বাংলাদেশের জামাতে ইসলামির আমির শফিকুর রহমান ২০২৫ সালে তাঁর বাইপাস সার্জারির পর ভারতের একজন কুটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেন। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, বুধবার নিজের বাসভবনে দেওয়া এক সাক্ষৎকারে জামায়াত আমির ওই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আমির ওই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ এবছরের শুরুতে অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা যেমন প্রকাশ্যে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, ভারতীয় কূটনীতিক তেমনটি করেননি। ভারতীয় ওই কর্মকর্তার বৈঠকটি গোপন রাখতে বলছিলেন। ‘কেন? অনেক কূটনীতিক আমার কাছে এসেছিলেন এবং তা প্রকাশ করা হয়েছিল। সমস্যা কোথায়? বলেন, শফিকুর রহমান।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সবার কাছে এবং একে অপরের কাছে উন্মুক্ত হতে হবে। আমাদের সম্পর্কোন্নয়ন ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নেই।’
শফিকুর রহমানের কাছে পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামির ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে জামাত নেতা বলেন, ‘আমরা সবার সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ উপায়ে সম্পর্ক বজায় রাখি। আমরা কখনও কোনও একটি দেশের দিকে ঝুঁকে পড়ার বিষয়ে আগ্রহী নই। ’
বাংলাদেশের ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি। হাতে আর তেমন সময় নেই। এমন সময়ে হঠাৎ জামাতের মনে হলে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তা নেই। তাহলে গত ১৫-১৬ মাস ধরে তারা কেন ভারত-বিরোধিতা এসেছিল, সেটা তো বোঝাই যাচ্ছে না। আসলে দাবার পাশা উল্টে দিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর। তাঁকে জিয়ার শেষকৃত্যানুষ্ঠানের জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেটা করা হয়েছে হিসেব করেই। সাউথব্লক থেকে এই বার্তাই দেওয়া হয় দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ভারত শেষ কথা।
বাংলাদেশ সফরকালে জয়শঙ্কর এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছেন। তিনি তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসের সঙ্গে দেখা করেনি। দেখা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে। তদারকি সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গে তিনি দেখা করেন। সেই সব উপদেষ্টাদের মধ্যে ছিল আসিফ নজরুল। এই নজরুলকে আমরা দেখেছিলাম একজন ভারত-বিরোধী নেতা হিসেবে। কিন্তু জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে তাকে দেখা গেল কার্যত গুটিয়ে থাকতে। এখন প্রশ্ন উঠছে কেন জয়শঙ্কর আসিফ নজরুলের সঙ্গে দেখা করলেন? উদ্দেশ্য একটাই। আসিফ নজরুলকে এই বার্তাই দেওয়া যে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট ঘুরে গিয়েছে। তাদের পাশে নেই ডিপস্টেট। পাকিস্তানের সঙ্গে মাখামাখি করে লাভ নেই। দক্ষিণ এশিয়ায় ভূ-রাজনীতিতে সাউথব্লক শেষ কথা। সেটা আরও একবার প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে জামাত নেতা শফিকুরের বক্তব্যে।
প্রবীণ এই জামাত নেতা দিল্লির সাহায্য চেয়ে বার্তা দিয়েছেন। শুক্রবার ভারতের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তো তিনি ভারতকে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে সম্বোধন করেছেন। তিনি আবার এটাও বলেছেন, ভারতের সঙ্গে তারা সম্পর্কের উন্নয়ন চান। আসলে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর বাংলাদেশে গিয়ে সব অঙ্ক উল্টে দিয়েছেন। তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে দেখা না করার মধ্য দিয়ে তিনি একটি বার্তাই দিতে চেয়েছেন। সে বার্তাই হল – বাংলাদেশের তদারকি সরকারের সময়সীমা শেষ হয়ে আসছে। এবার বিদায় নেওয়ার পালা।
বিদেশমন্ত্রী পাক সংসদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের সঙ্গেও দেখা করেন। তারেক এবং সাদিকের সঙ্গে জয়শঙ্করের সাক্ষাৎকারে ইউনূসের মানসিক চাপ অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছে। তিনি বুঝতে পেরেছেন, গদিতে তাঁর থাকার সময়সীমা শেষ হয়ে এসেছে। কিন্তু বিদায়পর্ব কীভাবে সাঙ্গ হবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more











Discussion about this post