তাহলে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়েই হতে চলেছে? অন্তত প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিক সম্মেলনে যা বললেন, তাতে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে পদ্মাপারের আসন্ন নির্বাচন একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়েই হতে চলেছে। কী বলেছেন প্রেস সচিব সেটা তাঁর মুখেই শোনা যাক।
প্রেস সচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিষয়ে আমাদের… সরকারের অবস্থান স্পষ্ট… যে আওয়ামী লীগের…. যেহেতু আওয়ামী লীগের অ্যাক্টিভিটিজ ব্যানড আছে এবং আওয়ামী লীগের….ইলেকশন কমিশন… আওয়ামী লীগের পার্টি হিসেবে রেজিস্ট্রেশন স্ক্র্যাপ করেছে, বাদ দিয়েছে। তো সেই জন্য আওয়ামী লীগ এই ইলেকশনে পার্টিসিপেট করতে পারবে না।’
প্রশ্ন কিন্তু অন্যত্র। আর প্রশ্নটা এখন না হলেও আগামীদিনে পদ্মাপারের রাজনীতির আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠবে। সেটা হল তারেকের প্রত্যাবর্তন। তাঁর সঙ্গে সেবাহিনীর সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকজনের বৈঠক। আওয়ামী লীগকে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না, সেটা কোনওভাবে কোনও মহল থেকে তারেকের কাছে হয়তো পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। আর সেই বার্তা পাওয়ার জন্য অধীর অপেক্ষায় ছিলেন বেগম-পুত্র। না হলে যে তারেক কিছুদিন আগেও নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় দেশে ফিরতে পারছিলেন না, কোনও জাদুকাঠিতে তিনি তাঁর মন পরিবর্তন করলেন? তাঁর মাকে লন্ডন নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সেটা হয়নি। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মা যখন গভীর সংকটে সেই সময় তারেকের দেওয়া বক্তৃতার কথা স্মরণ করতে হয়। অত্যন্ত আবেগমাখা বক্তৃতা ছিল। আর দেশে ফেরার আগে তারেক লন্ডনে তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন। বার্তার থেকেও বড়ো হয়ে উঠেছিল তাঁর শরীরের ভাষা। অত্যন্ত দৃঢ় এবং প্রত্যয়ী দেখা গিয়েছে। প্রশ্ন তো সেখানেই? কোথা থেকে তিনি পেলেন এই মানসিক জোর? তবে কি সেনাবাহিনীর তরফ থেকে বেগম-পুত্রকে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছিল? বলা হয়েছিল যে তিনি নিশ্চিন্তে ফিরতে পারেন। বাহিনীর তরফ থেকে তাঁর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।
প্রশ্ন আরও একটা। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনও নির্বাচন হলে সেই নির্বাচন যে বৈধতা পাবে না, সেটা ভারত তো বটেই, আন্তর্জাতিকমহল থেকেও বার্তা দেওয়া হয়। তারপরেও কোন দুঃসাহসে রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে ঢাক পিটিয়ে জানিয়ে দেওয়া হল যে হাসিনার দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না? বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকেই বা এতো বড়ো সাহস কে জোগালো?
সাংবাদিক সম্মেলনে একটি গণমাধ্যমের কর্মী প্রধান উপদেষ্টাকে পাঁচ মার্কিন আইনপ্রণেতার চিঠি দেওয়ার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। জবাবে প্রেস সচিব বলেন, তিনি চিঠিটি দেখেননি। এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। কিন্তু আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। যেহেতু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বাদ দিয়েছে, সে কারণে আওয়ামী লীগ আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখার কথা বলা হয়।
দীপু দাসের হত্যাকাণ্ড নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সরকার এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করে। এই ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, ভিডিও ও ভিজুয়্যাল দেখে তাদের মধ্যে থেকে ১২জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারেকের প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, আমরা তাঁর বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাই। তাঁর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার জন্য তাদের দলের সঙ্গে আমাদের কথাবার্তা চলছে। সরকারের থেকে দলের তরফ থেকে যে সব সাহায্য চাওয়া হয়েছে, সেই সব সাহায্য করা হচ্ছে।












Discussion about this post