দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এমন তলানিতে যেতে পারে, সেটা কেউ আন্দাজ করতে পারেনি। এতোদিন ছিল কথার পৃষ্ঠে কথা। সেই পর্বের ইতি ঘটেছে। কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সীমা লঙ্ঘন করে দু’জনেই যে ‘নিজেরে হারায়ে খুঁজে’ চলেছে। শেষ কবে এরকম হয়েছিল, তা কেউ বলতে পারছে না। আদৌ হয়েছিল কি, সেটাই তো বড়ো প্রশ্ন। দুই দেশের সম্পর্ক তিক্ত থেকে ক্রমেই তিক্ততর হয়ে উঠেছে। গত ১০ দিনে দুই দেশ তাদের কূটনীতিককে তলব করেছে। নানা ইস্যুতে তারা প্রতিবাদ আর উদ্বেগ জানিয়েছে। সেটা কতটা যুক্তিযুক্তি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পদ্মার এপার আর ওপারকে একটি বিন্দুতে মিলিয়ে দিয়েছে। সেটা হল এক অস্থিরতা। সেই অস্থিরতা এক দেশে প্রবলভাবে দৃশ্যমান। অপর দেশে তা একদিকে যেমন দৃশ্যমান, একই সঙ্গে সেটা আবার প্রবলভাবে অদৃ্শ্য। ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে এক দৃশ্যমান শত্রু। তাদের এই শত্রুতা আজকের নয়। এই শত্রুতা ৫৪ বছরের। শুরু হয়েছিল, ১৯৭১ সাল থেকে। ৫৪ বছরের শত্রুতা এখন তারা নতুন মোড়কে হাজির করেছে। আগে তাদের শত্রুতা বা সংঘাত ছিল সরাসরি। এখন সেটা বঙ্কিম আকারে। আগে তারা শত্রুতার জন্য দেশের মাটি ব্যবহার করত। এখন তারা নিজেদের মাটি ছেড়ে প্রতিবেশী দেশের মাটি ব্যবহার করে বিদ্বেষের বিষ ছড়াতে শুরু করেছে। পরিষ্কারভাবে বলছে, পরিস্থিতি কতটা সংকটে।
দিল্লির চাণক্যপুরী থেকে কলকাতার বেগবাগানের দৃশ্যপট যেন এক সুতোয় গাঁথা। কূটনৈতিক শিষ্টাচারের তোয়াক্কা না করে রাজপথ হয়ে উঠেছে রাজতন্ত্রের পথ। দুই দেশের রাজধানীতেই একে অপরের দূতাবাসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দুই দেশের দূতাবাসের সামনে আছড়ে পড়েছে জনতার রোষ। শুরু হয়েছে কূটনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ। দুই তরফেই বাক্যবিনিময় বন্ধ হওয়ায় আতঙ্ক, আর উদ্বেগের পারদ ক্রমশই চড়ছে।
ঘটনার সূত্রপাত কিন্তু পদ্মাপারে। সেটা কোনওভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। হাসিনা ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর থেকে শুরু হয়ে চাপান-উতোর। পদ্মার ওপারের মাটি হয়ে ওঠে দ্বেষের মাটি। শুরু হয় হিংসা, ঘৃণার লাভার উদগীরণ। ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি যেন আচমকাই জেগে ওঠে। আর সেই আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটল একটি অপমৃত্যুতে। অপমৃত্যু সংখ্যালঘু হিন্দু দীপু চন্দ্র দাসের। বর্বরোচিত বললে কিছুই বলা হবে না। যাবতীয় পাশবিকতা এই ঘটনার কাছে হার মানবে। মারধর করতে করতে হর্ষোল্লাস। পরে তাকে গাছে ঝুলিয়ে জ্বালিয়ে দিয়ে উদ্বাহু নৃত্য। যেন এক বিজয়উৎসবের রসস্বাদন। একটা লোক জ্বলছে। যন্ত্রণায় সে ছটফট করছে। বাহুবলীদের মুখের হাসি তত চওড়া হচ্ছে। তারা সেই ঘটনা তাদের মুঠোফোনে রেকর্ডিং করে পরে তার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। উদ্দেশ্য, তাদের সমমনোভাবাপন্নরাও যাতে তৃপ্তিসুখে নিজেদের সুখী করতে পারে।
তাদের হর্ষোল্লাসকে অট্টহাসিতে পরিণত করলেন পাকিস্তানের এক নেতা। দিলেন হুমকি। বললেন, বাংলাদেশের দিকে ভারত আড় চোখে তাকালে ভারতের চোখ উপড়ে নেওয়া হবে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এতটা তলানিতে পৌঁছে যাবে, সেটা কোনওদিন কেউ ভাবতে পারেনি। বরফ এখন পাথরে পরিণত হয়েছে। সেই পাথরকে আবার জলে পরিণত করবে কে? সময়? না কি অন্য কোনও জিয়নকাঠির জাদুতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আগের মতো মধুর হবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post