এক বড়ো ধরনের নাশকতার ছক বানচাল হয়ে গেল। আমাদের গোয়েন্দা দফতর সেই ছক বানচাল করতে না পারলে ভারতের বুকে আগামীদিনে বড়ো ধরনের সন্ত্রাসবাদী হামলা হত। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সাম্প্রতিক অতীতে এ দেশের বুকে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষয়ক্ষতিকে ছাপিয়ে যেত। দিন কয়েক আগে ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে ভারতকে অস্থির করে তুলতে পদ্মাপারের বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী সংগঠন সক্রিয়। তাদের কাছে রয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র। রয়েছে গোলাবারুদ। লালকেল্লায় যে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেই বিস্ফোরণের নীল নকশা তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশে। আর এবার সীমান্তরক্ষী বাহিনী ভারতের দুই প্রতিবেশী রাজ্য থেকে যাদের ধরেছে, তাদের জেরা করে তারা জেনেছে, পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, মালদহ সহ উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায়। সেখানে তারা নিয়মিত যাতায়াত করছিল। বসে যাওয়া জেএমবি জঙ্গিরা ছিল তাদের টার্গেট। সেজন্য সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ‘পূর্ব আকাশ’ নামে একটি আলাদা গ্রুপ খোলা হয়। সেখানে মগজ ধোলাই করে এই রাজ্যের একাধিক তরুণকে নিয়োগ করা হয়েছে বলে খবর। পুরনো জেএমবি সদস্যদের সঙ্গে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু করেছিল।
‘দাওয়াত’এ অংশ নিতে অসমে এসে ধরা পড়া জঙ্গিদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল পশ্চিমবঙ্গ। তার আগে গত ২৮ ডিসেম্বর বরপেটায় গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিল অসম ও বাংলার আইএমকে’র কয়েকজন মাথা। গত ২৮ ডিসেম্বর বরপেটায় গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিল অসম এবং বাংলার আইএএম-কের কয়েজন মাথা। নির্ভরযোগ্যসূত্রে গোয়েন্দারা খবর পেয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে তারা ৩০টির বেশি স্লিপার সেল তৈরি করে ফেলেছে। সীমান্ত লাগোয়া অনুমোদনহীন কয়েকটি মাদ্রাসাকে নিজেদের ঘাঁটি বানানোর তোরজোড় শুরু করেছে। অসম এসটিএফের কাছে খবর, এই রাজ্যে আইএমকের অন্তত ১০ জঙ্গি রয়েছে। তারা তাদের বাংলাদেশের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। পাচ্ছে অর্থ সাহায্য। এই নেতারাই এখানে তাদের স্লিপার সেল নিয়ন্ত্রণ করছে। ধৃতদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গে কারা নেটওয়ার্ক চালাচ্ছে।
যে ১১জনকে ধরা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন ধরা পড়ে অসমে, বাকিদের ত্রিপুরা থেকে। এরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের টেরর নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ভারতের একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন অনুসারে, এদের সঙ্গে ভারতে নিষিদ্ধ জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের শাখা ইমাম মামুদের খলিফার সঙ্গে যোগসূত্র মিলেছে। এরা মূলত অসম, ত্রিপুরু এবং পশ্চিমবঙ্গের লোকজনকে টার্গেট করত।
অসম পুলিশ জানিয়েছে, ইমাম মাহমুদের খলিফা তৈরি হয়েছিল, ২০১৮ তে। আর তারা সক্রিয় হয়ে ওঠে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে। অসমে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল উমর এবং খলিদ নামে দুই তরুণকে। প্রাথমিকভাবে ‘অনলাইন জিহাদি চ্যানেলের’ মাধ্যমে ঠিক করা হত টার্গেট। তারপর তাদের মগজধোলাই করা হত। ভারত থেকে বাংলাদেশেও গিয়েছিল। অসমের কোথায় কোথায় অভিযান চলে, সেটাও জানিয়ে দেওয়া যাক। বরপেটা, বাকসা, চিরাং এবং দারাংয়ে।
বিষয়টা সামনে এলো এমন একটা সময় যখন নানা ইস্যুতে তেতে রয়েছে বাংলাদেশ। ভারত-বিরোধী কট্টরপন্থীদের রমরমা শুরু হয়েছে। ভারত বিরোধী হাদির মৃত্যুর পর পরিস্থিতি পুরোটাই বদলে গিয়েছে। আগুনে পুড়িয়ে এক হিন্দু তরুণকে খুন করা হয়েছে। তাণ্ডব চলে বিভিন্ন প্রান্তে। এমনকী সংবাদপত্র দফতর এই কট্টরপন্থীদের রোষাণল থেকে রেহাই পায়নি। এই তপ্ত আবহে ফাঁস হল এক বড়ো ধরনের নাশকতার ছক।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post