যাক, তাহলে ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়েই পড়ল। বেড়ালটি কে, কোথা থেকে বেরিয়ে পড়ল সে বিষয়ে অবশ্যই আলোকপাত করা হবে। তার আগে কিছু কথা।
বঙ্গবন্ধু কন্যা হাসিনা ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর একটা প্রশ্ন কিন্তু ঘোরাঘুরি করতে শুরু করে – এই খেলার আসল কুশীলব কি? আঙুলটা সুনির্দিষ্টভাবে একটি দেশের দিকে তাক করা ছিল। দেশটার নাম আমেরিকা। কিন্তু এই সব ক্ষেত্রে তো তেমন কোনও প্রমাণ থাকে না। বা প্রমাণ রেখে দাবার পাশা উল্টে দেওয়া হয় না। এ ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। আমেরিকার এই কারসাজির কথা প্রথম শোনা যায় হাসিনার গলায়। তিনি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরিষ্কার আঙুল তুলেছিলেন ডনের দিকে। বলেছিলেন, আমেরিকার চাপের কাছে মাথা নত করে তিনি সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ওই দেশটির হাতে তুলে দিলে ক্ষমতা থেকে তাঁকে সরে যেতে হত না। যেহেতু তিনি সেটা করেননি, তাই ছলে-বলে-কৌশলে ডিপ স্টেট তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ইউনূসকে বসিয়েছেন। তাতে অবশ্য লাভের লাভ আমেরিকার কিছুই হয়নি। এখন আমেরিকা এবার অন্য কৌশল নিয়েছে। তারা চাইছে এমন একটি দল আগামীদিনে বাংলাদেশের শাসনভার হাতে তুলে নিক, যারা পরবর্তীকালে তাদের দাবার চাল হয়ে উঠবে। সে ক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দ জামাত। জামাত ইতিমধ্যে এনসিপি এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সঙ্গে সমঝোতা করেছে।
আর এবার ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়ার প্রসঙ্গে আলোকপাত করা যাক। এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন বাংলাদেশ মার্কিন দূতাবাসে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। প্রথমমতো ভোট তো বাংলাদেশে। তার জন্য মার্কিন দূতাবাসে যাওয়ার কি দরকার হল আর সেখানেই কেন আখতার হোসেনকে সাংবাদিক সম্মেলন করতে হল? উত্তর একটাই। বাংলাদেশের ভোটকে কেন্দ্র করে আমেরিকার বিরাট একটি স্বার্থ রয়েছে। ইউনূস জমানায় তারা তাদের স্বার্থ পূরণ করতে পারেনি। মুহম্মদ ইউনূসকে নিয়ে তারা যে সব স্বপ্ন দেখেছিল, তার একটাও কার্যকর হয়নি। সুতরাং, অধরা স্বপ্নকে তো ধরতে হবে। তাই আগামীদিনে তাদের ঘুঁটি হতে চলেছে জামাত। এই ফাঁকে একবার দেখে নেওয়া যাক এনসিপি সদস্যসচবি আখতার হোসেন কী বলছেন?
‘জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি… আমরা… আমাদের যে একবছরের জার্নি, সে জার্নিতে আমরা এককভাবে নির্বাচন করার একটা প্রস্তুতির মধ্যে দিয়েই আমরা নিজেদেরকে প্রস্তুত করছিলাম। আমরা অনেক রেসপন্স সেখানে পেয়েছি, অনেকেই আমাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। আমরা প্রাথমিক একটা তালিকাও প্রকাশ করেছিলাম। কিন্তু সেই প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করার পরে আমরা যখন পরের ধাপের তালিকা প্রস্তুত করে রেখেছি এবং… আমাদের.. তিনশো আসনে প্রার্থীতা জায়গাটা চূড়ান্ত করার দিকে অগ্রসর হচ্ছি, ঠিক সেই সময়টাতে শরিফ ওসমান বিন হাদি…তাকে গুলি করা হল এবং পরবর্তীতে তিনি শাহদাত বরণ করলেন। এই পুরো ঘটনা… একটা উপলব্ধির জায়গায় একটা বড়ো ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসে। আমরা খেয়াল করে দেখি যে, যে আধিপত্যবাদশক্তিগুলো বাংলাদেশকে কবজা করে রাখতে চায়, বাংলাদেশকে তার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব থেকে বের করে নিয়ে এসে বাংলাদেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে রাখতে চায়, যারা বাংলাদেশে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ এবং তার দোসোরদেরেক পুনর্বাসন করতে চায়, তারা শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ’
যদিও রাজনৈতিকভাবে বেশ চাপের মধ্যে পড়েছে নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। প্রথম ঘটনাটি ঘটে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য গঠনের মধ্য দিয়ে। ওই ঘটনার সূত্র ধরে এনসিপির কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা পদত্যাগ শুরু করেন। বর্তমানে এ পদত্যাগের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে গেছে-কেন্দ্রীয়সহ সারা দেশের এনসিপির পরিচিত মুখগুলোর প্রায় অধিকাংশ নেতাই পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে একরাশ ক্ষোভ ও অভিমান নিয়ে এনসিপির সব ধরনের পদ-পদবি থেকে পদত্যাগ করেন দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, মুখপাত্র, যুগ্ম সদস্য সচিব ও মিডিয়া সেলের প্রধান মুশফিক উস সালেহীন। পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ উইংয়ের কো-লিড হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। একই দিন পদত্যাগ করেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন। এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে দল থেকে পদত্যাগের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আরও যারা পদত্যাগ করবেন, তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করছেন। ইতোমধ্যে পদত্যাগ করা শীর্ষ নেতাদের অনেকেই বলেছেন, যে দলটি জুলাই অভ্যুত্থান তথা ছাত্র-জনতার শহীদি রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত হল, সেই দলটি জুলাই যোদ্ধা তথা সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে।












Discussion about this post