ফিদেল কাস্ত্রোকে মনে পরে? এই নেতা তাঁর জীবদশ্শায় হয়ে উঠেছিলেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এক বিমূর্ত প্রতীক। মানুষ তাঁর ভাষণ শুনতেন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে। কারণ তিনি মার্কিন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন। আমেরিকাকে তাঁর কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছিল। গালভর্তি দাঁড়ি, ঠোঁটে ধরা জ্বলন্ত চুরুট, পরনে জলপাই সবুজ সামরিক পোশাক, মাথায় একই রঙের ক্যাপ। মুখে ‘হয় সাম্যবাদ, না হয় মৃত্যু’ স্লোগান। তিনি অনুসারীদের কাছে ‘এক মহান নেতা’ আর বিরোধীদের কাছে ‘ফ্যাসিবাদী’। ফিদেল কাস্ত্রোর জীবনের গল্পের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে বিপ্লবী আন্দোলন, স্নায়ুযুদ্ধ, পূর্ব-পশ্চিম দ্বন্দ্ব, পুঁজিবাদ আর কমিউনিজমের সংঘাত। গেরিলাযুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কিউবার শাসক বাতিস্তাকে উৎখাত করে ১৯৫৯ সালে দেশটির ক্ষমতায় আসেন কাস্ত্রো। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৩৩ বছর। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক তিনি কিউবা শাসন করেছেন। কোনো পরাশক্তি, কোনো ষড়যন্ত্র বা মৃত্যুভয়ের কাছে মাথানত না করে নিজের বিশ্বাসে অটল থেকেছেন তিনি।
প্রায় কাস্ত্রোর মতো নিঃশব্দ বিপ্লবের কথা শোনা গেল পদ্মাপারের এক নেতার গলায়। তিনি গড়তে চান এক স্বপ্নের বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকার পূর্বাচলে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে তিনি একটি সভা করেন। বক্তৃতায় উঠে এসেছে মার্টিন লুথার কিংয়ের কথা। উঠে এসেছে হাদির কথা। তাঁর চোখেও হাদি এক মহান নেতা। মার্টিন লুথার কিংয়ের সেই অমোঘ উক্তির অনুরণন শোনা গেল তাঁর গলায় – আই হ্যাভ আ প্ল্যান। আর মার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন, আই হ্যাভ আ ড্রিম। পদ্মাপারের নেতাটি বলেন, ‘দেশের মানুষের জন্য, দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।’ সেই পরিকল্পনা সফল করার জন্য তাঁর আর্জি ‘শরিফ ওসমান হাদির প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ’ তিনি বলেন, ‘ওসমান হাদি চেয়েছিলেন এই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক।’ তিনি বাংলাদেশের দায়িত্ব স্বেচ্ছায় তুলে নিয়েছেন। অথচ তিনি বাংলাদেশে পদার্পণ করার সঙ্গে সঙ্গে তিন তিনটে খুন হয়ে গিয়েছে। এর জন্য তারেককে কোনওভাবেই দোষারোপ করা যায় না। কিন্তু যে দলের নেতা তাঁর কর্মীদের রক্ষা করতে পারে না, সে কী করে একটা দেশের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে পারে? আর যদি দায়িত্ব তুলেও নেন, তাহলে দেশ কেমনভাবে চলবে, সেটাই তো বড়ো প্রশ্ন।
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান। কিন্তু তিনি যেখানে সভা করেছেন, সভার পর সেখানকার যে চিত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, তা দেখার পর একটাই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে – এরা কি কোনও সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল? ছডি়য়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আবর্জনা। রাস্তায় পড়ে রয়েছে বাঁশ। পরিস্থিতির সঙ্গে নরকের তুলনা করা যেতে পারে। যে রাজনৈতিক দল স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে, তারা যদি একটি সুন্দর রাস্তাকে কদর্য করে দিতে পারে, সেই রাজনৈতিক দল কী করে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। তাঁর গলায় কী করে হাদির কথা শোনা গেল? তবে কি তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ হয়ে উঠতে চলেছে ভারত-বিদ্বেষী বাংলাদেশ? কারণ, হাদির পরিচয় তো এক ভারত-বিদ্বেষী নেতা হিসেবে? তবে কী তারেকের বাংলাদেশ আগামীদিনে ভারত-বিরোধিতায় মুখর হয়ে উঠবে? সেটা হয়তো জানা যাবে আগামীদিনে। হয়তো জানা যাবে তারেকের প্ল্যানের কথা।












Discussion about this post