কোথা থেকে কী হয়ে গেল! বোঝার চেষ্টা করছেন গোলটা বাঁধল কোথায়! ভদ্রলোক ছক কষে এগিয়ে যাওয়ার কম চেষ্টা করেননি। এতোদিন পর্যন্ত সব কিছু ঠিকঠাক না থাকলেও কিছু ঠিক ছিল, কিছু ভুল ছিল। কিন্তু শেষবেলায় ঘটল বিপত্তি। একটা গুলি, একটা অপমৃত্য।
অপমৃত্যু হাদির। আর ইউনূস সরকার সেই মৃত্যু নিয়ে কদর্য রাজনীতি করেছে। চেষ্টা করেছিল, নিজের কাঁধ থেকে দায় ঝেড়ে ফেলে কোনও একটি রাজনৈতিক দলের ওপর দায় চাপিয়ে দেওয়ার। যমুনাভবনে বসে তিনি সেই ছক কষছিলেন। মৃত্যুর সঙ্গে ভারতকে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও চালান। পদ্মার ওপার থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছিল, দিল্লি থেকে তাদের দেশে গিয়েছিল ভা়ড়াটে জিহাদি। হাদিকে তারা ঠাণ্ডা মাথায় খুন করে বিনা বাধায় দেশান্তরী হয়েছে। আর এই মৃত্যু নিয়ে শুরু হয়েছে ভারতের ওপর দায় চাপানের চেষ্টা। বলা হচ্ছে, এটা আওয়ামী লীগের প্ল্যান। আরও সুস্পষ্টভাবে বঙ্গবন্ধুকন্যা হাসিনার মস্তিষ্কপ্রসুত। আর তাঁকে মদত দিয়েছে ভারত। নাহিদ ইসলাম তো রাখঢাক না করেই ভারতের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়েছেন।
নাহিদ বলেন, আওয়ামী লীগ সব পরিকল্পনা করছে দিল্লিতে বসে। ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদত ছাড়া আওয়ামী লীগ এই ধরনের পরিকল্পনা করতে পারে না। জঙ্গি তৎপরতা করছে। ফলে অবশ্যই আমাদের এখানে যারা ভারতীয় দূতাবাস আছে, তাদের জবাবদিহি করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ডেকে বলতে হবে যে, সেখানে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারীকে ভারত সরকার আশ্রয় দিয়ে একটা নৈতিক অপরাধ করেছে। এখন তারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য সেই আওয়ামী লীগকে সহায়তা করছে। আমাদের নেতা-নেত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে হবে না, নেতাদের নিরাপত্তা দিয়ে জুলাই টিকে থাকবে না। সামগ্রিকভাবে সমাজ থেকে, রাজনীতি থেকে যদি আওয়ামী লীগের প্রশ্নের সুরাহা আমরা করতে না পারি, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদীদের বিরুদ্ধে আমরা যদি গণপ্রতিরোধ বজায় রাখতে না পারি, তাহলে আসলে আমরা-আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। আর হাদির ভাই কী বলছেন, সেটা এই ফাঁকে একবার দেখে নেওয়া যাক।
গত মঙ্গলবার ঢাকার শাহবাগে ‘শহিদি শপথ’ নামে একটি কর্মসূচির আয়োজন করে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনের আহ্বায়ক ছিলেন ওসমান হাদি। তিনি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। ওই কর্মসূচিতে হাদির দাদা শরিফ ওমর হাদি বলেন, ‘‘ওসমান হাদি বলেছিল, ফেব্রুয়ারিতে দেশে নির্বাচন হতে হবে। সেই নির্বাচন করার জন্য সে প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছিল। কিন্তু তাকে হত্যা করে নির্বাচনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।’’ এই হাড়হিম ঘটনা যে সরকারকে নডা়তে পারেনি, সেটা হাদির দাদার কথায় স্পষ্ট। যেদিনের এই সভা, তার ছয়দিন আগে হাদির মৃত্যু হয়। ‘‘ওসমান হাদি শহিদ হয়েছে আজ ষষ্ঠ দিন। সরকার পদক্ষেপ করার বিষয়ে কোনও অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। সরকারের কাছে দাবি জানাই, হাদির খুনিচক্রকে জাতির সামনে তুলে ধরুন।’’
সরকার যে এই মৃত্যুর দায় এড়াতে চাইছে, সেটাও তাঁর কথায় পরিষ্কার। ওই সভা মঞ্চ থেকে সরকারের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা – সরকারের কাছে আমি অনুরোধ করব, ‘আপনারা যখন ক্ষমতায় আছেন, তখন ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার দায় আপনারা এড়াতে পারেন না। আপনাদেরও বিচার হবে। আজ হোক বা ১০ বছর পরে হোক। বিচারের কাঠগড়ায় আপনাদের দাঁডা়তে হবে। ’’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post