‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’।
একে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ ছাড়া আর কিই বা বলা যেতে পারে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক মানে সব সময় গোলা-বারুদ বা কামান-গুলি ব্যবহার করতে হবে, এমন কথা কোথাও লেখা নেই। কূটনৈতিকস্তরেও সার্জিক্যাল স্ট্রাইক যে হতে পারে, সে দেখিয়ে দিল সাউথব্লক। আপাতত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে একটা অন্ত্যেষ্টি। সেই অন্ত্যেষ্টিতে ভারত তাদের এক প্রতিনিধিকে পাঠিয়েছে। কিন্তু সব কিছু সাদা চোখে দেখা ঠিক না। বিশেষ করে সাউথব্লক এমন একজনকে পাঠিয়েছে, দিল্লির আমলামহলে যাঁর পরিচয় ‘চাণক্য’। তাঁর চাণক্যনীতি আমেরিকার মতো শক্তিশালী দেশ ধরাশায়ী। আবার তাঁর চাণক্যনীতিতে ‘মস্কো-দিল্লি’ বলছে আরও ‘কাছাকাছি, আরও কাছে এসো’।
এমনটা যে হবে সেটা খুব একটা অপ্রত্যাশিত ছিল না বলেই মনে করছে সাউথব্লকের কূটনৈতিকমহল। কারণ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এতো তলানিতে এসে ঠেকেছে যে সেটা মেরামত না করলেই হচ্ছিল না। মেরামত করার দায়িত্ব অদৃশ্যভাবে ভারতের কাঁধে এসে পড়ে। যে দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তিক্ত থেকে তিক্ততর হয়েছে, সেই দেশে সরকার প্রধান যিনি, তাঁর বিন্দুমাত্র দায়িত্ববোধ নেই। সেটা বিগত দিনে প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে। দেশটাকে পদ্মায় দায়িত্ব নিয়ে ডুবিয়ে ছেড়েছেন। দেশটাকে মৌলবাদীদের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছেন। একের পর এক দেশের সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছেন। যে আশা নিয়ে তিনি দেশ শাসনের ভার নিয়েছিলেন, সেই আশাও পদ্মায় ডুবেছে। তিনি যে আর ক্ষমতায় ফিরতে পারছেন না, সেটা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। তাই, হাত ধরেছেন জামাতের মতো একটি মৌলাবাদী দলকে। এই অবস্থায় পদ্মাপারে পা রাখলেন চাণক্য, আমাদের বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর। আর সময়টাও কিন্তু বেশ নজরে পড়ার মতো। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন। অতএব জয়শঙ্কর বাংলাদেশে গিয়েছেন শুধুমাত্র জিয়ার শেষকৃত্যে অংশ নিতে – এমন সরল সিদ্ধান্তে উপনীত হলে সেটা ভুল হবে। চাণক্য গিয়েছিলেন সে দেশের জল মাপতে।
তাঁর সফর যেমন সাদা চোখে দেখা ঠিক হবে না, ঠিক হবে না তারেকের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ এবং তদারকি সরকার প্রধান মুহম্মদ ইউনূসের মুখ দর্শন না করা। ঢাকায় এভাবে ক্ষমতার পালাবদল দিল্লি মেনে নিতে পারেনি বলেই মত কূটনৈতিকমহলের। যে কারণে সাউথব্লক এই সরকারকে বৈধতা দিতে চায়নি। তাই, নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকে দিল্লি একটা কথা বলে এসেছে, ঢাকার থেকে তারা আশা করে সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন। সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তদারকি সরকার প্রধানের। তিনি সেই দায়িত্ব কতটা পালন করতে পারবেন, সেটাই দেখার। এই ঠাণ্ডা-গরম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে পা পড়ল জয়শঙ্করের।
‘আমরা’ বনাম ‘ওরা’ বিষয়টা এখন শুধুমাত্র সীমান্তের দুই পারে সীমাবদ্ধ নেই। বিষয়টা ন্যারেটিভে চলে গিয়েছে। ভারতের কাছে বিষয়টা দাঁড়িয়ে গিয়েছে আত্মসম্মানের লড়াই। গত ১৫-১৬ মাস ধরে ঢাকার একটি অবৈধ সরকার নানাভাবে দিল্লিকে বেউজ্জত করে গিয়েছে। দিল্লির এখন সময় হয়েছে মোক্ষম জবাব দেওয়ার। ভারতের বিদেশমন্ত্রীকে ঢাকা পাঠিয়ে দিল্লি সেই মোক্ষম জবাবটা দিল। যেদিন জয়শঙ্কর বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখলেন সেই দিন হাদি-হত্যার ফয়সাল সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে। যদিও ‘নিউজ বর্তমান’ সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওতে ফয়সালকে বলতে শোনা যায়, সে রয়েছেন দুবাইতে। ফলে সেও ইউনূস সরকারের গালে সপাটে চড় কষিয়ে দিল। সে গেল কী করে দুবাই? বিমানবন্দরের এতো চেকিং থাকার পরেও সে কী করে নীরবে দুবাই পাড়ি দিল? সরকারের মদত ছাড়া যে সেটা কোনওভাবেই সম্ভব নয়, সেটা স্পষ্ট। প্রমাণ হয়ে গেল, ভারত কোনও ক্রিমিন্যালকে আশ্রয় দেয়নি। দিয়েছে ঢাকা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post