পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের লডা়ই এবার আকাশে। সৌজন্যে প্রতিবেশী দেশ চিন।
আকাশে লড়াই? আক্ষরিক অর্থে সেটাই। এই লডা়ই ইসলামাবাদ বনাম দিল্লির। তবে সেটা কূটনৈতিক এবং অবশ্যই তা স্নায়ুযুদ্ধের। ভারতকে চাপে রাখার জন্য এটা ড্রাগনের চাল। আগামীদিনে আকাশে ইসলামাবাদ ও দিল্লির মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের লডা়ই চলবে। কী সে লড়াই, আর সে লডা়ই কতটা স্নায়ুযুদ্ধের তা অবশ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। তার আগে একবার রামায়ন বা মহাভারতের পাতা উল্টে দেখা যাক।
রামায়ণ বা মহাভারতে আকাশ থেকে লডা়ই করার একাধিক উদাহরণ রয়েছে। মেঘনাদের কথাই ধরা যাক। তিনি মেঘের আড়াল থেকে যুদ্ধ করতেন। আবার পুষ্পক রথের কথাও তো সেখানে রয়েছে। রাবণ যখন সীতাকে হরণ করে, আজকের দিনে যেটা কিডন্যাপ, লঙ্কায় নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তাকে বাধা দেন জটায়ুপক্ষী। সে লড়াই কিন্তু আকাশেই হয়েছিল। অমৃত বিদ্রোহের কথাও উল্লেখ করা যেতে পারে। ভগবান গরুড় তাঁর মায়ের জন্য দিব্য অমৃত গ্রহণ নিয়ে যাওয়ার সময় ঈশ্বরের সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। বিষ্ণু এবং জলন্ধরার মধ্যে যে লডা়ই হয়েছিল সেটাও কিন্তু আকাশে। এটা শুধু রামায়ণ বা মহাভারতের কথা নয়। গ্রীক পুরাণেও রয়েছে মাঝ আকাশে লডা়ইয়ের কথা। গ্রিক পুরাণে টাইটানদের সঙ্গে অলিম্পিয়ান দেবতাদের টাইটানোমিচ যুদ্ধও তো আকাশেই হয়েছিল। এতো গেল রামায়ণ বা মহাভারতের কথা। বিখ্যাত কমিক সিরিজেও কিন্তু আকাশে লডা়ইয়ের একাধিক উদাহরণ পাওয়া যায়।
যে খবরের সূত্রে এই গৌড়চন্দ্রিকা, তা হল ঢাকার সঙ্গে আকাশপথে করাচির সরাসরি যোগাযোগ। ভারতের আকাশসীমা ব্যবহারের কোনও প্রয়োজনই হবে ন। এই বিমান পরিষেবার ব্যাপারে ছাড়পত্র দিয়েছে শেহবাজ সরকার। বাংলাদেশের জাতীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এই রুটে বিমান চালানের অনুমতি দিয়েছে। আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত এই অনুমতির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্য দেখে নেওয়া হবে রুটের জনপ্রিয়তা। কবে থেকে ঢাকা থেকে করাচির উদ্দেশ্যে প্রথম বিমান উড়ে যাবে, দিনে কতগুলি বিমান চলবে, কখন চলবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেটি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ঢাকা-করাচি বিমান পরিষেবা শুরু করতে চায় বিমান বাংলাদেশ। তবে তারা পাকিস্তানের থেকে ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। সপ্তাহে তিনটি বিমান চলবে। শনিবার, সোমবার এবং বৃহস্পতিবার। ফিরতি ভাড়া হতে পারে, ৪৮হাজার টাকা থেকে ৫৫ হাজার টাকা।
ঢাকা-করাচির মধ্যে আগেও বিমান পরিষেবা চালু ছিল। পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে দুই দেশের সরকার পুনরায় এই পরিষেবা চালু করার উদ্যেগ নেয়। কিছুদিন আগে পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ হুসেন খান জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে শীঘ্রই সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হবে। অবশেষে পাকিস্তান সরকার দিল সবুজ সংকেত। এই বিমান পরিষেবার ফলে, দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে যোগাযোগ আগের থেকে আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, সবুজ সংকেত দিয়েছে আসলে চিন। এতোদিন পর্যন্ত ঢাকা-করাচি-ঢাকা বা করাচি-ঢাকা-করাচি বিমান চলাচলের জন্য ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার করতে হত। তার জন্য চাইতে হতো অনুমতি। কিন্তু নতুন রুটে কোনও দেশকেই আর ভারতের আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। চিনের তিব্বত এবং ইউনান প্রদেশের ওপর দিয়ে উড়ে এসে ঢাকায় অবতরণ করে পাকিস্তানের বিমান।












Discussion about this post