একটা মৃত্যু বদলে দিল একটি দেশের জাতীয় রাজনীতির সব অঙ্ক। এমনটা যে হতে পারে, সেটা কেউ আন্দাজও করতে পারেননি। কিন্তু অঘটন যে আজও ঘটে, সেটা আরও একবার প্রমাণিত হয়ে গেল। অবশ্য এই মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোনও কোনও প্রান্ত থেকে বলা হচ্ছে, এই মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। এক মহিলাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে ছেড়েছেন। আর একজন বেঁচে রয়েছেন। তাঁকেও অন্তর্লীন করতে না পারলে স্বস্তিতে যে থাকা যাবে না, সেটা বুঝতে পেরেছিলেন খিলাড়ি। কিন্তু চিরতরে বিদায় করতে গেলে ঠাণ্ডা মাথায় ছক কষতে হবে। ছকটা ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে সব কিছু ঘেটে ঘ হয়ে গেল।
কারও মৃত্যুর কথা বলা হচ্ছে, তা আন্দাজ করা যাচ্ছে। আপনারা ঠিকই ধরেছেন বেগম জিয়ার মৃত্যুর কথা বলা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন এই মৃত্যুকে কোনওভাবেই স্বাভাবিক বলা যাচ্ছে না? আমাদের পাঠক এবং দর্শকদের মনে করিয়ে দিতে চাই, এ বছর সেনাদিবসে ক্যান্টনমেন্টের একটি অনুষ্ঠানের কথা। সেই অনুষ্ঠানে কার্যত বাড়ি থেকে টানতে টানতে জিয়াকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে ইউনূস তাঁকে তার পাশে বসিয়ে খাতির যত্ন করেন। আর তারপর থেকে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন বেগম। তারপর যা হওয়ার ছিল সেটাই হয়েছে। এই পর্যন্ত তদারকি সরকার প্রধানের অঙ্ক মিলে গিয়েছে। গোল বাঁধল অন্যত্র। তারেক মাঝখান থেকে ঢুকে পড়লেন। ফলে ইউনূস মহাজন পড়েছেন বিপদে। তাঁর বিপদ আরও বাড়িয়ে তুলল ভারতের ‘চাণক্য’ সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর। তিনি সেনাবিমানে চেপে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ একটি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে সোজা চলে যান তারেকের সঙ্গে দেখা করতে জাতীয় সংসদ ভবনে। দেখার ছিল জয়শঙ্কর, সেই ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা করেন কি না, যিনি তাঁর প্রিয় দেশ এবং ‘দেশোবাসীকে’ পদ্মায় ডুবিয়ে ছেড়েছেন। জয়শঙ্কর একবারের জন্য ভদ্রমহোদয়ের সঙ্গে দেখা করেননি। উল্টে তারেকের সঙ্গে দেখা করেছেন। দেখা করেছেন কয়েকজন উপদেষ্টাদের সঙ্গে।
খেলা হয়েছে পদ্মার এপারেও। সে খেলা জয়শঙ্করের বাংলাদেশ সফরকে জমিয়ে ক্ষীর করে দিয়েছে। আমাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং হাসিনাকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে। ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লা এক্স পোস্টে রাজনাথের ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, “সম্মানীয় ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহকে স্বাগত জানাতে পেরে, সম্মানিত বোধ করছি। ” একদিকে বাংলাদেশে জয়শঙ্কর, অপরদিকে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন অফিসে রাজনাথ সিং।
বাংলাদেশে আর কয়েক সপ্তাহবাদে নির্বাচন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ প্রায় অনিশ্চিত। তাই, দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে ক্ষমতা দখলের পথে বিএনপি। তাই, আগে থেকেই সাউথব্লক একটি ক্ষেত্র তৈরি করে রাখতে চাইছে। তারই অঙ্গ হিসেবে মোদি তাঁর চাণক্যকে ঢাকায় পাঠালেন। মনে রাখা দরকার বিএনপির তরফে কিন্তু হাত অনেক আগেই বাড়িয়ে রাখা হয়েছিল। ২০১৪ সালের একটি ঘটনা এই প্রসঙ্গে তুলে ধরা দরকার। ওই বছর ভারত শাসনের দায়িত্ব পান মোদি। সেদিনই তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন বেগম জিয়া। ছুটির দিনে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনে হাজির হন বিএনপি নেতারা। বিজেপিকে মিত্র হিসেবে পেতে চেয়েছিল জিয়ার দল। আওয়ামী লীগের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক বেশ ভালো। তবে সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে কেন্দ্র আওয়ামী লীগের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। আপাতত সেই সব অতীত। বাংলাদেশে পালাবদল অবসম্ভাবি। তারা যেমন ঘুঁটি সাজাচ্ছে, ঘুঁটি সাজাচ্ছে দিল্লি। এই মুহূর্তে কেন্দ্রে আসীন শাসকদলের সামনে দ্বিতীয় কোনও বিকল্প নেই।












Discussion about this post