মাকে হারিয়ে শোকে মূহ্যমান ছেলে। তিনি যেমন এই মৃত্যু কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেন না, মেনে নিতে পারছে না তাঁর দল। মেনে নিতে পারছেন না দেশে তাঁর লাখো ভক্ত। এই মৃত্যু কোনওভাবেই কাম্য ছিল না। এই মৃত্যু কাঙ্খিত মৃত্য নয়। দলনেত্রী যেদিন অসুস্থ হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হলেন, সেই সময় হাসপাতালে ছুটে যান কয়েক হাজার ভক্ত। কয়েক হাজার সমর্থক। আর যেদিন পেলেন তাঁর ইন্তেকালের খবর, দলের সমর্থকদের চোখে জল। তারা তখন তাঁর বাসভবনের সামনে জড়ো হয়েছেন।
মায়ের দেহ আগলে রয়েছে ছেলে। মেয়েও দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বসেছিলেন ঘরে। তাদের দরকার একটা ভরসার হাত। সেই হাত যে আপদে-বিপদে তাদের রক্ষা করবে। দেশটাকে রক্ষা করবে। কারণ, দেশটাকে দায়িত্ব নিয়ে একজন শুধু রসাতলে পাঠিয়ে ক্ষান্ত থাকেননি, দেশটাকে মৌলবাদী শক্তির কাছে উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছেন। সেই মৌলবাদী শক্তি, মোল্লাতন্ত্রীরা এখন ফণা তুলছে। বিষাক্ত সাপ যেমন জিভ বের করে হিসহিস শব্দ করে, তাদেরও সেই বিষাক্ত সাপের মতো হিসহিস করছে। এই অবস্থায় দেশে ফিরেছেন এক নেতা, যার কাঁধে দায়িত্ব পড়েছে দেশটাকে স্থিতিশীল করার। মৌলবাদী শক্তির বিষদাঁত উপড়ে ফেলার। কিন্তু দরকার তো একটা ভরসার হাত। সেই ভরসার হাত বা়ড়িয়ে দিলেন আমাদের বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর। সৌজন্যে ৭ নম্বর লোককল্যাণ মার্গ। এই ঠিকানায় কে থাকেন, তা হয়তো সকলের জানা। তাও একবার জানিয়ে দেওয়া যাক। অধিকন্তু ন দশায় বলে একটা কথা তো রয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের ঠিকানা।
জয়শঙ্করের পরিচয় তিনি ভারতের বিদেশমন্ত্রী। আর সাউথব্লক বা আমলামহলে তাঁর পরিচয় চাণক্য। আগে ছিলেন ভারতের বিদেশ সচিব। সেই সময় দুনিয়া দেখেছে, তাঁর ভূমিকা। শুনেছে তাঁর বক্তব্য। সেই বক্তব্য এতই ক্ষুরধার যে তাঁর বক্তব্যের ধারেকাছে ঘেঁসতে পারেনি ভিন দেশের বিদেশ সচিবের বক্তব্য। বেগম জিয়ার মৃত্যুর পর থেকে আন্তর্জাতিকমহলে একটা প্রশ্ন ঘুরতে শুরু করে – ভারত কি বিএনপি নেত্রীর জানাজায় কাউকে পাঠাবে? কারণ তিনি তো ভারতপন্থী নেতা ছিলেন না? আর পাঠালেও কাকে পাঠাবে? সব প্রশ্নের দিয়ে দিল সাউথব্লক। সিদ্ধান্ত নেওয়া হল – বিএনপি নেত্রীর শেষকৃত্যে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর। আর এই ঘোষণতা পদ্মাপারে শুরু হয় অদৃশ্য ভূমিকম্প। কম্পনের তীব্রতা মাপার কোনও যন্ত্র ছিল না। কম্পনের পর যেমন আফটারশক হয়ে থাকে, এ ক্ষেত্রেও হয়েছে আফটারশক। একবার নয়, একাধিকবার । প্রথমবার সেনাবাহিনীর বিশেষ বিমানে চেপে জয়শঙ্করের যখন বাংলাদেশ সেনার বাসার বিমানবন্দরে অবতরণ করলেন। দ্বিতীয়বার সেখান থেকে সোজা তারেকের সঙ্গে দেখা করার সময়। তৃতীয়বার কম্পন যখন জয়শঙ্কর তারেকের হাতে তুলে দেন মোদির চিঠি। আর চতুর্থবার যখন তিনি দেশে ফিরলেন তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসের মুখ দর্শন না করে। আর জয়শঙ্করের ঢাকা সফরে কাঁপছে জামাত যোদ্ধারা
প্রধানমন্ত্রীর তরফে যে শোকপত্র তারেকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, সেখানে কী লেখা আছে একবার দেখে নেওয়া যাক। চিঠি ইংরেজিতে লেখা। বাংলায় তর্জমা করলে এরকম দাঁড়ায় –
“প্রিয় তারেক রহমান সাহেব,
আপনার মা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপার্সন। মহামান্য খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই গভীর ব্যক্তিগত ক্ষতির জন্য আমার সমবেদনা গ্রহণ করুন। তাঁর আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।
২০১৫ সালের জুন মাসে ঢাকায় বেগম সাহেবার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ এবং আলোচনার কথা আমি আন্তরিকভাবে স্মরণ করছি। তিনি ছিলেন বিরল, দৃঢ় সংকল্প এবং দৃঢ় প্রত্যয়ের একজন নেত্রী এবং বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। বাংলাদেশের উন্নয়নে, সেই সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর মৃত্যুতে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হলেও তাঁর দৃষ্টিভঙ্গী এবং উত্তরাধিকার অক্ষত থাকবে। আমি নিশ্চিত যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আপনার দক্ষ নেতৃত্বে তাঁর আদর্শ এগিয়ে যাবে এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বের নতুন সূচনা এবং সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য একটা পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। জাতীয় শোকের এই মুহূর্তে আমার সমবেদনা বাংলদেশের জণগনের সঙ্গেও, যাঁরা তাঁদের ইতিহাসজুড়ে অসাধারণ শক্তি এবং মর্যাদা প্রদর্শন করেছে। আমি নিশ্চিত যে তাঁরা তাঁদের ভাগ করা মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং জাতীয় ঐক্যের গভীর অনুভূতি দ্বারা পরিচালিত হবে। যখন তারা শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে এগিয়ে যাবে।
আবারও আমার আন্তরিক সমবেদনা গ্রহণ করুন। আমি সর্বশক্তিমানের কাছে প্রার্থনা করি, যেন তিনি আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে এই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার শক্তি এবং সাহস দান করেন। আপনার ভবিষ্যতের প্রচেষ্টার জন্যও আমি আমার শুভ কামনা জানাই।”
আন্তরিকভাবে
নরেন্দ্র মোদি
প্রতি
শ্রী
তারেক রহমান
ভারতপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি
ঢাকা












Discussion about this post