বাংলাদেশে শোকের ছায়া। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্তব্ধ বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল। বিভিন্ন দেশ থেকে ইতিমধ্যেই শোক জ্ঞাপন করেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে। এমনকি বিভিন্ন দেশের নেতারা খালেদা জিয়ার জানাজায় আসবেন। যদিও মৃত্যুর পরের দিন জানাজা হওয়ার কারণে অনেকেরই ইচ্ছে থাকা সত্বেও পৌঁছতে পারবেন না বলে হয়ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এরমধ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি খবর, ঢাকায় আসছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সম্প্রতি ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে যে উত্তেজনা বহন করছে, তাতে অনেকেই বলছেন, ভারতের বিদেশমন্ত্রীর আগমনে প্রবল উত্তেজনায় মুহাম্মদ ইউনূস। তবে কি খালেদি জিয়ার মৃত্যু মিলিয়ে দিল দুই দেশের বৈরিতা, নাকি বিএনপির সঙ্গে সখ্যতা তৈরি হল ভারতের? আসলে বিষয়টি কিভাবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা?
জানা যাচ্ছে, খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে ইসহাক দার আসছেন না। আসছেন পাকিস্তানের স্পিকার। শোক জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর শোক জ্ঞপনে বেগম খালেদা জিয়ার কথা তিনি যেমন স্মরণ করেছেন। ঠিক একইভাবে তাঁর সঙ্গে জিয়ার বৈঠকের কথাও স্মরণ করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, ঢাকাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা চেয়ারম্যান মৃত্যুতে গভীর শোকাহত। তার পরিবার এবং বাংলাদেশের সকল মানুষের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা জানাই। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তার পরিবারকেই মর্মান্তিক ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দান করুন। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার গুরুত্ব এবং তার শাসনকালে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে বিষয় উল্লেখ করেছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়নে এবং ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাতের অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ২০১৫ সালে ঢাকায় তার সঙ্গে আমার উষ্ণ সাক্ষাতের কথা আমার স্মরণে রয়েছে। আমরা আশা করি তার দৃষ্টিভঙ্গি উত্তর অধিকার আমাদের অংশীদারিত্বকে পরিচালিত করবে। তার বিদেহি আত্মার শান্তি কামনা করি। এমনকি কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীও শোক জ্ঞাপন করেছেন।
শোক জ্ঞাপন করেছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ-সহ বিভিন্ন দেশের নেতারা। শোক প্রকাশ করেছেন,পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোক বার্তায় তাঁরা খালেদা জিয়ার সরকারের সময় দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন। এমনকি নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি শোক জ্ঞাপন করেছেন। সেই তালিকায় রয়েছে যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মান, ফরাসি দ্রুতাবাস। অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমাদের সমবেদনা। জাতিসংঘ শোক প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। আঞ্চলিক সংস্থা বিমস্টেকও শোক প্রকাশ করেছে। বিমসটেক সচিবালয় জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বুধবার দুপুরে সংসদ ভবন এলাকায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা উপলক্ষে বুধবার সারাদেশের সাধারণ ছুটি ও ঘোষণা করা হয়েছে।জানা যাচ্ছে, ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বুধবার ঢাকায় পৌঁছবেন বলেও জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অনেকেই বলছে, জিয়ার মৃত্যু হয়তো দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে অনেকটাই স্বাভাবিকতা আনবে। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক যে স্বাভাবিক হচ্ছে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে, তারেক রহমান দেশে ফেরার পরও ভারত বিরোধীতার কথা শোনা যানি তার মুখে। সবমিলিয়ে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদি।












Discussion about this post