তাহলে ঝুলি থেকে বেড়ালটা বেরিয়েই পড়ল?
এতোদিন পর্যন্ত যা ছিল অনুমান নির্ভর, এখন তাতে পড়ল সরকারের সিলমোহর। সন্দেহ তো সেদিন দানা বাঁধতে শুরু করে, যেদিন সেনাবাহিনীর সুনির্দিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে ভিডিও কলে তাঁকে কথা বলতে দেখা যায়। তখন থেকেই প্রশ্নটা চর্কিপাকের মতো ঘুরতে শুরু করে। এতো অনুনয়, বিনয় কীসের জন্য? যাঁর মাকে সেনাবাহিনীর কাছে এই বলে মুচলেকা দিতে হয়েছিল যে তাঁর ছেলে অদূর ভবিষ্যতে আর রাজনীতির আঙিনায় পা রাখবে না, তাঁর অনুপ্রবেশ ঘটল রাজনীতিতে। পরোক্ষভাবে নয়, প্রত্যক্ষভাবে। বলা যেতে পারে সক্রিয় রাজনীতিতে ঘটল অনুপ্রবেশ।
একে অনুপ্রবেশই না বলে আর কিই বা বলা যেতে পারে? সে রাজনীতিতে কোনওদিন যোগ দেবে না বলেই তো জেল থেকে তাকে ছাড়া হয়েছিল। আর তিনি দেশে ফিরলেন এমন সময়ে যখন সেখানে ভোটের হাওয়া ঘুর্ণিঝড়ের মতো বইতে শুরু করেছে। একটি দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই দলের প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। দলের প্রথম সারির নেতাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে দিয়ে তাদের জেলের ভাত খাওয়ার পাকা ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর যিনি একদশকের বেশি সময় দেশের বাইরে ছিলেন, তাকে মালা পরিয়ে বরণ করা হল। আর একটি নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন দেশের বাইরে। তিনি যাতে কোনওভাবেই দেশে ফিরতে না পারেন, এখন সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সে দেশের একটি অবৈধ সরকার। দেশের মাটিতে তাঁর পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নামে দেওয়া হল জয়ধ্বনি। তাঁর বিরুদ্ধে আদালত যত মামলা দায়ের হয়েছিল, সেই সব মামলা থেকে তাঁকে বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়। বলা যেতে পারে, সরকার আর সেনার গোপন সমঝোতার দৌলতে তিনি মাথা উঁচু করে, বুক ফুলিয়ে দেশের মাটিতে পা রাখলেন। হল ঘরওয়াপসি।
কথা হচ্ছে জিয়া-পুত্র তারেক রহমানকে নিয়ে। তাঁর জন্য তদারকি সরকার আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে টোল ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। সব থেকে বড়ো কাজটি করেছে সেনাবাহিনী। একজন দুর্নীতিগ্রস্ত, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামীকে বীরের সম্মান দিয়েছে। তাঁর জন্য বাহিনীর তরফ থেকে দেওয়া হয়েছে ‘গার্ড অব অনার’ । বিমানবন্দর থেকে তাকে পাহারা দিয়ে তাঁর বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে সরকারের তরফে যে নিরাপত্তা দেওয়া হয়ে থাকে, বেগম-পুত্রকে সেই নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। ধরেই নেওয়া হচ্ছে তারেক রহমান ডি ফ্যাক্টো প্রধানমন্ত্রী। একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুধু ক্ষমতা হস্তান্তর বাকি। বাংলাদেশে তারেকের ফিরে আসা আসলে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের একটি বেনজির সিদ্ধান্ত। বলা যেতে পারে, ইউনূস তাঁকে বাংলাদেশে ফেরাতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর শাসনামলে দেশে যে এক বিরাট শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেই শূন্যতা ঢাকার একটি মাত্র রাস্তা ছিল তারেকের ঘরওয়াপসি নিশ্চিত করা। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে দণ্ডিত একজন আসামীকে দেশে ফিরিয়ে আনার মধ্যে দিয়ে তদারকি সরকার এই বার্তাই দিলেন যে তারা আদলতকেও অবজ্ঞা করতে দ্বিধা করে না। দ্বিধা করলে তারেককে এভাবে বীরের সম্মান দিয়ে তারা দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করত না। বিচার আর ন্যায় নয়, ক্ষমতার প্রয়োজনই আসলে শেষ কথা। আদালতকে ক্ষমতার অধীন করে ফেলা। জুলাই ছিল একটি ট্র্যাঞ্জিশনাল ন্যারেটিভ। ক্ষমতা বদলের জন্য ক্ষমতার প্রদর্শন। ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতাকে অন্য একটি মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post