বাংলাদেশের নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নানা ধরনের অঙ্ক কষা। একদিকে জামাত চাইছে বিএনপির সঙ্গে জোট করে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। তারা আবার এই ব্যাপারে ভারতের সাহায্য চেয়ে বসেছে। এনসিপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা একাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। শেষ মুহূর্তে এসে জামাতের সঙ্গে তাদের বনিবনা না হওয়ায় একটা জোট তৈরির যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, সেটা ভেস্তে গিয়েছে। আসন্ন ভোট আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়েছে। এই অবস্থায় আবার নতুন করে একটি গুঞ্জন বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ঘুরতে শুরু করেছে। সেই গুঞ্জন হল – আওয়ামী লীগ কি বিএনপি’র সঙ্গে সমঝোতায় যেতে চলেছে। এদিকে আবার তারেককে চিন তলব করেছে। তা নিয়েও শুরু হয়েছে চর্চা। তারেক রহমানের ওপর আগ্রহ শুধু ভারতের নয়, আগ্রহ রয়েছে আমেরিকা সহ ইউরোপের অন্যান্য দেশের। এই সব গুঞ্জন থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে ইউনূসের হাতে আর ক্ষমতা থাকছে না। এই অবস্থায় হাসিনার একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই অডিওতে হাসিনাকে বলতে শোনা যায় –
“ ৫ অগাস্ট ২০২৪-য়ে আগুন দিল….সে … যুব দলের এক নেতা… রোমান হাওলাদার… সে আগুন লাগাল…. এবং সাথে … এই লোকজনগুলি লুঠপাট করে নিয়ে গেল .. অন্যের সম্পত্তি লুঠ তাদের খুব পছন্দ”
তিনি কিছুদিন আগেই জানিয়েছিলেন, এই মুহূর্তে দেশে ফিরতে পারছেন না। তাঁর আসার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু তারপর যে ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে, তাঁকে এক কথায় সাইক্লোন বলা যেতে পারে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালহাউদ্দিন আহমেদের মতে, “তিনি এলেন, তিনি দেখলেন, তিনি জয় করলেন।” আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তারেক রহমান। তিনি দেশে ফিরেছেন প্রাক এক দশকের বেশি সময়ে লন্ডনে থাকার পর। তার দেশে ফেরার পর থেকে বাংলাদেশে যে সব বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা হল মধ্যপন্থার রাজনীতি, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি এবং সহনশীলতার রাজনীতি করার শর্তেই তারেক রহমানকে দেশে ফেরার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে দেশি এবং বিদেশি শক্তিগুলি তারেকের ঘরওয়াপসিকে সমর্থন করেছে। আসলে বাংলাদেশ যেভাবে চরমপন্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান একমাত্র সেই ব্যক্তি, যার ওপর কিছুটা হলেও নির্ভর করা যেতে পারে। তাঁর দল বিএনপি জামাতের কাছে একটি আতঙ্ক।
১৮ কোটির আবেগে ভেসে দেশের মাটিতে পা রেখেছেন তারেক রহমান। বক্তৃতা দিয়েছেন মার্টিন লুথার কিংয়ের স্টাইলে। জানালেন তাঁর একটা বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। কী পরিকল্পনার কথা তিনি বলতে চেয়েছেন, তার উত্তর সময় বলবে। তারেক রহমান দেশে ফিরবেন এমন কথা শোনা যাচ্ছিল, ২০২৪-য়ের ৫ অগাস্টের পর থেকে। অবশেষে তারেক দেশে ফিরলেন। তবে সময় লাগল বছরখানেকের বেশি। এমন শোনা যাচ্ছিল ভারতের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে গিয়েই এতটা সময় নষ্ট হয়েছে। তারেক রহমান দেশে ফেরায় কি বদলে যাবে বাংলাদেশের রাজনীতি। কারণ, তারেক রহমানের দল বিএনপি এখন বেশি করে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছে। আগে বিএনপি এই নিয়ে গলা ফাটিয়েছে বলে মনে পড়ে না। তবে এটা অস্বীকার করা যায় না মুক্তিযুদ্ধে তাদেরও অবদান রয়েছে। তবে কি মুক্তিযুদ্ধের আবেগকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছাতে চাইছেন তারেক রহমান? সেটা বলবে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটপর্ব মিটে যাওয়ার পর ভোট গণনা শুরু হলে।











Discussion about this post