একেবারে ভরা হাটে হাড়ি ভাঙা। মুখে আলকাতরা লেপে দেওয়া, আন্তর্জাতিকমহলে উলঙ্গ করে দেওয়া।
একটা ভাইরাল ভিডিও একসঙ্গে এই তিনটে করে দিল। একদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ‘নিউজ বর্তমান’ ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। ভারতের একটি বৈদ্যুতিন গণমাধ্যম একটি খবরের সূত্রে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর বক্তব্য তাদের দর্শকদের শুনিয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে তাদের চ্যানেলের ১৩ হাজার দর্শক ভিডিওটি দেখেছ। ভিডিও দেখার পর যারা কমেন্ট করেছেন, তাদের প্রতিটি কমেন্টে একেকটি বোমা। এই ভিডিও ‘দুধ কা দুধ’ আর ‘পানি কা পানি’ সাফ করে দিয়েছে। একটি সরকার যে গত কয়েকদিন ধরে মিথ্যে কথা বলে এসেছে, এখন সেটা দিনের আলোর মতো উজ্জ্বল। নির্লজ্জতার সব সীমা তারা অতিক্রম করে গিয়েছে।
সেখানে যিনি বক্তব্য রেখেছেন, তাকে নিয়ে একটি দেশ নাগাড়ে মিথ্যাচার করে এসেছে। মিথ্যাচার করে এসেছে মৃত্যু নিয়ে। কদর্য রাজনীতি করে এসেছে। মৃত্যু নিয়ে যে রাজনীতি হয় না, সেটা না জানে সরকার, না জানে সরকার প্রধান। অথবা জেনে শুনে ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করেছে, যাতে দোষ কাঁধ থেকে ঝেঁড়ে ফেলা যায়। আসলে সরকারটাই তো অবৈধ। আর সরকার প্রধানের যে কোনও কাণ্ডজ্ঞান নেই, সেটা তো তাঁর নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপে ছত্রে ছত্রে প্রমাণিত।
মৃত্যু যার হয়েছে, তাকে নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আগামীদিনে বিতর্ক হবে। কারণ, সে একটি বিতর্কিত চরিত্র। ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলেই তাঁর উল্কা গতিতে উত্থান। আর তাঁকে পিছন থেকে প্রশয় দিয়ে এসেছেন সেই দেশের সরকার প্রধান। আর যেই তাঁর মৃত্যু হল, অমনি ভারতকে কাঠগড়ায় তোলা হল। জোরের সঙ্গে কোনও প্রমাণ ছাডা়ই বলা হল, যে ভারত ওই নেতাকে মারতে গুণ্ডা ভাড়া করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছিল।
মিথ্যাচার আরও আছে। বুক চিতিয়ে দাবি করা হল ঘাতকেরা মেঘালয়ে আত্মগোপন করে রয়েছে। পরে আবার বিবৃতি পালটে বলা হল, সে রয়েছে গুয়াহাটিতে। সত্যকে যে কোনওদিন ধামাচাপা দেওয়া যায় না, সেটা হয় তেনারে জানেন না। অথবা জেনে শুনে খেলা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এবার তাদের সেই খেলা এখন ব্যুমেরাং হয়ে ফিরেছে।
কথা হচ্ছে হাদি হত্যা নিয়ে। যুবনেতা হাদির মৃত্যু ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে তোলপাড় বাংলাদেশ। দিনকয়েক আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, হাদির হত্যাকারী ফয়জল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখ মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে। যদিও তা নস্যাৎ করে দেয় মেঘালয় পুলিশ ও বিএসএফ। এনিয়ে বাংলাদেশের তরফে বিভ্রান্তিকর দাবি তোলা হচ্ছিল।
এই তপ্ত আবহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিয়োয় যে যুবককে দেখা যাচ্ছে, তিনি নিজেকে ফয়সাল করিম মাসুদ বলে দাবি করেন। ওই ফয়সাল বলেন, “আপনারা হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার জড়িত থাকার কথা জানেন। আসলে আমি হাদি হত্যার ঘটনার সঙ্গে কোনও ভাবেই জড়িত নই। এটি একটি চক্রান্ত। এই কারণে আমি দেশ ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হয়েছি। দেশ ছেড়ে চলে এসেছি দুবাইতে। দুবাইয়ে আছি।”
ঠিক কী বলেছেন ওই তরুণ? এখানে হুবহু তুলে ধরা হল তাঁর বয়ান।
“আমাকে মিথ্যাভাবে ফাঁসানো হইসে। যেহেতু হাদির সঙ্গে জামাতের একটা কানেকশন আগে থেকেই ছিল। ও জামাতের প্রোডাক্ট। তো সেই জন্যে জামাতিরা কোনওভাবেই এই ঘটনা ঘটাইসে। ওই বাইকের মধ্যে আমি ছিলাম না… এবং ওই বাইকের চালকও আমার কোনও ছোট ভাই ছিল না। আমাদের দুজনকে মিথ্যাভাবে ফাঁসাইসে। ” সরকারের উদ্দেশ্যে ফয়সালের বার্তা, “ মিথ্যাভাবে ফ্যামিলির সবাইকে জডা়ইছেন। তাদের কোনও দোষ নাই। তাদেরকে আপনারা সবাই মিথ্যা হয়রানি করছেন। যেভাবে পারছেন সেই ভাবে অত্যাচার করছেন। মিথ্যাভাবে আমাকে ফাঁসিয়েছেন। ওই জন্য আমার পরিবার ভুক্তভোগী। এটা আসলে… কাম্য না। এটার একদিন সুষ্ঠ বিচার হবে। ”












Discussion about this post